ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে একটি সুশৃঙ্খল ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার আওতায় আনতে নম্বর প্লেট এবং কিউআর কোড চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
জাতীয় সংসদে উত্থাপিত এক নোটিশের জবাবে তিনি জানান, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল ও ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণে একটি নির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। নীতিমালাটি অনুমোদনের পর বৈধ ও অনুমোদিত যানবাহনগুলোকে নম্বর প্লেট ও কিউআর কোডের মাধ্যমে শনাক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুধু যানবাহন নয়, চালকদেরও একটি নিবন্ধিত ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে চালকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি লাইসেন্সের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নীতিমালা কার্যকর হওয়ার পর অটোরিকশার নিবন্ধন, নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ, চালকদের নিয়ন্ত্রণ এবং যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থাপনায় ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। আইন প্রয়োগের বিষয়টিও নতুন ব্যবস্থার অংশ থাকবে।
সংসদে দেওয়া তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে আনুমানিক ৫০ থেকে ৮০ লাখ বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার চলাচল করছে। এসব যানবাহনের ব্যাটারি চার্জে দেশের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ৫ শতাংশ ব্যবহৃত হয় বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। বাস্তব পরিস্থিতিতে এই ব্যবহার আরও বেশি হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, বিপুলসংখ্যক বৈদ্যুতিক যানবাহনের তুলনায় দেশে অনুমোদিত চার্জিং পয়েন্টের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার ৩০০টি। অন্যদিকে শুধু রাজধানীতেই প্রায় ৪৮ হাজারের বেশি অননুমোদিত চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে বলে সরকারের ধারণা।
এর ফলে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড এবং স্থানীয় বিতরণ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। পাশাপাশি অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।


