একসময় হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাক বলতেই চোখের সামনে ভেসে উঠত প্রবীণদের মুখ। সাধারণ মানুষও ভাবতেন, এটি বুঝি বয়স বাড়লেই কেবল দেখা দেয়। কিন্তু সেই চেনা হিসাব এখন একেবারেই বদলে গেছে। বিগত দেড় দশকে দেশে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে তরুণদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়া এবং অকালে প্রাণ হারানোর ঘটনা। কোনো ধরনের বড় লক্ষণ ছাড়াই হঠাৎ থমকে যাচ্ছে অনেক সম্ভাবনাময় তাজা প্রাণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন- নিয়মহীন জীবনযাপন, অতিরিক্ত ফাস্টফুড গ্রহণ, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, ধূমপান এবং মানসিক চাপের কারণেই অকালে এই নীরব ঘাতকের শিকারে পরিণত হচ্ছেন তরুণরা।
হঠাৎ বিদায়: গ্যাস্ট্রিকের ওষুধেও থামেনি স্পন্দন
রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত দুই বন্ধু সামিউল (৩৩) ও তৌহিদ (৩২)। ছুটির দিনে ধানমন্ডি লেকের এক ক্যাফেতে আড্ডায় বসেছিলেন দুজনে। ভবিষ্যত পরিকল্পনা আর ক্যারিয়ারের নানামুখী চাপ নিয়ে কথা বলছিলেন তারা। আড্ডার মাঝপথেই হঠাৎ বুকে অস্বস্তি ও তীব্র ঘামের কথা জানান তৌহিদ।
তৌহিদের মনে হয়েছিল, হয়তো দুপুরের ফাস্টফুড খেয়ে সাধারণ গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয়েছে। পাশেই থাকা ফার্মেসি থেকে গ্যাস্ট্রিকের বড়ি খেয়ে আড্ডা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই সামিউলের চোখের সামনেই ঢলে পড়েন তৌহিদ। মুহূর্তের মধ্যেই সব শেষ- হাসপাতালে নেওয়ার আগেই থেমে যায় তার হৃদস্পন্দন। চিকিৎসকেরা জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর বহু আগেই তার ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল।
সেই মর্মান্তিক মুহূর্তের কথা আজও ভুলতে পারেন না বন্ধু সামিউল। বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম সাধারণ এসিডিটি। ও নিজে হেঁটে ফার্মেসিতে গিয়ে ওষুধ খেল। অথচ কয়েক মিনিটের মধ্যে আমার চোখের সামনেই তৌহিদ শেষ হয়ে গেল। এত কম বয়সে যে এমন ঘটনা ঘটতে পারে, তা আমরা ধারণাই করতে পারিনি।
চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের বাসিন্দা হামিদ রানা (২৭)। স্থানীয় সরকারি কলেজ থেকে সাফল্যের সঙ্গে স্নাতক সম্পন্ন করে সম্প্রতি একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি শুরু করেছিলেন। চোখে ছিল অজস্র স্বপ্ন-নিজের উপার্জনে পরিবারের দুঃখ-কষ্ট দূর করবেন, বাবা-মায়ের মুখে ফুটাবেন পরম তৃপ্তির হাসি। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে এক নিমিষেই নিভে গেল সব আলো। হঠাৎ গভীর রাতে শুরু হয় তীব্র বুকে ব্যথা। যন্ত্রণা ক্রমশ বাড়তে থাকায় স্বজনরা তড়িঘড়ি করে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্দেশ্যে নিয়ে রওনা হন। কিন্তু চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানোর আগেই, পথিমধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন এই তরুণ শিক্ষক। তরুণ বয়সে এভাবে অকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রদীপ নেভানোর ঘটনা কেবল হামিদ রানার পরিবারকেই নিঃস্ব করেনি বরং পুরো এলাকায় শোকের ছায়া ফেলে দিয়েছে।
ভীতি জাগাচ্ছে পরিসংখ্যান
শুধু তৌহিদ কিংবা রানা নয় বর্তমানে এমন অকাল মৃত্যুর ঘটনা এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নয়। বিভিন্ন গবেষণা ও স্বাস্থ্য সংস্থার উপাত্তে তরুণদের হৃদরোগের যে চিত্র উঠে এসেছে, তা রীতিমতো আশঙ্কাজনক। এমমন বাস্তবতায় আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব হৃদরোগ দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘‘প্রতিপাদ্য ইউজ হার্ট ফর অ্যাকশন’’
দেশে প্রতিবছর কত মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হন বা প্রাণ হারান, তার কোনো সুনির্দিষ্ট জাতীয় তথ্যভাণ্ডার নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ২০২১ সালের উপাত্ত থেকে দেশের এই স্বাস্থ্যসংকটের ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ইনস্টিটিউট ফর হেলথ ম্যাট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশন’ বাংলাদেশসহ ২০০টি দেশ নিয়ে তারা গবেষণা করেছে। সেই তথ্য বলছে, বাংলাদেশে বর্তমানে ১ কোটি ২ লাখেরও বেশি মানুষ নানা ধরনের হৃদরোগ নিয়ে বেঁচে আছেন। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, প্রতিনিয়ত এই তালিকায় যুক্ত হচ্ছেন নতুন রোগী- প্রতিবছর প্রায় ৯ লাখ ৯৩ হাজার মানুষ নতুন করে এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন যার অর্থ দাঁড়ায় প্রতিদিন গড়ে ২,৭২০ জনের শরীরে নতুন করে হৃদরোগ শনাক্ত হচ্ছে।
