...|...|...

সারাদেশ

অপ্রতীমের পর তাজমিন, দুই হত্যাকাণ্ডেই আইফোনের যোগসূত্র

মোশারফ হোসেন, কুমিল্লা
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ২:৪৪
Shares
অপ্রতীমের পর তাজমিন, দুই হত্যাকাণ্ডেই আইফোনের যোগসূত্র

ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম ও জান্নাতুল তাজমিন। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লায় একের পর এক হত্যাকাণ্ড। ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের পর এবার জান্নাতুল তাজমিন। দুই কিশোরের মর্মান্তিক পরিণতির ঘটনায় সামনে এসেছে একটি অভিন্ন বিষয়—আইফোন। অপ্রতীমের হত্যাকাণ্ডের পর তার মায়ের আইফোন উদ্ধার করে পুলিশ। আর তাজমিন হত্যাকাণ্ডে উদ্ধার করা হয়েছে তার নিজের ব্যবহৃত আইফোন। দুটি ঘটনায় ফোন উদ্ধারের এই মিল নতুন করে আলোচনায় এনেছে হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও অপরাধের পেছনের রহস্য।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম ছিল সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ১৮ সেপ্টেম্বর বন্ধুদের সাথে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় সে। পরদিন কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় তুহিন, শাহরিয়া আনাস ও ফাহিম নামে তিনজনকে আটক করে পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়। পরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সালমানপুর এলাকায় তুহিনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অপ্রতীমের মায়ের আইফোন উদ্ধার করা হয়।

অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডের শোক কাটতে না কাটতেই কুমিল্লায় ঘটে আরেকটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড। এবার প্রাণ হারায় সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন।

গত ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভোরাজগৎপুর গ্রামের ধানক্ষেত থেকে তাজমিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়াকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তাজমিনকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। পরে তাজমিনের হাতব্যাগ থেকে আইফোন নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন তিনি। তার দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে বাখরাবাদ এলাকার একটি পুকুরপাড়ের জঙ্গল থেকে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়।

দুটি হত্যাকাণ্ড, দুটি আইফোন। অপ্রতীমের মায়ের ফোন উদ্ধার করা হয়েছিল অভিযুক্তের বাড়ি থেকে, আর তাজমিনের ফোন উদ্ধার করা হয়েছে অভিযুক্তের দেখানো জায়গা থেকে। তবে ফোন উদ্ধারের এই মিলই দুই হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য বা ঘটনার মধ্যে সরাসরি কোনো যোগসূত্র প্রমাণ করে না। দুটি মামলার তদন্ত ও প্রমাণ আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি।

তবু প্রশ্ন থেকেই যায়—অপ্রতীম ও তাজমিনের ঘটনায় আইফোনের ভূমিকা কী ছিল? ফোন দুটি কি কেবল হত্যাকাণ্ডের পর নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, নাকি এগুলোর সাথে অপরাধের অন্য কোনো উদ্দেশ্য জড়িত ছিল? এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্তের পূর্ণাঙ্গ ফল ও আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণে।

অপ্রতীমের পর তাজমিন—দুই পরিবারের শোকের পাশাপাশি দুটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন ও ন্যায়বিচারের দাবি এখন গুরুত্বপূর্ণ। আইফোন উদ্ধারের সূত্র তদন্তে অগ্রগতি আনলেও, অপরাধের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও দায়ীদের ভূমিকা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন সব আলামতের নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ।