...|...|...

জাতীয়

আয় বাড়াতে মেট্রোরেলে নানা বাণিজ্যিক উদ্যোগ

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৩:৫১ | আপডেট: ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:০২
Shares
আয় বাড়াতে মেট্রোরেলে নানা বাণিজ্যিক উদ্যোগ

ছবি: সংগৃহীত

মেট্রোরেলের সেবার পরিধি বাড়িয়ে নিজস্ব রাজস্ব বাড়ানোর নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত স্টেশনগুলোতে ফুড ভেন্ডিং মেশিন ও রিটেইল শপ স্থাপনের পাশাপাশি ট্রেনের ভেতর-বাইরে বিজ্ঞাপনের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তবে ভাড়ার হার, প্রতি বছর ভাড়া বৃদ্ধির শর্ত, নির্দিষ্ট দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন বাদ পড়া, যাত্রী চলাচল ও নিরাপত্তা এবং বিজ্ঞাপন নীতির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। ডিএমটিসিএলের একাধিক দরপত্র বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে।

ফুড ভেন্ডিং মেশিন স্থাপন

মেট্রোরেল স্টেশনের কনকোর্স এলাকার নন-পেইড জোনে ফুড ভেন্ডিং মেশিন বসাতে দরপত্র আহ্বান করেছে ডিএমটিসিএল। তবে ১৬টি স্টেশনের ঠিক কোন স্থানে এবং সর্বোচ্চ কতটি মেশিন বসানো হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে ডিএমটিসিএলের একাধিক বোর্ড সভায় আপত্তিও উঠেছে।

দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী, আগের বছরের ভাড়ার ওপর প্রতি বছর ৫ শতাংশ হারে ভাড়া বাড়বে। ডিএমটিসিএলের এক বোর্ড সদস্য বলেন, সাধারণ ব্যবসায়িক মন্দা ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে প্রতি বছর ৫ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির শর্ত উদ্যোক্তাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করবে। এছাড়া ভেন্ডিং মেশিনের খাবারের মান ও দাম, বিদ্যুৎ বিল এবং নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব কার—তা নিয়ে স্পষ্ট নীতিমালার দাবি উঠেছে।

১৪ স্টেশনে ৩১ রিটেইল শপ

আগারগাঁও ও কারওয়ান বাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল দুটি স্টেশন বাদ দিয়ে বাকি ১৪টি স্টেশনে ৩১টি রিটেইল শপ ভাড়া দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এই দুটি স্টেশন বাদ পড়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। পাশাপাশি দোকানের আয়তন, ধরন, ভিত্তিমূল্য এবং শর্তাবলি নিয়ে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ থাকলেও দরপত্রে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠান ও বরাদ্দের সময়সীমা নিয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপনের পরিধি বৃদ্ধি

রাজস্ব বাড়াতে ২৪ সেট ট্রেনের প্রতিটিতে ৬০টি আলোকিত মনিটর ও প্রায় ২৮০টি আলোহীন বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি ট্রেনের ভেতরে ১০৫ দশমিক ৪৩ বর্গমিটার স্থানে বিজ্ঞাপন দেওয়ার পরিকল্পনায় যাত্রী চলাচলে বিঘ্ন ঘটবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

দরপত্রে অংশ নিতে প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক টার্নওভার কমপক্ষে ১ কোটি টাকা, বিজ্ঞাপনে দুই বছরের অভিজ্ঞতা এবং এক বছরের ভাড়া এককালীন অগ্রিম পরিশোধের শর্ত দেওয়া হয়েছে। তবে ইজারার মেয়াদ দুই বছর নির্ধারণ ও সর্বোচ্চ দরদাতা নির্বাচনের মূল্যায়ন পদ্ধতি এখনও অস্পষ্ট।

বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, বাণিজ্যিক সম্প্রসারণ রাজস্ব বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে। তবে এর সুফল পেতে হলে ভাড়া, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা এবং যাত্রী ব্যবস্থাপনার মতো অমীমাংসিত প্রশ্নগুলোর দ্রুত সমাধান জরুরি।