দুর্গাপূজাকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের কাছে বাংলাদেশের ইলিশের চাহিদা বরাবরই আলোচনায় থাকে। পূজার আগে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ রফতানির অনুমতি মিলবে কি না, তা নিয়ে প্রতিবছরই পশ্চিমবঙ্গের বাজারে তৈরি হয় বাড়তি আগ্রহ। তবে এবার দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। বাংলাদেশ থেকে ইলিশ যাওয়ার বদলে ভারত থেকেই ইলিশ আসছে বাংলাদেশের বাজারে।
চলতি অর্থবছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে এসেছে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশ। ১৯টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব ইলিশ দেশে এসেছে। এর মধ্যে শুধু আগস্ট মাসেই এসেছে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কেজি। আর জুলাইয়ে আমদানি হয়েছিল ২৯ হাজার ৪৪০ কেজি ইলিশ।
বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি করা এসব ইলিশের মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।
বেনাপোল বন্দরের মৎস্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের পরিদর্শক আসাদুল আলম বলেন, ভারত থেকে ইলিশবাহী গাড়ি বাংলাদেশে প্রবেশের পর মাছ সরেজমিনে পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় মান ঠিক থাকলে পরে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
শুধু ভারত নয়, মিয়ানমার থেকেও ইলিশ আসছে বাংলাদেশে। এসব বিদেশি ইলিশ যশোরের বড়বাজারে অনেক সময় পদ্মার ইলিশের পরিচয়ে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আমদানি পর্যায়ে প্রতি কেজি ইলিশের ব্যয় প্রায় ৫১৪ টাকা হলেও বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত দামে।
অবশ্য দেশি ইলিশের দাম তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি হওয়ায় ক্রেতাদের একটি অংশ কম দামের ভারতীয় ইলিশের দিকে ঝুঁকছেন।
এক ক্রেতা বলেন, ভারতীয় ইলিশ তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেখতে দেশি ইলিশের মতোই হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে সহজে পার্থক্য বোঝা সম্ভব নয়।
দেশি ইলিশের নামে আমদানি করা ইলিশ বিক্রির অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন যশোরের জেলা প্রশাসক আশেক হাসান। তিনি বলেন, ক্রেতারা যাতে প্রতারিত না হন, সে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। এ জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি মৎস্য অফিস ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের নিয়ে বাজারে অভিযান চালানো হবে।
এদিকে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ আমদানির জন্য ভারতের মাছ আমদানিকারক সমিতি আবেদন করেছে। একই সময়ে বাংলাদেশের ১৮টি প্রতিষ্ঠান পশ্চিমবঙ্গে ইলিশ রফতানির অনুমতি চেয়েছে। ব্যবসায়ীদের এই দুইমুখী উদ্যোগকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নও তৈরি হয়েছে।
টিআইবির যশোর শাখার সভাপতি পাভেল চৌধুরি বলেন, দেশের বাজারে নিম্নমানের বা পরিচয় গোপন করে কোনো পণ্য বা মাছ যাতে প্রবেশ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।
আমদানি করা ইলিশের সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করে বিক্রি, দেশি ইলিশের নামে বিদেশি মাছ বাজারজাত বন্ধ এবং বাজার মনিটরিং আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন সচেতন ক্রেতারা।