মৃত্যুর পরিসংখ্যানেও দেখা যায় এক করুণ চিত্র, যদিও আন্তর্জাতিক সংস্থা দুটির হিসাবে কিছুটা তারতম্য রয়েছে। ইনস্টিটিউট ফর হেলথ ম্যাট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশন এর গবেষণা অনুযায়ী, দেশে বছরে ২ লাখ ৫ হাজারের বেশি মানুষ হৃদরোগে মারা যান, যা দৈনিক ৫৬২ জনের প্রাণহানির সমান। অন্যদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রতিবেদনে এই চিত্র আরও ভয়াবহ। তাদের মতে, দেশে বছরে মোট ৯ লাখ ১৭ হাজার ৩০০ জন মানুষের মৃত্যুর মধ্যে ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮০০ জনেরই প্রাণ যায় হৃদরোগ ও রক্তনালিসংক্রান্ত জটিলতায়। অর্থাৎ, ডব্লিউএইচও-এর হিসাবে প্রতিদিনই প্রায় ৭৭৭ জন মানুষ মারা যাচ্ছেন এই রোগে। ইনস্টিটিউট অব হেলথ মেট্রিক্স আন্ড ইভালুয়েশনের হিসাব বলছে, বাংলাদেশে হৃদযন্ত্রে জন্মগত ত্রুটি থাকা মানুষ আছে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৮০৩ জন। প্রতিবছর হৃদযন্ত্রে ত্রুটি থাকা শিশু বা বয়স্ক মানুষ শনাক্ত হয় ৪৮ হাজার ৬৭৬ জন। এ ধরনের হৃদরোগে প্রতিবছর ৪ হাজার ৭২২ জনের মৃত্যু হচ্ছে।
এদিকে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশে প্রতি ৫ জন তরুণের মধ্যে ১ জন হৃদরোগের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। এছাড়া হাসপাতালে হৃদরোগে ভর্তি হওয়া রোগীদের প্রায় ২৫ শতাংশেরই বয়স ৫০ বছরের নিচে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ১৭ দশমিক ৪৫ শতাংশই ঘটে হার্ট অ্যাটাক ও হৃদরোগে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যমতে, বাংলাদেশে প্রতিবছর ২ লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষ হৃদরোগ ও রক্তনালীর রোগে মারা যান। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সমীক্ষা বলছে, ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী তরুণদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন অথচ এদের অর্ধেকেরও বেশি (প্রায় ৫১-৬৭%) মানুষ জানেনই না যে তাদের রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রিত।
‘গ্যাস্ট্রিক’ ভেবে ভুল ও বিলম্বিত চিকিৎসা
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, উন্নত বিশ্বে সাধারণত ৬০ বছর বয়সের পর হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে। কিন্তু বাংলাদেশে ৩০ থেকে ৩৫ বছর বয়সেই মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন, যা উন্নত দেশের তুলনায় প্রায় ২০ থেকে ৩০ বছর আগেই হানা দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তরুণদের হৃদরোগে অকাল মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ অবহেলা ও অসচেতনতা। বুকে সামান্য ব্যথা, চাপ অনুভব করা বা অল্পতেই হাঁপিয়ে যাওয়ার মতো প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দিলে অনেক তরুণই সেটিকে 'গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা' ভেবে অবহেলা করেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই সাধারণ ওষুধ খেয়ে চেপে রাখেন। ফলে সঠিক সময়ে হাসপাতালে পৌঁছাতে দেরি হয় এবং হৃদযন্ত্রের পেশির অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে অকালেই থামে তাজা প্রাণ।
কেন এত ঝুঁকিতে তরুণ প্রজন্ম
চিকিৎসকরা তরুণদের মধ্যে হৃদরোগের প্রকোপ বাড়ার নেপথ্যে কয়েকটি মূল কারণ চিহ্নিত করেছেন। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও অলসতা, দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা, দৈনন্দিন শারীরিক শ্রমের অভাব ও নিয়মিত ব্যায়াম না করার ফলে স্থূলতা ও রক্তে চর্বির মাত্রা বাড়ছে। এছাড়াও,চরম মানসিক চাপ ও ঘুমহীনতা, ক্যারিয়ারের ভাবনা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং স্ক্রিন টাইমের আধিক্যে অনিদ্রা ও উচ্চ মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে, যা হৃদযন্ত্রের ক্ষতি করছে।
তাদের মতে, হৃদরোগের ঝুঁকির মধ্যে অন্যতম কারণ ধূমপান ও তামাকের ব্যবহার। সাধারণত, ১৫-১৬ বছর বয়স থেকেই ধূমপানে অভ্যস্ত হয়ে পড়ার ফলে ৩০-৪০ বছরের মধ্যেই রক্তনালীতে বড় ধরনের ব্লক তৈরি হচ্ছে। ফাস্টফুড ও অতিরিক্ত লবণ চিপস, পিৎজা, বার্গার এবং ক্যানজাত ফাস্টফুড গ্রহণের কারণে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মত
