...|...|...

বিশ্ব

ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় সৌদির ৩৭ বিমান হামলা

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৪:০৬
Shares
ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় সৌদির ৩৭ বিমান হামলা

ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনের তায়েজ ও হাজ্জাহ প্রদেশের বিভিন্ন বেসামরিক এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৩৭টি বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরবের এফ-১৫ যুদ্ধবিমান। 

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে। খবর মেহের নিউজ এজেন্সির।

ইয়াহিয়া সারি জানান, খামিস মুশাইত বিমানঘাঁটি থেকে উড়ে আসা সৌদি যুদ্ধবিমানগুলো গত ২৪ ঘণ্টায় এই দুই প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ৩৭ বার বোমা বর্ষণ করেছে। মুখপাত্রের মতে, এই হামলার ফলে ইয়েমেনি বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে, আনসারুল্লাহ আন্দোলনের নেতা সাইয়্যেদ আবদুল-মালিক আল-হুথি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উসকানিতে সৌদি আরব ইয়েমেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসন ও অবরোধ অব্যাহত রেখেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ইয়েমেনের জনগণ তাদের দেশের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী এই অভিযানের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে এখনও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আল-হুথি বলেন, আমাদের প্রিয় জাতিকে পৈশাচিক সৌদি আগ্রাসনের মোকাবিলায় মহান আল্লাহ বড় ধরনের বিজয় দান করেছেন।

তিনি বলেন, অর্জিত এই বিজয়গুলো আল্লাহর সাহায্যেই এবং আমাদের জনগণের ন্যায়সঙ্গত দাবির কাঠামোর মধ্যেই এসেছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রিয় জনগণ শত্রুর আগ্রাসন এবং তাদের দেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়া অন্যায় অবরোধের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে; আমরা এই যুদ্ধ ও অবরোধের দ্বাদশ বছরে পদার্পণ করেছি এবং সৌদি শত্রু আমেরিকান তত্ত্বাবধান ও জায়নবাদী উসকানিতে এটি চালিয়ে যাচ্ছে।

আল-হুথি বলেন, তথাকথিত উত্তেজনা হ্রাসের সময়কালেও সৌদি আরব ইয়েমেনকে পতন ও হতাশার দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে গেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে ইয়েমেন কখনও যুদ্ধ শুরু করেনি এবং তারা সবসময় ‘আত্মরক্ষার’ অবস্থানে রয়েছে। তিনি জানান, সাম্প্রতিক এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল সানা বিমানবন্দরে সৌদি বিমান হামলার মধ্য দিয়ে, যার কোনো বৈধ যৌক্তিকতা ছিল না।

আল-হুথি অভিযোগ করেন যে, ১২ বছরের এই সংঘাতজুড়ে সৌদি আরব বেসামরিক মানুষের জীবনের প্রতি সম্পূর্ণ উপেক্ষা প্রদর্শন করেছে। তিনি বলেন, সৌদি বাহিনী বাজার, বাড়িঘর, হাসপাতাল ও স্কুল লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে এবং হাজার হাজার ইয়েমেনি নারী ও শিশুকে হত্যা করেছে। তিনি আরও বলেন, ইয়েমেনের জনগণকে দুর্বল করা, পরাধীন করা এবং তাদের দমন করাকে সৌদি নেতৃত্ব নিজেদের ক্ষমতা বজায় রাখা ও উচ্চাভিলাষ পূরণের জন্য অপরিহার্য বলে মনে করে, যার মধ্যে রয়েছে তাদের স্বাধীনতা সীমিত করা, নিরাপত্তা ব্যাহত করা এবং তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা।