...|...|...

সারাদেশ

১০ কোটি টাকার সেতুতে রডের বদলে বাঁশ, প্রকৌশলীকে বদলি

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৫:১৭
Shares
১০ কোটি টাকার সেতুতে রডের বদলে বাঁশ, প্রকৌশলীকে বদলি

প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান। ছবি: টাইমস টুডে

টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের ঘটনায় উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানকে বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যেই ঘটনাটি নিয়ে দুদকের তদন্ত, শোকজ, বরখাস্ত ও গ্রেফতারের মতো একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী (গ্রেড-১) মো. বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাকে বাসাইল উপজেলা থেকে বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে বদলি করা হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে স্ব-বেতন স্কেলে নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়েছে। তাকে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। অন্যথায় ওই দিন বিকেলেই তাকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) হিসেবে গণ্য করা হবে। একই সঙ্গে ষষ্ঠ গ্রেডভুক্ত উপজেলা প্রকৌশলী পদায়ন না হওয়া পর্যন্ত আর্থিক ক্ষমতাসহ উপজেলা প্রকৌশলীর অতিরিক্ত দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে।

বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান।

সেতুতে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগ দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেওয়ার পর ঘটনাটি নিয়ে দফায় দফায় তদন্ত চলছে। ইতোমধ্যে মামলার পর সাব-ঠিকাদার শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এক উপ-সহকারীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাহী প্রকৌশলীসহ দুই প্রকৌশলীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) টাঙ্গাইলে সেতুটিতে অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযানে নেতৃত্ব দেন দুদক টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. বিপ্লব হোসেন।

দুদক টাঙ্গাইল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. বিপ্লব হোসেন বলেন, “দুদকের পক্ষ থেকে সেতুটিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে, এখানে দুর্নীতি হয়েছে। আমরা ফুটপাত স্ল্যাব ও রেলিংয়ের পিলার ভেঙে দেখেছি। এখানে রডের পরিমাণটা কম রয়েছে। রড যতটুকু থাকা দরকার, সেটুকু নেই। সরেজমিনে যে রিপোর্টটি তৈরি করেছি, সেটা আমাদের এক্সপার্ট আছে, তারা সরেজমিন প্রতিবেদন দেবেন। সেটার ওপর ভিত্তি করে প্রাথমিক সত্যতা পেলে আমরা কমিশনকে বিস্তারিতভাবে জানাব। তারপর কমিশন থেকে যে নির্দেশনা দেবে আমরা পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করব।”

বাঁশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছিল, সেগুলো আমরা সরেজমিনে দেখতে পাইনি। তবে মিডিয়ার মাধ্যমে সেগুলো দেখেছি। সেখানে সাটারিংয়ে বাঁশের ব্যবহার আমরা দেখেছি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরিতে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই শুরু করেন। স্থানীয়রা বাধা দিলে কাজ কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়। এ সময় তারা মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। পরে স্থানীয়রা চলে গেলে আবার রাতে ঢালাইয়ের কাজ শেষ করা হয়।

পরবর্তীতে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে সেতুটি পরিদর্শন ও তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, বিষয়টি জানার পর সেতুটি পরিদর্শন করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, টাঙ্গাইল জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন মুঠোফোনে কাজী ফাত্তাউর রহমানের বদলির বিষয়টি এড়িয়ে যান। তবে তিনি শোকজের বিষয়টি স্বীকার করেন।