বয়স বাড়ার সাথে সাথে ফুটবলারদের পারফরম্যান্স কমে আসা স্বাভাবিক। তবে লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এই ধারণা বদলে দিয়েছেন। ৩০ পেরিয়েও গোল, অ্যাসিস্ট ও শিরোপা জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন দুই কিংবদন্তি। পরিসংখ্যানে রোনালদো এগিয়ে মোট গোল ও ম্যাচের সংখ্যায়, অন্যদিকে ম্যাচপ্রতি অবদান ও অ্যাসিস্টে এগিয়ে মেসি।
১২ অক্টোবর আল নাসরের হয়ে এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগে নেফতচি ফারগানার বিপক্ষে গোল করেন ৪১ বছর ৮ মাস বয়সী রোনালদো। পাঁচ দিন পর, ১৭ অক্টোবর আটলান্টা ইউনাইটেডের বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির ৩-১ গোলের জয়ে জোড়া গোল করেন ৩৯ বছর ৩ মাস বয়সী মেসি। একই সপ্তাহে দুই মহাদেশে দুই তারকার এই পারফরম্যান্স আবারও আলোচনায় এনেছে বয়সের সাথে তাদের লড়াইয়ের গল্প।
গোল ও অ্যাসিস্টে কে এগিয়ে
অপ্টার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৩০ বছর বয়সের পর মেসি ৪৮০ ম্যাচে ৩৭১ গোল ও ১৯৬ অ্যাসিস্ট করেছেন। রোনালদো ৬২২ ম্যাচে করেছেন ৫১৮ গোল ও ১০৬ অ্যাসিস্ট। গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে রোনালদোর অবদান ৬২৪, মেসির ৫৬৭। তবে ম্যাচপ্রতি অবদানে এগিয়ে মেসি ১.১৮, রোনালদোর ১.০০।
পেনাল্টি থেকে রোনালদোর গোল ১১০টি, মেসির ৪১টি। অন্যদিকে ফ্রি-কিক থেকে মেসি করেছেন ৪৩ গোল, রোনালদোর গোল ২২টি। অর্থাৎ, গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর ক্ষেত্রে মেসির অবদান তুলনামূলক বেশি।
ক্লাবভিত্তিক পারফরম্যান্স
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ৩০ বছর বয়সের পর ১৬১ ম্যাচে ১৬২ গোল করেছেন রোনালদো। জুভেন্টাস ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডেও গোলের ধারাবাহিকতা রেখেছেন তিনি। আল নাসরেও নিয়মিত গোল করছেন পর্তুগিজ তারকা।
অন্যদিকে বার্সেলোনার হয়ে ১৯৫ ম্যাচে ১৬৫ গোল ও ৭৪ অ্যাসিস্ট করেন মেসি। পিএসজিতে ৭৫ ম্যাচে ৩২ গোল ও ৩৪ অ্যাসিস্টের পর ইন্টার মায়ামিতে আবারও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখান তিনি। ক্লাবটির হয়ে ১২০ ম্যাচে তার গোল ১০৬টি, অ্যাসিস্ট ৫৭টি। তবে বিভিন্ন লিগের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও মানের পার্থক্য বিবেচনায় রেখেই এসব পরিসংখ্যান তুলনা করা উচিত।
শিরোপা ও ফাইনালের লড়াই
৩০ বছর বয়সের পর রোনালদো ১৯টি এবং মেসি ১৭টি শিরোপা জিতেছেন। রোনালদোর অর্জনের মধ্যে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তিনটি চ্যাম্পিয়নস লিগ ও পর্তুগালের হয়ে ২০১৬ সালের ইউরো। মেসি জিতেছেন ২০২১ ও ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা এবং ২০২২ সালের বিশ্বকাপ।
ফাইনালে রোনালদোর গোল ১৪টি, মেসির ১০টি। তবে অ্যাসিস্টে এগিয়ে মেসি। ব্যালন ডি'অর জয়ের হিসাবেও ৩০ বছর বয়সের পর মেসি তিনবার এবং রোনালদো দুবার পুরস্কারটি জিতেছেন।
পরিসংখ্যানের গল্প
৩০ বছরের পর মেসি ও রোনালদোর খেলার ধরনে পার্থক্য স্পষ্ট। রোনালদো গোল করার ধারাবাহিকতা ও মোট গোলের সংখ্যায় এগিয়ে। মেসি গোলের পাশাপাশি আক্রমণ তৈরি এবং সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর ক্ষেত্রেও কার্যকর।
বয়স বাড়লেও দুজনই নিজেদের খেলার ধরন বদলে দীর্ঘ সময় ধরে সাফল্য ধরে রেখেছেন। তাদের পরিসংখ্যান বলছে, ফুটবলে ৩০ বছর পেরোলেই সেরা সময় শেষ হয়ে যায় না অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিকতা দিয়ে নতুন অধ্যায়ও লেখা সম্ভব।


