...|...|...

বিশ্ব

আইসিসির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৩২ | আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২:২৪
Shares
আইসিসির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের

ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) পুরো সংস্থার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শিগগিরই এ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হতে পারে।

ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করা আন্তর্জাতিক এই আদালতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ আরও বাড়বে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির কয়েকজন বিচারক ও কৌঁসুলির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও এবার পুরো প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে আইসিসির বিরোধিতা করে আসছে। মার্কিন কর্মকর্তারা চান, আদালত ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহার করুক এবং আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে পরিচালিত পুরোনো তদন্ত বন্ধ করুক।

গত জুলাইয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আইসিসিকে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে একটি প্রচারণা শুরুর ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি অন্য দেশগুলোকে আদালত থেকে সরে আসার আহ্বান জানান। গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে ও একজন জ্যেষ্ঠ কৌঁসুলির বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, আদালতের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নেওয়া হলেও ঠিক কখন তা ঘোষণা করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালীন চলতি সপ্তাহেই এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হতে পারে। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, তারা এ তথ্য স্বাধীনভাবে তাৎক্ষণিক যাচাই করতে পারেনি।

প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে ছয় থেকে সাত মাসের একটি সময়সীমার পর আইসিসির সঙ্গে অধিকাংশ আর্থিক লেনদেন নিষিদ্ধ হতে পারে। এতে আদালটির মার্কিন ডলারভিত্তিক আর্থিক লেনদেনসহ বৈশ্বিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ পুরো সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে মার্কিন নাগরিক ও কোম্পানিগুলো বিশেষ অনুমতি ছাড়া আইসিসিকে অর্থ, পণ্য বা সেবা দিতে পারবে না। এর প্রভাব আদালটির তথ্যপ্রযুক্তি ও বিমা সেবা কেনা, তদন্তকারী নিয়োগ এবং দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেনের ওপর পড়তে পারে বলে আইসিসির রেজিস্ট্রার ও প্রেসিডেন্ট সতর্ক করেছেন।

ট্রাম্পের আইসিসিবিরোধী অবস্থান তাঁর প্রথম মেয়াদ থেকেই রয়েছে। ২০২৪ সালে আইসিসি গাজা সংঘাতের ঘটনায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার পর আদালটির সঙ্গে ওয়াশিংটনের বিরোধ আরও তীব্র হয়।

২০০২ সালে যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করতে আইসিসি প্রতিষ্ঠিত হয়। কোনো সদস্য রাষ্ট্র নিজ দেশে এসব অপরাধের বিচার করতে অক্ষম বা অনিচ্ছুক হলে আদালত নির্দিষ্ট শর্তে এখতিয়ার প্রয়োগ করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য নয়।