ইরানের সাথে চলমান সংঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার নীতি ও ভূরাজনৈতিক কৌশল পুনর্গঠনের লক্ষ্যে একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। যুদ্ধোত্তর মধ্যপ্রাচ্যের জন্য এই বৃহত্তর কৌশলের মূল লক্ষ্য হবে ইরানকে প্রতিহত করতে একটি আঞ্চলিক জোট গড়ে তোলা এবং ইসরায়েলকে তার প্রতিবেশীদের সাথে গভীর সম্পর্কের দিকে ধাবিত করা।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিভিন্ন সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টারা মিলে বর্তমানে এই কৌশলগত পরিকল্পনাটি তৈরি করছেন। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠদের মতে, ইরান যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের জন্য তিনি আরও ‘বড় কিছু’ করার পরিকল্পনা করছেন এবং এ বিষয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন মহলে আলোচনাও করেছেন।
পরিকল্পনার মূল ৩টি দিক খসড়া পর্যায়ে থাকা এই কৌশলটির মূল ভিত্তি তিনটি বিষয়ের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে
১. আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও জোট গঠন
প্রথম কৌশলটি হলো মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন মিত্রদের ইরানবিরোধিতায় আরও কাছাকাছি নিয়ে আসা, যেখানে ওয়াশিংটন নিজে নিরাপত্তা জামিনদার বা নিরাপত্তা রক্ষক হিসেবে ভূমিকা পালন করতে পারে।
২. সংঘাত প্রশমন
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে শুরু হওয়া বিভিন্ন আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সংঘাতের অবসান ঘটানোর উপায় খুঁজছে প্রশাসন। এর মধ্যে রয়েছে ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়ন, ইসরায়েল ও সিরিয়ার মধ্যে একটি নিরাপত্তা চুক্তি নিয়ে আলোচনা এবং বর্তমান ইসরায়েল-লেবানন চুক্তিটি পুরোপুরি কার্যকর করা।
৩. আব্রাহাম অ্যাকর্ডস বা আব্রাহাম চুক্তি সম্প্রসারণ
তৃতীয় বড় লক্ষ্য হলো ঐতিহাসিক আব্রাহাম চুক্তি প্রসারিত করা এবং ইসরায়েল ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি স্বাভাবিকীকরণ বা সম্পর্ক চুক্তি নিশ্চিত করা। সৌদি-ইসরায়েল চুক্তি ট্রাম্পের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য বয়ে আনতে পারে এবং ইরান যুদ্ধের পর এটি হতে পারে তার প্রশাসনের মধ্যপ্রাচ্য নীতির কেন্দ্রবিন্দু।
ইসরায়েলি নির্বাচন পরিকল্পনাকে জটিল করে তুলতে পারে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবং এর ঠিক পরপরই নভেম্বরে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাম্পের দল আশা করছে যে, নির্বাচনের মাধ্যমে ইসরায়েলে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তারা ওয়াশিংটনের এই নতুন কৌশল বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত থাকবে। তবে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি থিতিয়ে যাওয়ার জন্য বাইডেন বা ট্রাম্প প্রশাসন খুব একটা অপেক্ষা করতে নারাজ। মার্কিন কিছু কর্মকর্তার মতে, ইসরায়েলের নির্বাচনী ফলাফল যদি কোনো রাজনৈতিক অচলাবস্থাও তৈরি করে, তবুও ট্রাম্প এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এগিয়ে যাবেন।
এখনও চূড়ান্ত রূপ নেয়নি পরিকল্পনা গত কয়েক সপ্তাহে জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের সাথে দুটি বৈঠকে এই উদীয়মান কৌশল নিয়ে আলোচনা করেছেন ট্রাম্প, যেখানে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানিয়েছে, কৌশলটি চূড়ান্ত হতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
ওই সূত্রটি আরও জানায়, তারা এটি নিয়ে কাজ করছেন, তবে এটি এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো অঞ্চলের বিভিন্ন বিষয়কে একসাথে গেঁথে যুদ্ধোত্তর একটি আঞ্চলিক জোট তৈরি করা। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সব মার্কিন মিত্র এই পরিকল্পনায় শেষ পর্যন্ত একমত হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।


