সুদান ও দক্ষিণ সুদানের মধ্যকার একটি বিতর্কিত সীমান্ত অঞ্চলে গোত্রভিত্তিক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত ২৬ জন নিহত এবং আরও ৮২ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করেছে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন নিরাপত্তা বাহিনী।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মৃত্যুর এই সংখ্যা নিশ্চিত করে জাতিসংঘ জানিয়েছে, তারা আবিয়ে শহর ও এর আশেপাশের এলাকায় তাদের নিরাপত্তা উপস্থিতি আরও জোরদার করেছে।
উল্লেখ্য, আবিয়ে অঞ্চলে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে থাকে। ২০১১ সালে সুদান থেকে দক্ষিণ সুদান স্বাধীনতা লাভ করে একটি পৃথক রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পর থেকেই এই অঞ্চলটির রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মর্যাদা অমীমাংসিত রয়েছে।
আল জাজিরার বরাত দিয়ে জাতিসংঘের আবিয়ে বিষয়ক অন্তর্বর্তীকালীন নিরাপত্তা বাহিনীর দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গত সোমবার এক গক ডিনকা সম্প্রদায়ের মানুষ এবং মঙ্গলবার এক মিসিরিয়া সম্প্রদায়ের মানুষের পৃথক হত্যার ঘটনার জেরে আমিয়েত কমন মার্কেটে এই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। উনসিফা জানায়, প্রাথমিক এই হত্যাকাণ্ডগুলো ওই বাজারের আশেপাশের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছিল।
গক ডিনকা এবং মিসিরিয়া পশুপালক সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে এর আগেও এ ধরনের লড়াই হয়েছে, যা সাধারণত তাদের গবাদিপশুর জন্য চারণভূমি এবং পানির উৎসের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে হয়ে থাকে। সুদানের আরব পশুপালক মিসিরিয়ারা শুষ্ক মৌসুমে চারণভূমির সন্ধানে দক্ষিণ দিকে আবিয়ে অঞ্চলে চলে আসে, যার ফলে এই অঞ্চলের স্থায়ী বাসিন্দা গক ডিনকাদের সাথে তাদের প্রায়ই সংঘাত বেঁধে যায়।
উনসিফার লেফটেন্যান্ট জেনারেল গণেশ কুমার শ্রেষ্ঠা বলেছেন, আমরা উভয় সম্প্রদায়ের নেতাদের সাথে সক্রিয়ভাবে যোগাযোগ রাখছি। তারা আলোচনার মাধ্যমে এই শত্রুতার একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো প্রাণহানি রোধ করা। আমরা সব সম্প্রদায়ের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানাই যেন তারা সংলাপের পথ বেছে নেন এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এগিয়ে নেন।
বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে উনসিফা জানায়, মাঠপর্যায়ে আমরা বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং প্রতিশোধমূলক হামলা রোধে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য ৩,০০০ পুলিশ ও সেনাসদস্য নিয়ে গঠিত এই মিশনটি কাজ করে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, আবিয়ে হলো একটি তেলসমৃদ্ধ অঞ্চল, যা সুদান ও দক্ষিণ সুদান যৌথভাবে পরিচালনা করে এবং উভয় দেশই এই ভূখণ্ডের ওপর নিজেদের দাবি বজায় রেখেছে। এদিকে ২০১৮ সালে একটি পাঁচ বছর দীর্ঘ সংঘাতের অবসান ঘটানো শান্তি চুক্তির পর থেকে দক্ষিণ সুদান মূলত শান্ত রয়েছে। দেশটি আগামী ডিসেম্বরে স্বাধীনতার পর তাদের প্রথম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে যাচ্ছে।