রোগতত্ত্ব,রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন টাইমস টুডেকে বলেন, ‘‘ধূমপান এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে আমাদের তরুণদের মাঝে হৃদরোগের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তরুণ বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে জীবনের বাকি সময়জুড়ে মানুষের কর্মক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। একই সাথে এটি মানুষের প্রত্যাশিত আয়ু কমিয়ে দেয় এবং অকালমৃত্যু বা পঙ্গুত্বের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘এই সংকট মোকাবেলায় কিশোর বয়স থেকেই স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হতে হবে। স্কুল পর্যায় থেকেই নিয়মিত খেলাধুলা এবং খাদ্যাভ্যাসে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। অতিরিক্ত চিনি, লবণ এবং প্রাণিজ চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। সেই সাথে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে যাতে সহজেই উচ্চ রক্তচাপ মেপে শুরুর দিকেই রোগ শনাক্ত করা যায়, সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ শুরুর দিকে ধরা পড়লে ওষুধ ছাড়াই জীবনযাত্রার ধরনে পরিবর্তন এনে উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।’’
লাইফস্টাইল পরিবর্তন জরুরি
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, শতকরা ৭০ ভাগ হৃদরোগই জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন এনে প্রতিরোধ করা সম্ভব। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা কায়িক পরিশ্রম করা, ফাস্টফুড ও ধূমপান পুরোপুরি ত্যাগ করা, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ৩০ বছর বয়সের পর থেকে অন্তত বছরে একবার রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার পরীক্ষা করা জরুরি।
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. কাজী নজরুল ইসলাম টাইমস টুডেকে বলেন, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন ও শারীরিক পরিশ্রমের অভাবই এর মূল কারণ। বর্তমানে বাসাবাড়িতে পুষ্টিকর খাবার তৈরি হলেও শিশুরা তা এড়িয়ে ফাস্টফুড ও জাঙ্কফুডে আসক্ত হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে খেলার মাঠের অভাব এবং যাতায়াতে রিকশা বা গাড়ির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে শিশুদের হাঁটাচলার সুযোগ কমে গেছে। এর ফলে খুব অল্প বয়সে স্থূলতা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে হার্টের ধমনীতে ব্লক তৈরির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। এছাড়া অতি-স্থূলতার কারণে ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’ বা অতিরিক্ত নাক ডাকার সমস্যা দেখা দেয় যা থেকে ঘুমের মধ্যেই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে।
অল্প বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পেছনে ধূমপানকেও অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন এই হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, সহজলভ্য হওয়ায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা খুব সহজেই এতে জড়িয়ে পড়ছে। ধোঁয়ার ক্ষতিকর উপাদান রক্ত ঘন করে এবং হৃদপিণ্ডের গতি ও রক্তচাপ বাড়িয়ে দিয়ে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বহুলাংশে বাড়িয়ে দেয়। এর পাশাপাশি আধুনিক প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষার পরিবেশ থেকে আসা মানসিক চাপ, সারাদিন শুয়ে-বসে মোবাইল বা টিভিতে সময় কাটানো এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন হৃদরোগের ঝুঁকিকে আরও ত্বরান্বিত করছে। পাশাপাশি পারিবারিক ইতিহাস বা জন্মগত কিছু হৃদরোগের কারণেও অনেক সময় হঠাৎ খেলার মাঠে বা অতিরিক্ত পরিশ্রমে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে।
এই স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা পেতে দৈনন্দিন জীবনে শারীরিক সক্রিয়তা বাড়ানোর তাগিদ দিচ্ছেন অধ্যাপক ডা. কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি ছোটদের প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া-আসা বা আশপাশের রাস্তায় হাঁটার অভ্যাস করানো এবং বড়দের ক্ষেত্রে সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন ৩০ থেকে ৪০ মিনিট ব্যায়াম বা দ্রুত হাঁটার পরামর্শ দিচ্ছেন। এর পাশাপাশি ফাস্টফুড, তেল-চর্বিজাতীয় খাবার, লাল মাংস ও ধূমপান পরিহার করে নিয়মিত শাকসবজি, ফলমূল ও সুষম খাবার গ্রহণের মাধ্যমে একটি নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।



