...|...|...

খেলা

অভিষেক শর্মাকে বিয়ে করতে চান ট্রান্সজেন্ডার ক্রিকেটার আনায়া

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১:২৪
Shares
অভিষেক শর্মাকে বিয়ে করতে চান ট্রান্সজেন্ডার ক্রিকেটার আনায়া

ছবি: সংগৃহীত

সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার সঞ্জয় বাঙ্গারের কন্যা আনায়া বাঙ্গার নারী ক্রিকেটে পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু করতে চান। এ জন্য তিনি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) প্রতি অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট বোর্ডের অনুসরণ করা নীতিমালা বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, ট্রান্সজেন্ডার ক্রিকেটারদের নারী ক্রিকেটে খেলার সুযোগ দিতে একটি সুনির্দিষ্ট পথ তৈরি করা প্রয়োজন।

এর আগে কৃষ্ণাঙ্ক আত্রের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ভারতীয় ক্রিকেটার শুভমান গিল, অভিষেক শর্মা ও শ্রেয়াস আইয়ারকে নিয়ে ‘কিল, ম্যারি, হুকআপ’ খেলায় অংশ নেন তিনি।

ভিডিওতে আনায়াকে তিন ক্রিকেটারের মধ্যে কাকে হত্যা, কাকে বিয়ে এবং কার সাথে ঘনিষ্ঠ হতে চান, তা বেছে নিতে বলা হয়। উত্তরে তিনি বলেন, “শ্রেয়াস আইয়ারকে হত্যা করো, অভিষেক শর্মাকে বিয়ে করো এবং শুভমান গিলের সাথে সম্পর্কে জড়াও।”এই মন্তব্যের কারণে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসে।

চলতি মাসের শুরুতে হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনায়া বলেন, “অস্ট্রেলিয়া যা করেছে, বিসিসিআই যদি তা অনুসরণ করতে পারে, তবে সেটি দারুণ একটি বিষয় হবে।” লিঙ্গান্তর সংক্রান্ত অস্ত্রোপচারের পর অনলাইনে নানা ধরনের আক্রমণের মুখে পড়া নিয়েও কথা বলেন তিনি। আনায়ার ভাষায়, “আমার যা অভিজ্ঞতা হয়েছে, তাদের তা হয়নি।”

পেশাদার ক্রিকেটে ফেরার লক্ষ্যে আনায়া অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এর আগে তিনি মুম্বাইয়ের বয়সভিত্তিক পুরুষ দলের হয়ে ক্রিকেট খেলেছেন। ২০২২ সালে তার লিঙ্গান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং চলতি বছরের মার্চে লিঙ্গান্তর-সংক্রান্ত অস্ত্রোপচার করান তিনি।

এদিকে ট্রান্সজেন্ডার ক্রিকেটারদের নারী ক্রিকেটে অংশগ্রহণের বিষয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) নেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার অলরাউন্ডার মারিজান ক্যাপ এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। নারী ক্রিকেটের বিগ ব্যাশ লিগের (ডব্লিউবিবিএল) অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টকে ট্যাগ করে তিনি লেখেন, “পুরোপুরি হাস্যকর, এটি মোটেও অনুমোদিত হওয়া উচিত নয়!”

ক্যাপের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ না হয়ে আনায়া জানান, দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই ক্রিকেটে ফেরার পথ তৈরি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তিনি ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা আমি বুঝতে পারছি বলে মনে হয়। অন্যায্য সুবিধার বিষয়টি খণ্ডন করতে চাই ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট অফ স্পোর্ট একটি পরীক্ষা চালিয়েছিল। হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি নেওয়ার এক বছর পর, আমার শরীরের অ্যাথলেটিক সক্ষমতা নিয়ে তারা ১২ সপ্তাহব্যাপী একটি পরীক্ষা সম্পন্ন করে। সেই পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে যে, আমার শারীরিক পরিমাপগুলো একজন সিসজেন্ডার (জন্মগত নারী) নারী অ্যাথলেটের সীমার মধ্যেই রয়েছে।”

নারী ক্রিকেটে ফেরার ক্ষেত্রে নিজের পক্ষে বৈজ্ঞানিক তথ্যপ্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করেন আনায়া। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার অন্তর্ভুক্তি, ন্যায্যতা এবং নারী খেলাধুলার মর্যাদা রক্ষাসংক্রান্ত নীতিমালা তিনি মেনে চলছেন বলে জানান। নিজের শারীরিক পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে আনায়া বলেন, অস্ত্রোপচারের পর তার শরীরে আর টেস্টোস্টেরন তৈরি হচ্ছে না এবং বর্তমানে তার টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ০.৬ ন্যানোমোল।

এ বিষয়ে আনায়ার বক্তব্য, “সুতরাং, অন্যায্য সুবিধার বিষয়টি যদি ধরি, তবে আমার দাবির সপক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ রয়েছে। এছাড়া, ‘ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া’ অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ, ন্যায্যতা এবং নারী ক্রীড়ার মর্যাদা রক্ষার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। আমি সেই নির্দেশিকাগুলো মেনে চলছি। অস্ত্রোপচারের পর থেকে আমার শরীরে আর টেস্টোস্টেরন উৎপন্ন হয় না বর্তমানে আমার শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ০.৬ ন্যানোমোল। এর ফলে আমার হাড়ের ঘনত্ব কমে যাচ্ছে আমি হাড়ের ব্যথা অনুভব করতে পারি। আমার পেশির ভর ও শারীরিক সক্ষমতাও হ্রাস পাচ্ছে। আগে যেভাবে শরীরচর্চা করতে পারতাম, এখন আর তা পারছি না। তাই, যখনই কোনো নিয়ম বা নীতিমালা তৈরি করা হয়, তখন প্রতিটি ক্ষেত্র আলাদাভাবে বিবেচনা করা উচিত বলে আমি মনে করি কারণ সব ট্রান্স নারীর ক্ষেত্রে যে অন্যায্য সুবিধা থাকে তা কিন্তু নয়।”

আনায়ার মতে, সব ট্রান্সজেন্ডার নারীর শারীরিক সক্ষমতা এক রকম নয়। তাই নারী ক্রিকেটে অংশগ্রহণের নীতিমালা তৈরির ক্ষেত্রে সবার জন্য একই সিদ্ধান্ত না নিয়ে ব্যক্তিভেদে শারীরিক অবস্থা ও বৈজ্ঞানিক তথ্য বিবেচনা করা প্রয়োজন।