দীর্ঘদিন ধরে চলা আর্থিক অনিয়মের মামলায় বড় ধাক্কা খেল ম্যানচেস্টার সিটি। প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে স্বাধীন কমিশন ক্লাবটিকে গুরুতর সব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছে। বাণিজ্যিক অংশীদারদের সাথে ‘প্রতারণামূলক চুক্তি’র মাধ্যমে আয় কৃত্রিমভাবে বাড়ানো এবং ব্যয় কম দেখানোর মতো গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে কমিশন। তবে এখনো কোনো শাস্তি ঘোষণা করা হয়নি।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্রিমিয়ার লিগ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন কমিশনের রায় প্রকাশ করে। ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত নয় বছরের আর্থিক কর্মকাণ্ড নিয়ে এসব অভিযোগের তদন্ত করা হয়। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে চার বছরের তদন্ত শেষে মামলাটি স্বাধীন কমিশনে পাঠানো হয়েছিল। প্রিমিয়ার লিগের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই সময়ে বিভিন্ন বাণিজ্যিক চুক্তির মাধ্যমে ক্লাবের আয় বাড়ানো ও ব্যয় কম দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।
কমিশনের প্রতিবেদনের সম্পাদিত সংস্করণ প্রকাশ করেছে প্রিমিয়ার লিগ। সেখানে বলা হয়েছে, সিটি তাদের কিছু বাণিজ্যিক অংশীদারের সাথে এমন ‘শাম’ বা ভুয়া চুক্তি করেছিল, যা প্রকৃত চুক্তির ধরনকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করত না। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্লাবের আয় কৃত্রিমভাবে বাড়ানো এবং খরচ কম দেখানো হয়েছিল। একই সাথে আর্থিক হিসাবেও ভুল তথ্য দেওয়া এবং নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকদের কাছ থেকে প্রকৃত আর্থিক অবস্থা আড়াল করার কথা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
প্রিমিয়ার লিগের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে সিটি তাদের আয় ও ব্যয়ের হিসাব এমনভাবে উপস্থাপন করেছিল, যাতে আর্থিক নিয়ম মেনে চলার চিত্র তৈরি হয়। কমিশন আরও জানিয়েছে, ক্লাবটি প্রিমিয়ার লিগ ও উয়েফার ব্যয়সংক্রান্ত নিয়মও উল্লেখযোগ্যভাবে লঙ্ঘন করেছে। তদন্তে সহযোগিতার ক্ষেত্রেও চারটি অভিযোগের মধ্যে তিনটিতে সিটিকে দায়ী করা হয়েছে।
তবে রায়ের সাথে একমত নয় ম্যানচেস্টার সিটি। প্রিমিয়ার লিগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর ক্লাবের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে কমিশনের সিদ্ধান্তকে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সাথে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আপিলের ঘোষণা দিয়েছে ইতিহাদের ক্লাবটি।
বিবৃতিতে সিটি বলছে, ‘আজ প্রকাশিত প্রিমিয়ার লিগ কমিশনের মতামতের বিষয়ে ম্যানচেস্টার সিটি হতাশ ও বিস্মিত। প্রিমিয়ার লিগের আনা অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রে ক্লাবটি পুরোপুরি নির্দোষ এবং এই মামলার বিষয়ে ক্লাবের অবস্থানের পক্ষে অকাট্য ও বিস্তারিত প্রমাণাদি রয়েছে।’
‘ফলে ক্লাবটি যেকোনো উপযুক্ত নিয়ন্ত্রক ও আইনি ফোরামে অবিচল থাকবে এবং প্রয়োজনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। প্রিমিয়ার লিগের প্রক্রিয়াটি এখনও চলমান এবং এর গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশ এখনও সম্পন্ন হয়নি। ম্যানচেস্টার সিটি এখন আপিলের পথ বেছে নেবে, কারণ এই মতামতে আইন, নীতি ও তথ্যের ক্ষেত্রে স্পষ্ট ও বস্তুগত ভুল রয়েছে এবং এটি ত্রুটিপূর্ণ’, আরও জানিয়েছে ম্যানসিটি।
রায়ের পর এখন পরবর্তী ধাপ হলো শাস্তি নির্ধারণ এবং সিটির আপিল প্রক্রিয়া। প্রিমিয়ার লিগ জানিয়েছে, শাস্তির বিষয়ে আলাদা প্রক্রিয়া হবে। সিটির আপিলের সময়সীমা ২ অক্টোবর।


