আগামী ১০ বছরে ১ কোটি ‘কামিকাজে’ বা আত্মঘাতী ড্রোন তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে তুরস্কের সশস্ত্র বাহিনী। এর মধ্যে আগামী পাঁচ বছরে ৫০ লাখ ড্রোন তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। দেশটির চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল সেলচুক বায়রাক্তারোগলু এ ঘোষণা দিয়েছেন।
সংবাদমাধ্যম তুর্কি টুডে জানায়, শনিবার (২৪ অক্টোবর) আঙ্কারায় আয়োজিত প্রথম আন্তর্জাতিক সামরিক ড্রোন দলীয় প্রতিযোগিতা ‘বিআইএমডিটিসি-২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিযোগিতার ফাইনালে পাকিস্তান, ইতালি ও ফ্রান্সকে পেছনে ফেলে তুর্কি স্থল বাহিনীর প্রথম দল চ্যাম্পিয়ন হয়।
বায়রাক্তারোগলু বলেন, প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের নেতৃত্বে শুরু হওয়া ‘ন্যাশনাল টেকনোলজি মুভ’ বা জাতীয় প্রযুক্তি উদ্যোগের মাধ্যমে তুরস্ক নিজস্ব প্রযুক্তিতে সামরিক সরঞ্জাম তৈরির সক্ষমতা বাড়িয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পে স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের হার ৮৩ শতাংশে পৌঁছেছে বলেও জানান তিনি।
তুর্কি সেনাপ্রধানের মতে, চালকবিহীন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে অর্জিত সক্ষমতা দেশটির প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রমাণ। এসব প্রযুক্তি প্রতিরক্ষা খাতে স্বনির্ভরতা বাড়ানোর পাশাপাশি তুর্কি সশস্ত্র বাহিনীর যুদ্ধের প্রস্তুতি, কার্যক্ষমতা ও প্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদার করবে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের যুদ্ধে জয় নির্ভর করবে পরিস্থিতি দ্রুত অনুধাবন, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং মানবচালিত ও চালকবিহীন ব্যবস্থার সমন্বিত ব্যবহারের ওপর। বর্তমান যুদ্ধক্ষেত্রে তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি এবং বিভিন্ন সামরিক ব্যবস্থার পারস্পরিক সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
গত ১৯ অক্টোবর শুরু হওয়া এ প্রতিযোগিতা ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। এতে ১৯টি দেশের প্রতিযোগী এবং ১৪টি দেশের পর্যবেক্ষক অংশ নিয়েছেন। প্রতিযোগিতার ফাইনালে বিভিন্ন দেশের সামরিক সদস্যদের নিয়ে গঠিত দলগুলোকে ২৩টি বাধা অতিক্রম করে ড্রোন পরিচালনা করতে হয়। গতি, কৌশল ও উড্ডয়ন দক্ষতার ভিত্তিতে তাদের মূল্যায়ন করা হয়।
ফাইনালে তুর্কি স্থল বাহিনীর প্রথম দল ৪১ দশমিক ৪১৭ সেকেন্ডে কোর্স সম্পন্ন করে প্রথম স্থান অর্জন করে। পাকিস্তান ৫০ দশমিক ২৫৩ সেকেন্ডে দ্বিতীয়, ইতালি ৫০ দশমিক ৬৮০ সেকেন্ডে তৃতীয় এবং ফ্রান্স ৫৭ দশমিক ১৪২ সেকেন্ডে চতুর্থ হয়।
তুর্কি স্থল বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল মেতিন তোকেল বলেন, এ প্রতিযোগিতা বিভিন্ন দেশের সামরিক সদস্যদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মঞ্চ। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের সামরিক ব্যবস্থার সমন্বিত ব্যবহারের সক্ষমতা বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।



