বাজারে সংকট না থাকলেও চট্টগ্রামের পাহাড়তলী পাইকারি বাজারে গেল দুই সপ্তাহে চালের দাম বেড়েছে। পাইকারিতে ৫০ কেজির বস্তাপ্রতি দাম বেড়েছে অন্তত ১শ টাকা। খুচরা পর্যায়ে কেজিতে বেড়েছে কমপক্ষে ২ টাকা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ধানের দাম ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় দেশের বিভিন্ন মোকাম থেকে চাল পরিবহনে ট্রাকভাড়াও বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে পাইকারি ও খুচরা বাজারে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দেখা যায়, বিভিন্ন ধরনের আতপ চালের দাম বেড়েছে। স্বর্ণা আতপ চাল কেজিতে ২ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৭২ টাকায়। ৫০ কেজির বস্তা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৩৫০ টাকায়, যা দুই সপ্তাহ আগে ছিল ৩ হাজার ২৫০ টাকা। কাটারি চালের ৫০ কেজির বস্তা ১৫০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৪শ টাকায়। মিনিকেট ৩ হাজার এবং নাজিরশাইল ৩ হাজার ৫শ টাকা বস্তা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মোটা সেদ্ধ চালের দামও কেজিতে ১ থেকে ২ টাকা বেড়ে ৫৮ থেকে ৬৫ টাকায় উঠেছে। ৫০ কেজির বস্তা জিরাশাইল ৩ হাজার, পাইজাম ২ হাজার ৯শ, নূরজাহান ২ হাজার ৭শ এবং ভিয়েতনামি বেতি ২ হাজার ৫শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তবে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে চিনিগুঁড়া চালের দাম। ৫০ কেজির বস্তা দুই মাস আগে ৬ হাজার ৫শ টাকায় বিক্রি হলেও এখন দাম দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৫শ থেকে ৮ হাজার টাকায়।
সত্যতা ট্রেডার্সের মালিক মোহাম্মদ জমির বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় প্রতি ট্রিপে ট্রাকভাড়া ২ থেকে ৩ হাজার টাকা বেড়েছে। ধান সংগ্রহ থেকে আড়ত পর্যন্ত কয়েক দফায় পরিবহনের প্রয়োজন হওয়ায় পাইকারিতে এর প্রভাব পড়ছে।
তবে পরিবহন খরচ বৃদ্ধির তুলনায় চালের দাম বেশি বাড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। বাজারে চাল কিনতে আসা মুসলেহ উদ্দিন বলেন, এক গাড়িতে চাল থাকে ১৫ হাজার কেজির আশপাশে। ট্রাকভাড়া বেড়েছে দুই থেকে তিন হাজার টাকা। কেজিতে ১ টাকা করে বাড়ালেও ব্যবসায়ীরা ১৫ হাজার টাকা বেশি পাচ্ছেন। তাহলে চালের দাম এত বাড়ছে কেন? বাজারে তদারকি না থাকায় আমাদের বেশি দামে চাল কিনতে হচ্ছে।
পাহাড়তলী বণিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম নিজাম উদ্দিন বলেন, তেলের দাম বেড়েছে, গাড়িভাড়াও বেড়েছে। কেজিপ্রতি চালের দাম ১ বা ২ টাকা না বাড়ালে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তবে তেলের দামের অজুহাতে অতিরিক্ত দাম বাড়ানো অনুচিত।
পাহাড়তলী চালের আড়তে নওগাঁ, দিনাজপুর, বগুড়া, রাজশাহী, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চাল আসে। সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহন খরচ বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা এ ব্যয়বৃদ্ধিকে চালের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করলেও ক্রেতারা বাজার তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবির) দেয়া তথ্যমতে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর মাঝারি (পাইজাম ও আটাশ) চালের দাম কেজিতে ৩ টাকা বেড়ে সর্বনিম্ন ৫৮ টাকায় বিক্রি হয়। যেটি এর আগে সর্বনিম্ন ৫৫ টাকা ছিল। এরপর মাঝারি চালের দাম আর না বাড়ার তথ্য রয়েছে সংস্থাটির। অন্যদিকে টিসিবির হিসাবে, ৬ অক্টোবর থেকে নাজিরশাইল ও মিনিকেটের ন্যূনতম দাম ৭২ থেকে কমে ৭০ টাকা এবং সর্বোচ্চ দাম ৮৫ টাকা অপরিবর্তিত রয়েছে। সংস্থাটির তথ্যে, ৬ অক্টোবরের আগে নাজিরশাইল ও মিনিকেটের দাম ছিল ৭২ থেকে ৮৫ টাকা। আর মোটা চাল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টিসিবির বাজারদরে পণ্যভিত্তিক সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দামের মধ্যে ১০-১৫ টাকার পার্থক্য থাকে। ফলে বাজারে দাম ২-৪ টাকা ওঠানামা করলে অনেক সময় সেটির প্রভাব তাদের তালিকায় পাওয়া যায় না।
গত বছরের এ সময়ের তুলনায় চালের দাম বর্তমানে কিছুটা কম রয়েছে। টিসিবির হিসাবে, গত বছরের তুলনায় এ বছর চালের দাম গড়ে ৫ শতাংশ কম।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে সেপ্টেম্বরে দেশে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে হয়েছে ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। আগস্টে এ হার ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। এ সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতিও সামান্য বেড়েছে।


