...|...|...

সারাদেশ

দুর্ঘটনায় নিহত মাদ্রাসাছাত্রের বাবার আহাজারি

আমার ছেলেরে আর মুফতি বানানো হইলো না

সিলেট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৭ আগস্ট ২০২৬, রাত ১১:৩২ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২:৪৫
Shares
আমার ছেলেরে আর মুফতি বানানো হইলো না

নিহত মাদ্রাসাছাত্র আরমান হোসেন রাহিমের বাবার আহাজারি। ছবি: টাইমস টুডে

সিলেটের ওসমানীনগরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ১৯ বছর বয়সী মাদ্রাসাছাত্র আরমান হোসেন রাহিমের লাশ নিতে এসে বাবার বুকফাটা আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ওসমানীনগরের কাশিকাপন এলাকায় ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সাথে ঢাকা থেকে সিলেটগামী বেঙ্গল স্লিপার কোচের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোট ৯ জন নিহত হন, যাদের একজন ছিলেন আরমান হোসেন রাহিম।

জানা যায়, রাহিম সিলেটের শাহপরান জামেয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসা থেকে হিফজ সম্পন্ন করার পর ঢাকার ডেমরার নূরাইবাগ ইসলামিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন। শুক্রবার সকালে সেই মাদ্রাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে ইউনিক পরিবহনের বাসে ঢাকার পথে রওনা দেন তিনি। কিন্তু গন্তব্যে আর পৌঁছানো হয়নি, পথেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তরুণ এই মাদ্রাসাছাত্র।

দুপুরে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে ছেলের লাশ নিতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন রাহিমের বাবা রফিকুল ইসলাম। পেশায় রড মিস্ত্রি রফিকুল ফাঁড়িতে অবস্থানকালে মোবাইল ফোনে এক স্বজনের সাথে কথা বলতে গিয়ে বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

ছেলের মৃত্যুসংবাদ স্বজনদের জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, তার ছেলে আর নেই, দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছে। সকালে পরিপাটি হয়ে বাসা থেকে বের হওয়া ছেলের লাশ পাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ছেলেকে মুফতি বানানোর স্বপ্ন আর পূরণ হলো না তার। তার এই হৃদয়বিদারক আহাজারিতে উপস্থিত পুলিশ সদস্য, স্বজন ও স্থানীয়দের অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

এ সময় নিহতের বাবাকে সান্ত্বনা দেন ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশা। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় লাশ দাফনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত আরমান হোসেন রাহিমের পরিবারের হাতে নগদ ২০ হাজার টাকা তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশা।