...|...|...

সারাদেশ

ফের সরগম চাঁদপুরের ইলিশ আড়ত

চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৮:৩১ | আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১১:১১
Shares
ফের সরগম চাঁদপুরের ইলিশ আড়ত

ইলিশ মাছ। ছবি: সংগৃহীত

প্রজনন মৌসুমের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে আবারও সরগরম হয়ে উঠেছে চাঁদপুরের ইলিশের বাজার। বৃহস্পতিবার (২৯) অক্টোবর মধ্যরাত থেকেই চাঁদপুরের পদ্মা -মেঘনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের নদ নদীগুলোতে আবারও পুরোদমে ইলিশ শিকারে নেমেছে জেলেরা। 

সকাল থেকেই মাছঘাটে একের পর এক ইলিশসহ নৌকা ও ট্রলার নিয়ে জেলেরা ঘাটে ভিড়তে থাকে। এতে সরগরম হয়ে উঠেছে নদী তীরবর্তী আড়তগুলো। তিন সপ্তাহ অবসর সময় কাটিয়ে মৎস্য ব্যবসায়ী, শ্রমিকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে নিষেধাজ্ঞা সময়ের আগের মতোই ইলিশের দাম কমেনি বলে জানান ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই। 

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ও সন্ধ্যায় চাঁদপুরের বেশ কয়েকটি মৎস্য আড়তে খোঁজ নিয়ে এমনই তথ্য জানা গেছে। 

এদিকে নিষেধাজ্ঞা শেষে প্রথম দিনেই চাঁদপুরের সবচেয়ে বড় মৎস্য আড়ত বড় স্টেশন মাছঘাটে ইলিশের আমদানি ভালো হওয়ায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাকডাকে চঞ্চল্য ফিরেছে। এখানের মৎস্য ব্যবসায়ী মো. সেলিম বলেন, ইলিশের আমদানি মোটামুটি ভালো হলেও, চাহিদা বেশি থাকায় দাম কমেনি। 

সামনে আমদানি আরো বাড়লে দাম কিছুটা কমবে বলে আশা করা যাচ্ছে। আজকের বাজারে ১ কেজির ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা। এছাড়া ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা এবং ৫০০ থপকে ৬০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত।   

 অন্যদিকে সদরের হরিণা মাছঘাটে জেলেদের নৌকা এসে তীরে ভিড়ছে। জেলেরা ঝুড়িতে প্লাস্টিকের করে নিয়ে আসছে ইলিশসহ অন্যান্য জাতের মাছ।

এই মাছঘাটে রয়েছে প্রায় ছোট-বড় ২০টি ইলিশের আড়ত। জেলেরা এসব আড়তে এনে মাছের স্তূপ করছেন এবং কিছু সময়ের মধ্যে হাঁকডাক দিয়ে বিক্রি করছে। এই ঘাটে সংরক্ষণ করে ইলিশ বিক্রি করা হয় খুবই কম। 

বহরিয়া ও লক্ষ্মীপুর এলাকার জেলে আবুল কাশেম ও দাদন মিয়া জানান, তারা ৪ জন মিলে মধ্যরাত থেকে নদীতে নেমেছেন। সকাল ১০ টায় তারা যা ইলিশ পেয়েছেন, সনগুলো বিক্রি করেন, ১২ হাজার ৬শ টাকা। পাওয়া ইলিশ বিক্রি করেছেন ১৫ হাজার টাকা। 

গোবিন্দা এলাকার জেলে সোহেল, আ. রহিম, মো. শাহজান বলেন, মাছ ধরা শুরু হওয়ার পর থেকে সকাল পর্যন্ত আমরা নদীতে জাল ফেলে তেমন ইলিশ পাইনি। আমরা ৬ জনে মিলে পাওয়া ইলিশ বিক্রি করি ১৫ হাজার ৫শ টাকা। জ্বালানি ও নৌকার খরচ বাদ দিয়ে আমাদের আর তেমন থাকে না। 

ঘাটের আড়তদার জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ইলিশের দাম কমবে না। কারণ চাহিদা বেশি। এক কেজি ওজনের ইলিশ ২৫শ’ থেকে ২৬শ’ টাকা, ৪০০ থেকে ৫০০গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতিকেজি ১৩শ’ থেকে ১৫শ’ টাকা, ছোট সাইজের অর্থাৎ ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের প্রতি হালি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫শ’ থেকে সাড়ে ৬শ’ টাকা কেজি। ইলিশের আমদানি ভালো থাকলে দাম কম-বেশি হতে পারে।

এই ঘাটের আড়তদার ইব্রাহীম মিয়া বলেন, নিষেধাজ্ঞার পরে বড় সাইজের ইলিশ বেশি আসছে। ছোট সাইজের ইলিশের সংখ্যা খুবই কম। সোহেল ও সিহাব নামে জনৈক ক্রেতা বলেন, ভেবেছিলাম নিষেধাজ্ঞার পর ইলিশের দাম কিছুটা কমবে। কিন্তু দাম আগের মতোই রয়েছে।

চাঁদপুর মৎস্য বনিক সমবায় সমিতির সভাপতি আবদুল বারী জমাদার মানিক জানান, আমদানির তুলনায় চাহিদা বেশি থাকায় ইলিশের দাম এখনো আগের মতোই রয়েছে। সামনে আমদানি আরো বেশি হলে দাম কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন এ মৎস্য ব্যবসায়ী।