ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত আটজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই দফায় হামলায় আহত হয়েছেন আরও ২০ জনের বেশি মানুষ। নিহতদের মধ্যে একটি বেসামরিক গাড়ির পাঁচ যাত্রী এবং কোরআনি শিক্ষা নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করতে যাওয়া এক সাংবাদিকও রয়েছেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিনভর গাজার বিভিন্ন স্থানে এই হামলাগুলো চালানো হয়।
আল জাজিরার বরাতে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম গাজা সিটির তেল আল-হাওয়া এলাকার কাউন্সিল অব মিনিস্টার্স মোড়ের কাছে একটি যাত্রীবাহী গাড়িকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বিমান হামলা চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হন। রেড ক্রিসেন্টের কর্মীরা আল-শিফা হাসপাতালে পাঁচটি লাশ এবং আল-কুডস হাসপাতালে ১৩ জন আহত ব্যক্তিকে স্থানান্তরিত করেছেন।
গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসসাল জানান, গাড়িটি গাজা সিটি এবং মধ্য ও দক্ষিণ গাজার মধ্যকার বেসামরিক লোকজনকে বহন করছিল। এই হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
এর আগে, বুধবার গাজা সিটির আল-ওয়াহদা সড়কে একটি বাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইমান আবদুল আল নামের এক নারী নিহত হন এবং তার স্বামী গুরুতর আহত হন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে, তাদের সৈন্যদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করা এক হামাস সদস্যকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে তারা ওই অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেনি।
সাংবাদিক ও ইমাম মোহাম্মদ আল-নাজ্জার নিহত
দক্ষিণ গাজায় খান ইউনিসের উত্তর-পশ্চিমে আল-মাওয়াসি আল-কারারা এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন ৩৮ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ও ইমাম মোহাম্মদ আবদুল আজিজ আল-নাজ্জার।
গাজার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ‘কোরআন রেডিও’-র ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোর প্রযোজক ও উপস্থাপক আল-নাজ্জার কোরআনের হিফজ বা মুখস্থকরণ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন তৈরির সময় এই হামলার শিকার হন। তিনি খান ইউনিসের পূর্বে খুজাআ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং সেখানে ‘ইবাদ আল-রহমান’ মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। তার লাশ নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই হামলায় আহত অপর এক ব্যক্তির অবস্থা মাঝারি বলে জানা গেছে।
পরে বুধবার খান ইউনিসের উত্তরে সালাহ আল-দিন সড়কের আল-মাতালিন মোড়ের কাছে আরেকটি ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় ৩৩ বছর বয়সী বিলাল আল-সুমাইরি নিহত হন। ফিলিস্তিনি প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলায় এক শিশুসহ অন্তত আরও দুজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।
গত বছরের অক্টোবরে কার্যকর হওয়া মার্কিন মধ্যস্থতার একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও এসব হামলা অব্যাহত রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ওই যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় গাজায় অন্তত ১,৪০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, ইসরায়েল গাজায় সামরিক আক্রমণ শুরু করার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৭৪,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি আহত হয়েছেন লাখ লাখ মানুষ এবং জনসংখ্যার সিংহভাগই বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।


