এশিয়ার বৃহত্তম মিঠাপানির জলাভূমি হাকালুকি হাওরে আবারও ধরা পড়ছে রুপালি ইলিশ। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার হাওরে ইলিশের উপস্থিতি কয়েকগুণ বেড়েছে। এতে হাওরপাড়ের জেলেদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আনন্দ ও নতুন আশার সঞ্চার।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) কুলাউড়া-বড়লেখা-চান্দগ্রাম সড়কের আছুরিঘাট এলাকায় দেখা যায়, জেলেরা হাওর থেকে ধরা বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছের সাথে কয়েকটি ইলিশ নিয়ে বসেছেন। প্রতিটি ইলিশের ওজন ছিল প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম।
কুলাউড়া উপজেলার ভূকশিমইল ইউনিয়নের জেলে রাহুল মিয়া, মো. উমর আলী, সুফিয়ান আহমদ, জমির মিয়া ও আহাদ মিয়া জানান, গত শনিবার রাতে বেড়জাল দিয়ে মাছ ধরার সময় কয়েকবার জাল টানার পর ইলিশ ধরা পড়ে।
রাহুল মিয়া বলেন, গত কয়েক দিন ধরে অনেক জেলের জালেই ৩০০ থেকে ৪০ গ্রাম ওজনের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। হঠাৎ করে ইলিশ ধরা পড়ায় আমরা বেশ আনন্দিত। আশা করি, ইলিশের পাশাপাশি এ বছর হাকালুকি হাওরে অন্যান্য দেশীয় মাছের উৎপাদনও বাড়বে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও হাকালুকি হাওরে ইলিশ পাওয়া গেলেও নিয়মিতভাবে এর দেখা মিলত না। প্রায় পাঁচ বছর আগে এই হাওরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়েছিল। এরপর মাঝখানে তেমন দেখা না গেলেও চলতি বছর আবারও জেলেদের জালে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। ইতোমধ্যে স্থানীয় বিভিন্ন হাট-বাজারে দেশি মাছের সাথে বিক্রি হচ্ছে এসব ইলিশ।
স্থানীয় শিক্ষার্থী ফারদিন কাওসার তানিম ও ফাহমিদুর রহমান আবির জানান, কুলাউড়ার বিভিন্ন বাজারে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে শুনে তারা নিজের চোখে দেখতে বাজারে ঘুরেছেন। ফেঞ্চুগঞ্জ থেকে ফেরার পথে কুশিয়ারা নদীর ঘাট থেকে কেনা দেশীয় মাছের সাথে ৪০০ গ্রাম ওজনের একটি ইলিশও পেয়েছেন।
কুলাউড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু মাসুদ জানান, মেঘনা ও কুশিয়ারা নদীর সাথে হাকালুকি হাওরের সংযোগ রয়েছে।
সাধারণত প্রতি বছর হাওরে ছোট আকারের ২-৪টি ইলিশ পাওয়া গেলেও এবার ২৫০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ছে। আগাম বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের সময় হাকালুকি হাওরের পানি কুশিয়ারা নদী হয়ে পদ্মায় গিয়ে মিশে যায়। এ সময় ইলিশ প্রজননের জন্য স্রোতের বিপরীতে চলতে গিয়ে হাকালুকি হাওরে প্রবেশ করে। তাই আগাম বন্যার বছরগুলোতে এ অঞ্চলে ইলিশের দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
তিনি আরও আশাবাদী, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে হাকালুকি হাওরে ইলিশ উৎপাদনে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হতে পারে।
প্রায় ১৮ হাজার ১৫ হেক্টর আয়তনের হাকালুকি হাওর মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা নিয়ে বিস্তৃত। এর মধ্যে বিলের আয়তন প্রায় ৪ হাজার ৪০ হেক্টর।
একসময় হাকালুকি হাওর ছিল রাণী মাছ, আইড়, শোল, গজার, বাঘা গুতুমসহ নানা প্রজাতির মাছের আবাসস্থল। তবে পরিবেশগত পরিবর্তনে এসব মাছের উপস্থিতি কমে গিয়েছিল।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাওরে দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়াতে মৎস্য বিভাগ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করেছে। চলতি বছর ইলিশসহ অন্যান্য মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনায় নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন জেলে ও সংশ্লিষ্টরা।
মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বিভিন্ন নদ-নদী ও মিঠাপানির জলাশয়ে ইলিশের বিচরণক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। হাকালুকি হাওর কুশিয়ারা নদীর সাথে সংযুক্ত থাকায় নদীতে থাকা ইলিশ এ বছর বেশি পরিমাণে হাওরে প্রবেশ করেছে।



