...|...|...

খেলা

কোহলির দাম্ভিকতা ও অহংকার নিয়ে মুখ খুললেন ডি ভিলিয়ার্স

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ২:১৩
Shares
কোহলির দাম্ভিকতা ও অহংকার নিয়ে মুখ খুললেন ডি ভিলিয়ার্স

ডি ভিলিয়ার্স ও বিরাট কোহলি। ছবি: সংগৃহীত

ক্রিকেট মাঠে আগ্রাসী মনোভাব ও আত্মবিশ্বাসের জন্য পরিচিত বিরাট কোহলি। তার এই আচরণ দেখে অনেকেই তাকে অহংকারী বা দাম্ভিক মনে করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক তারকা এবি ডি ভিলিয়ার্সও প্রথমবার কোহলিকে দেখে এমন ধারণা পেয়েছিলেন। তবে সময়ের সাথে কোহলির ব্যক্তিত্ব ও আচরণে পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করেন দীর্ঘদিন তার সাথে আইপিএলে খেলা এই ক্রিকেটার।

সম্প্রতি প্রখর গুপ্তর একটি পডকাস্টে কোহলির সাথে প্রথম পরিচয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন ডি ভিলিয়ার্স। সেখানে তাকে প্রশ্ন করা হয়, প্রথম দেখায় কোহলিকে সত্যিই অহংকারী ও দাম্ভিক মনে হয়েছিল কি না। জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক এই ক্রিকেটার বলেন, ‘হ্যাঁ। আমার মনে হয়, সে ও (কোহলি) এ ব্যাপারে একমত হবে।’

কোহলির আত্মবিশ্বাসই প্রথম দেখায় তার সম্পর্কে এমন ধারণা তৈরি করেছিল বলে জানান ডি ভিলিয়ার্স। তিনি বলেন, ‘ওর (কোহলি) মধ্যে আত্মবিশ্বাস ছিল প্রচুর। ও সব সময় এভাবেই ক্রিকেট খেলেছে। কখনো কখনো মানুষ সেটাকে ভুল বোঝে। আমার ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছিল। প্রথম দেখায় ওকে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছিল।’

প্রথম পরিচয়ের সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ডি ভিলিয়ার্স রসিকতার সুরে বলেন, ‘এটা ছিল আমার প্রথম ধারণা। আমি যখন কথাটা বলি, তখন একটু মজা করেই বলি। তবে আমার মনে হয়, কোহলিও এতে একমত হবে। ১৯, ২০ কিংবা ২১ বছর বয়সে ও ছিল প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী এক তরুণ। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের কথা বলছি।’

তবে কোহলির এই আত্মবিশ্বাসকে নেতিবাচকভাবে দেখেন না ডি ভিলিয়ার্স। তার মতে, ক্রিকেটে বড় কিছু অর্জন করতে হলে নিজের সামর্থ্যের ওপর দৃঢ় বিশ্বাস থাকা জরুরি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বড় সাফল্য পেতে হলে এমন আত্মবিশ্বাস দরকার। নিজের সামর্থ্যের ওপর প্রবল বিশ্বাস থাকতে হবে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষ শুধু শেখে, কীভাবে সেই আত্মবিশ্বাসকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।’

ডি ভিলিয়ার্সের মতে, বয়স ও অভিজ্ঞতা বাড়ার সাথে সাথে কোহলিও আরও পরিণত হয়েছেন। তরুণ বয়সে নিজেকে প্রমাণ করার যে তাগিদ তার মধ্যে ছিল, সময়ের সাথে তা অনেকটাই কমেছে। একই সাথে অন্যদের কাছে নিজের আত্মবিশ্বাস জাহির করার প্রবণতাও কমেছে বলে মনে করেন তিনি।

কোহলির পরিবর্তন নিয়ে ডি ভিলিয়ার্স বলেন, ‘বয়স বাড়ার সাথে সাথে ওর সেই ব্যাপারটা কমে এসেছে। মানুষ ও ক্রিকেটার হিসেবে ও আরও পরিণত ও ভারসাম্যপূর্ণ হয়েছে। আমার মনে হয়, তরুণ বয়সে ওর অনেক কিছু প্রমাণ করার ছিল। সময়ের সাথে সাথে সেই তাগিদও কমেছে। অন্যদের সামনে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস দেখানোর প্রয়োজনীয়তাও আর অনুভব করেনি। এভাবেই ও বদলে গেছে।’

 আইপিএলে দীর্ঘ সময় একই দলের হয়ে খেলার সুবাদে কোহলিকে কাছ থেকে দেখেছেন ডি ভিলিয়ার্স। তার বক্তব্যে উঠে এসেছে, শুরুতে যে আত্মবিশ্বাসকে অতিরিক্ত মনে হয়েছিল, সেটিই পরবর্তী সময়ে কোহলির সাফল্যের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বয়স ও অভিজ্ঞতার সাথে সেই আত্মবিশ্বাস আরও নিয়ন্ত্রিত ও ভারসাম্যপূর্ণ হয়েছে।