...|...|...

বিশ্ব

ইসরায়েলকে বিলুপ্ত করে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ডাক যুক্তরাজ্যের গ্রিন পার্টির

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১১:২০
Shares
ইসরায়েলকে বিলুপ্ত করে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ডাক যুক্তরাজ্যের গ্রিন পার্টির

ছবি: সংগৃহীত

জায়নবাদকে ‘বর্ণবাদ’ আখ্যা দিয়ে দলীয় প্রস্তাব পাস করেছে যুক্তরাজ্যের গ্রিন পার্টি। বামপন্থি ও পরিবেশবাদী হিসেবে পরিচিত দলটির সম্মেলনে গৃহীত এই প্রস্তাবের পর ইসরায়েল সরকার দলটির প্রধান জ্যাক পোলানস্কিকে দেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) প্রকাশিত বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রোববার ইংল্যান্ডের ব্রাইটনে গ্রিন পার্টির সম্মেলনে প্রস্তাবটি ভোটে দেওয়া হয়। এতে পক্ষে ভোট পড়ে ১ হাজার ২২টি, বিপক্ষে ৮১৩টি। তবে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দলটির ৫ সদস্যের মধ্যে ৪ জন প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন।

প্রস্তাবে জায়নবাদকে ‘জাতিগত ইহুদি রাষ্ট্রের’ প্রতি সমর্থন হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এতে দাবি করা হয়েছে, জায়নবাদের মাধ্যমে ফিলিস্তিনকে ধ্বংস করা হয়েছে। প্রস্তাবে পুরো ঐতিহাসিক ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে একটি গণতান্ত্রিক ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

প্রস্তাবের সমর্থক ও দলের সদস্য লুবনা স্পেইটান বলেন, এর মাধ্যমে ‘নিপীড়নের বর্ণবাদী ব্যবস্থার’ বিরোধিতা করা যাবে। তার ভাষ্য, সব ধরনের বর্ণবাদ ও বিভেদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাঁড়াতে হবে।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রস্তাবটিকে ‘সুস্পষ্ট ইহুদিবিদ্বেষ’ বলে আখ্যা দিয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মন্ত্রণালয় দলনেতা পোলানস্কিকে ইসরায়েলে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছে। উল্লেখ্য, ইহুদি ধর্মাবলম্বী পোলানস্কি ৪ অক্টোবরের দলীয় ভোটে অংশ নেননি। তিনি তখন অন্য একটি শহরে নিজের উপনির্বাচনের প্রচারে ব্যস্ত ছিলেন।

কয়েকটি ইহুদি সংগঠনও প্রস্তাবের নিন্দা জানিয়ে একে ‘ইহুদি সম্প্রদায়ের ওপর আঘাত’ বলে অভিহিত করেছে। ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি মনে করে, এই প্রস্তাব ‘দুই রাষ্ট্র’ সমাধানের পরিপন্থী।

বিবিসি জানিয়েছে, প্রস্তাবটি নিয়ে গ্রিন পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে মতবিরোধ আছে। ভোটের দিন ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান জানায়, জায়নবাদকে ‘বর্ণবাদ’ বিবেচনার প্রশ্নে দলের ইহুদি সদস্যরাও দ্বিধাবিভক্ত।

ভোটের আগে ২ অক্টোবর পোলানস্কি বলেছিলেন, জায়নবাদের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করা হয়ে থাকলে তা অবশ্যই বর্ণবাদ। একজন ইহুদি ও একটি ব্রিটিশ রাজনৈতিক দলের প্রধান হিসেবেই তিনি এ কথা বলেন বলে জানান। দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা বলেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের কর্মকাণ্ড জনসমক্ষে তুলে ধরার কাজ তারা চালিয়ে যাবেন। তাদের মতে, ফিলিস্তিনিদের পাশাপাশি ইহুদিদের অধিকারকে সমর্থন করার মধ্যে কোনো বিরোধ নেই।

গ্রিন পার্টির উপনেতা মতিন আলি ভোটের আগের দিন স্কাই নিউজকে বলেন, গাজায় ইসরায়েলি হামলায় বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনির মৃত্যুর প্রেক্ষাপটেই জায়নবাদ নিয়ে এমন প্রস্তাব উঠেছে। তার মতে, প্রস্তাবে জায়নবাদের সংজ্ঞা স্পষ্ট করা হয়েছে। তিনি এর সঙ্গে জাতিগত নির্মূল ও গণহত্যার সম্পর্ক টেনেছেন। ব্রিটিশ সরকারের অবস্থান, ইসরায়েল গণহত্যা চালাচ্ছে কি না, তা আদালত ঠিক করবে।

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রিন পার্টি ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা, তাদের নিজ ভূখণ্ডে ফেরার অধিকার, ইসরায়েল বর্জন, সেখান থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা এবং অস্ত্র সরবরাহে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার পক্ষে কাজ করবে।

জায়নবাদ হলো ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও সমর্থনের লক্ষ্যে গড়ে ওঠা ইহুদি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন। ব্রিটানিকার তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রীয় সাংবাদিক থিওডর হার্জেলকে এটিকে রাজনৈতিক আন্দোলনের রূপ দেওয়ার কৃতিত্ব দেওয়া হয়। জায়নবাদী হওয়ার জন্য ইহুদি হওয়া জরুরি নয়, আবার সব ইহুদিও জায়নবাদী নন।

লন্ডনভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর জুইশ পলিসি রিসার্চের তথ্যমতে, ব্রিটিশ ইহুদিদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ নিজেদের জায়নবাদী মনে করেন। আরেক ইহুদি সংগঠন ক্যাম্পেইন অ্যাগেইনস্ট অ্যান্টিসেমিটিজমের জরিপ অনুযায়ী, ব্রিটেনের ৬ শতাংশ ইহুদি নিজেদের জায়নবাদী হিসেবে পরিচয় দেন না এবং ৮৯ শতাংশ মনে করেন, জায়নবাদের বিরুদ্ধে কথা বলা ইহুদিবিদ্বেষের শামিল।

১৯১৭ সালে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার জেমস বেলফোর ফিলিস্তিনে ইহুদিদের জন্য ‘জাতীয় আবাসভূমি’ গড়ার পক্ষে যে ঘোষণা দেন, তা ‘বেলফোর ঘোষণা’ নামে পরিচিত। অনেক জায়নবাদী এই ঘোষণাকে ইসরায়েল রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে দেখেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ওসমানীয় নিয়ন্ত্রণে থাকা ফিলিস্তিন অঞ্চল ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণে আসে। এই পটভূমিতে ইতিহাসবিদ ও বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন, স্থানীয় অধিবাসী ও প্রতিবেশী আরব রাষ্ট্রগুলোর বিরোধিতা সত্ত্বেও ব্রিটেনের ভূমিকা ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করেছিল।

মিডল ইস্ট মনিটরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মতিন আলি ২০২৬ সালকে দলটির জন্য ‘চমৎকার বছর’ বলেছেন। তার হিসাবে, গত মে মাসে দলের ৪০০ কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন, ফলে মোট কাউন্সিলর এখন ১ হাজার ৩০০। পার্লামেন্টে দলটির সদস্য ৫ জন, আর সদস্য সংখ্যা চার গুণ বেড়েছে।