...|...|...

সারাদেশ

মধ্যরাত থেকে ইলিশ শিকারে নামছেন চাঁদপুরের অর্ধলক্ষ জেলে

এম আই দিদার, চাঁদপুর
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৪৬
Shares
মধ্যরাত থেকে ইলিশ শিকারে নামছেন চাঁদপুরের অর্ধলক্ষ জেলে

ইলিশ শিকারে নামবেন চাঁদপুরের অর্ধলক্ষ জেলে।

মা ইলিশ রক্ষায় দেওয়া ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর)। দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় ইলিশ ধরতে নামবেন প্রায় অর্ধলক্ষ জেলে। ইতোমধ্যে জাল ও নৌকা মেরামতসহ সব প্রস্তুতি শেষ করেছেন তারা। নদীতে ফেরার অপেক্ষায় জেলেপাড়ায় এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে মা ইলিশ সংরক্ষণ কর্মসূচির আওতায় গত ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। দেশের অন্যান্য এলাকার মতো চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত পদ্মা-মেঘনার ৭০ কিলোমিটার অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। এ সময়ে ইলিশ আহরণ, মজুত, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়।

নিষেধাজ্ঞার সময়ে কর্মহীন হয়ে পড়া জেলার প্রায় সাড়ে ৪৫ হাজার নিবন্ধিত জেলেকে সরকারিভাবে খাদ্যসহায়তা দেওয়া হয়। তবে সহায়তা পেলেও সংসারের খরচ মেটাতে ঋণ করতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলেরা।

চাঁদপুর সদর উপজেলার আনন্দবাজার এলাকার মোস্তফা বেপারী, হরিনা এলাকার জেলে কালু মিয়া ও মো. মফিজ জানান, “সরকারি নিয়ম মেনে আমরা ২২ দিন নদীতে মাছ ধরা বন্ধ রাখি। এসময় সরকারিভাবে কিছু খাদ্য সহায়তা পেলেও আমাদের সংসার চালাতে কষ্ট হয়। তাই ঋন নিয়ে আমাদের চলতে হয়েছে। এখন অপেক্ষায় আছি, নদীতে মাছ ধরার। যদি নদীতে কাংখিত মাছ না পাই, তাহলে আমাদের ঋনের বোঝা মাথায় নিয়ে থাকতে হবে।”

চাঁদপুর সদর উপজেলার আনন্দবাজার, হরিনা, বহরিয়া ও লক্ষ্মীপুরসহ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জেলেদের নৌকা ও জাল মেরামতের কাজ শেষ। এখন নদীতে নামার অপেক্ষায় আছেন তারা।

জেলা মৎস্য বিভাগের মতে, জেলা টাস্কফোর্সের নিয়মিত অভিযানের ফলে বেশির ভাগ মা ইলিশ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। তাই এবার রেকর্ড পরিমাণ ইলিশ উৎপাদনের আশা করছে বিভাগটি।

তবে জেলেদের অভিযোগ, “আমরা সরকারি নিয়ম মেনে নদীতে মাছ ধরা বন্ধ রাখলেও বহিরাগত কিছু জেলে পদ্মার শরীয়তপু ও হিজলা অংশে অভিযানের চোখ ফাঁকি দিয়ে নদীতে মা ইলিশ নিধন করে।” তাদের দাবি, এবারও অন্যান্য বছরের মতোই ইলিশ উৎপাদন হবে।

চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, “নিষেধাজ্ঞার ২২ দিনে চাঁদপুরের ৭০ কিলোমিটার অভয়াশ্রম এলাকায় আমরা দিন ও রাতে অভিযান পরিচালনা করেছি। এতে অভিযান সফল হওয়ায় মা ইলিশ নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়তে পেরেছে। আগামী নভেম্বর থেকে ৩০ জুন  পর্যন্ত জাটকা সংরক্ষণ  এবং মার্চ - এপ্রিলে অভয়াশ্রমে  সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ রাখার কার্যক্রমও সফলভাবে পরিচালনা করা গেলে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে।”