দেশে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহজনক ও পরীক্ষায় নিশ্চিত মিলিয়ে ১ হাজার ৪০২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। মৃতদের মধ্যে চারজন ঢাকা বিভাগের, একজন সিলেট বিভাগের এবং অন্যজন খুলনা বিভাগের বাসিন্দা।
বুধবার (৪ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতরে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে সন্দেহজনক হাম রোগী পাওয়া গেছে ১ হাজার ৩২৫ জন। পাশাপাশি পরীক্ষার মাধ্যমে আরও ৭৭ জনের হাম সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে।
এই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ২০৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ হাজার ১৪২ জন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ১৪৮। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হয়েছেন ২৪ হাজার ১৫০ জন। এ সময়ে সন্দেহজনক হাম নিয়ে মোট ১ হাজার ১৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হওয়ার পর মারা গেছেন ১০৫ জন।
বিভাগভিত্তিক হিসাবেও সংক্রমণের চিত্রে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছেন ঢাকা বিভাগে, ৫২০ জন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৩১ জন এবং বরিশাল বিভাগে ১৫৮ জনের শরীরে সন্দেহজনক হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে।
এদিকে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে স্বাস্থ্য অধিদফতরের। সংস্থাটির দেওয়া তথ্যমতে, জাতীয় পর্যায়ে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এখন পর্যন্ত ২ কোটি ১৬ লাখ ৪২ হাজার ৮৮ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে গড় টিকাদান কভারেজ দাঁড়িয়েছে ১২০ দশমিক ১ শতাংশে। সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতে এই হার ১১৯ শতাংশ।
হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় শিশুদের জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি বা হামের অন্য কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পাশাপাশি সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।


