আজ ৭ অক্টোবর, বিশ্ব তুলা দিবস। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০২১ সালের আগস্টে ৭ অক্টোবরকে বিশ্ব তুলা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
তুলা খাতের অর্থনৈতিক গুরুত্ব, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এর ভূমিকা এবং তুলা উৎপাদনের সাথে যুক্ত কৃষক ও শ্রমিকদের অবদান তুলে ধরাই দিবসটির অন্যতম উদ্দেশ্য। বাংলাদেশেও এ দিবস পালিত হচ্ছে প্রতিবছর।
বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ২০২৪ সালে বিশ্বে তুলার উৎপাদন ছিল আনুমানিক ২ কোটি ৬০ লাখ টন এবং ৯০ লাখ টনের বেশি তুলা আন্তর্জাতিক বাজারে বাণিজ্য হয়েছে। বিশ্বে তুলার সবচেয়ে বড় রফতানিকারকদের মধ্যে ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বড় তুলা আমদানিকারক দেশ।
দেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্পের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল তুলা। কিন্তু বিপুল চাহিদার বিপরীতে দেশে তুলার উৎপাদন এখনও সীমিত। ফলে বস্ত্রশিল্পের কাঁচামালের বড় অংশই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়। উৎপাদন বাড়ানো, কৃষকদের তুলা চাষে উৎসাহিত করা এবং উন্নত জাত ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে এ খাতে আমদানিনির্ভরতা কমানোর সুযোগ রয়েছে।
বিশ্বজুড়ে তুলা শুধু একটি কৃষিপণ্য নয়, কোটি মানুষের জীবিকা ও আয়ের উৎস। বাংলাদেশে তুলার চাহিদার মূল চালিকাশক্তি দেশের বিশাল বস্ত্র ও তৈরি পোশাকশিল্প। এ শিল্পের সম্প্রসারণের সাথে তুলার চাহিদাও বাড়ছে। দেশে তুলা উৎপাদন বাড়াতে পারলে একদিকে কৃষকের জন্য নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে, বস্ত্রশিল্পের কাঁচামাল সরবরাহে দেশীয় উৎসের অংশ বাড়বে।
এদিকে, বিশ্ব তুলা দিবস উপলক্ষে আজ রাজধানীর ফার্মগেটে তুলা ভবনে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন। সকাল ১০টায় কৃষি খামার সড়কের তুলা ভবনে এ অনুষ্ঠান হবে।
তুলা খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে তুলার উৎপাদন বাড়াতে হলে উচ্চফলনশীল ও জলবায়ু সহনশীল জাত সম্প্রসারণ, উন্নত চাষ পদ্ধতি, মানসম্মত বীজ সরবরাহ এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি তুলা থেকে সুতা ও কাপড় উৎপাদন পর্যন্ত পুরো মূল্যশৃঙ্খলে দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, বিশ্বব্যাপী তুলা খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন, কৃত্রিম তন্তুর সাথে প্রতিযোগিতা এবং ভোক্তার পছন্দের পরিবর্তন তুলার বাজারে প্রভাব ফেলছে।
এফএও বলছে, বিশ্বে তুলার চাহিদা গত কয়েক দশকে কমেছে, অন্যদিকে কম উৎপাদন ব্যয় ও বহুমুখী ব্যবহারের কারণে কৃত্রিম তন্তুর ব্যবহার বেড়েছে।
তবে তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্পে বাংলাদেশের অবস্থান এবং তুলার বড় অভ্যন্তরীণ চাহিদা বিবেচনায় এ খাতে উৎপাদন বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। কৃষির সাথে শিল্পের সংযোগ আরও শক্তিশালী করা গেলে তুলা চাষ শুধু কৃষকের আয় বাড়ানোর মাধ্যম নয়, দেশের বস্ত্রশিল্পের কাঁচামাল সরবরাহেও ভূমিকা রাখতে পারে।


