৩৯ বছর বয়সেও গোল ও অ্যাসিস্টে দাপট দেখাচ্ছেন লিওনেল মেসি। ইন্টার মায়ামির হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে তার অবদানও আলোচনায় এসেছে। যদিও এবারের ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে হ্যারি কেইনকে ফেভারিট মনে করা হচ্ছে, তবু মেসিকে বিবেচনায় রাখার পক্ষে রয়েছে বেশ কিছু যুক্তি।
শেষ ম্যাচে ইন্টার মায়ামির হয়ে দুটি গোল করার পর মেসির ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা হয়েছে। সংবাদমাধ্যম ইয়াহু স্পোর্টসের এক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে, কেন পুরস্কারের দৌড়ে মেসিকে পুরোপুরি উপেক্ষা করা যায় না।
হ্যারি কেইনের পাশাপাশি লামিনে ইয়ামাল, রদ্রি, ফাবিয়ান রুইজ, উসমান দেম্বেলে, পাউ কুবারসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পেও আলোচনায় রয়েছেন। তবে মেসির ব্যক্তিগত নৈপুণ্য ও ধারাবাহিকতা তাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাখার মতো যথেষ্ট যুক্তি তৈরি করেছে।
এমএলএসের মান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও শুধু লিগের পরিচিতি দিয়ে একজন খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স বিচার করা ঠিক নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেসি অন্য কোনো লিগে একই ধরনের নৈপুণ্য দেখালেও তাকে প্রশংসায় ভাসানো হতো। তাই যুক্তরাষ্ট্রের লিগে খেলছেন বলে তার অর্জনকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।
ইন্টার মায়ামির হয়ে ৩২ ম্যাচে ২৯ গোল ও ১৫টি অ্যাসিস্ট করেছেন মেসি। মাত্র ছয়টি ম্যাচে গোল বা অ্যাসিস্ট কোনোটিতেই অবদান রাখতে পারেননি তিনি। এর মধ্যে চারটি ম্যাচ ছিল গত মে মাসের আগের। এমএলএসে এক মৌসুমে ৩৪ গোলের রেকর্ডও এখন তার নাগালের মধ্যে। তিনটি ম্যাচ বাকি থাকতেই কার্লোস ভেলার রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনা তৈরি করেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
বিশ্বকাপেও মেসির পারফরম্যান্স ছিল নজরকাড়া। ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার প্রথম সাতটি ম্যাচেই গোল কিংবা অ্যাসিস্টে অবদান রেখেছিলেন তিনি। পুরো টুর্নামেন্টে আট গোল ও চার অ্যাসিস্টসহ মোট ১২টি গোলে সরাসরি অবদান রাখেন মেসি। দলের অন্য গোলগুলোর ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা ছিল।
আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিততে পারলে ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে মেসির অবস্থান আরও শক্ত হতে পারত। অন্যদিকে ইংল্যান্ডকে ফাইনালে তুলতে পারলে কিংবা বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে পারলে কেইনের সম্ভাবনাও বাড়ত। একইভাবে চ্যাম্পিয়নস লিগ ও বিশ্বকাপে সাফল্য পেলে রদ্রি কিংবা দেম্বেলেও এগিয়ে থাকতেন।
সব মিলিয়ে মেসির এবারের ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনা কম হলেও তাকে বিবেচনায় রাখার পক্ষে যথেষ্ট যুক্তি রয়েছে। আটবারের এই পুরস্কারজয়ীকে তার অসাধারণ পারফরম্যান্স ও বিশ্বকাপে অবদানের ভিত্তিতে সেরা হিসেবে বেছে নেওয়া হলে সেটি অযৌক্তিক হতো না।
তবে হ্যারি কেইনও পুরস্কার জয়ের জন্য যথেষ্ট ভালো করেছেন। এখন প্রশ্ন, এবারের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ক্যারিয়ারের আগের সাফল্য ও প্রত্যাশাও কি তাকে ফেভারিট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে? মেসির প্রতি সমর্থকদের আবেগ অতীতেও ব্যালন ডি’অরের ভোটে ভূমিকা রেখেছে। এবারও তার পারফরম্যান্স সেই আলোচনা নতুন করে সামনে এনেছে।



