দূরপাল্লার পথে চলার সময় হঠাৎ চোখে পড়ে বড় একটি সবুজ সাইনবোর্ড। সাদা অক্ষরে লেখা থাকে সামনে কোন শহর, কত কিলোমিটার দূরে গন্তব্য কিংবা কোন পথে যেতে হবে। হাইওয়ের সাথে এই সবুজ-সাদা সাইনবোর্ড এতটাই পরিচিত যে এর রং নিয়ে আলাদা করে ভাবা হয় না। কিন্তু এই রং বেছে নেওয়ার পেছনে রয়েছে চালকের দ্রুত তথ্য বোঝা ও নিরাপদে পথ চলার বিষয়।
রিডার্স ডাইজেস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাইওয়ের গাইড সাইন এমনভাবে তৈরি করা হয়, যাতে গাড়ি দ্রুতগতিতে চলার সময়ও চালক অল্প সময়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পড়ে নিতে পারেন। এজন্য সাইনবোর্ডের আকার, অক্ষরের আকার, রঙের বৈপরীত্য এবং রাতের দৃশ্যমানতা- সবকিছুই বিবেচনায় রাখা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল হাইওয়ে সাইন ব্যবস্থাতেও গাইড সাইনের জন্য সবুজ পটভূমিতে সাদা লেখা ব্যবহারের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে।
সবুজ-সাদা রঙের পেছনের কারণ
হাইওয়ের গাইড সাইনে সবুজ পটভূমির ওপর সাদা লেখা রাখলে দুই রঙের মধ্যে স্পষ্ট বৈপরীত্য তৈরি হয়। ফলে দূর থেকে সাইনবোর্ড শনাক্ত করা এবং কাছে আসার সাথে সাথে লেখা পড়া তুলনামূলক সহজ হয়।
এখানে শুধু রং নয়, অক্ষরের আকার ও লেখার পরিমাণও গুরুত্বপূর্ণ। সড়ক-সাইন ব্যবস্থার নীতিমালায় বলা হয়েছে, কার্যকর সাইন এমন হওয়া উচিত যা পর্যাপ্ত দূরত্ব থেকে দেখা যায় এবং চালকের হাতে থাকা সীমিত সময়ের মধ্যেই পড়া ও বোঝা সম্ভব হয়।
দ্রুতগতির সড়কে সময়ের গুরুত্ব
হাইওয়েতে গাড়ি সাধারণ সড়কের তুলনায় বেশি গতিতে চলতে পারে। ফলে কোনো সাইনবোর্ড সামনে আসার পর চালককে খুব অল্প সময়ের মধ্যে সেটি শনাক্ত করতে, তথ্য পড়তে এবং প্রয়োজন হলে লেন পরিবর্তন বা নির্দিষ্ট পথে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
এ কারণেই হাইওয়ের সাইনবোর্ডে সাধারণত বড় অক্ষর, স্পষ্ট তীরচিহ্ন এবং সংক্ষিপ্ত তথ্য ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ সাইনবোর্ডের নকশার লক্ষ্য হলো চালককে বেশি তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত না করে প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত পৌঁছে দেওয়া।
রাতেও দৃশ্যমান রাখার ব্যবস্থা
হাইওয়ের সাইনবোর্ড শুধু দিনের জন্য নয়। রাতেও এগুলো চালকের কাছে দৃশ্যমান রাখতে প্রতিফলক উপাদান ব্যবহার করা হয়। গাড়ির হেডলাইটের আলো সাইনবোর্ডে পড়লে এই উপাদান আলো প্রতিফলিত করে, ফলে অন্ধকারেও লেখা ও চিহ্ন দেখা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সাইন-স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী গাইড সাইনের লেখা, সংখ্যা, তীর ও বর্ডার প্রতিফলক হওয়া উচিত; আলাদাভাবে আলোকিত না হলে পটভূমিও প্রতিফলক হওয়ার বিধান রয়েছে।
সব সাইনবোর্ডে কেন সবুজ রং নয়
সড়কে ব্যবহৃত প্রতিটি সাইন একই তথ্য দেয় না। গন্তব্য, শহর বা পথের দিকনির্দেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে সবুজ-সাদা রঙের ব্যবহার দেখা গেলেও সতর্কতা বা অন্য ধরনের নির্দেশনার জন্য ভিন্ন রং ব্যবহৃত হয়।
ফলে সাইনবোর্ডের রং অনেক সময় চালককে আগেই ধারণা দিতে পারে সামনে কী ধরনের তথ্য রয়েছে। এই রঙের পার্থক্য সড়কের বিভিন্ন সংকেত দ্রুত শনাক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
কেন পরিচিত রঙের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ
একজন চালক যখন অপরিচিত কোনো এলাকায় যান, তখন রাস্তার প্রতিটি সাইন পড়ার জন্য তার হাতে বেশি সময় থাকে না। পরিচিত রং, নকশা ও প্রতীক থাকলে তিনি দ্রুত বুঝতে পারেন কোনটি গন্তব্যের নির্দেশনা, কোনটি সতর্কবার্তা কিংবা কোনটি অন্য ধরনের তথ্য।
সড়ক নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্যই হলো চালককে পথ চিনতে ও সঠিক গন্তব্যে পৌঁছাতে প্রয়োজনীয় তথ্য সহজভাবে দেওয়া। সরকারি সাইন-নির্দেশিকাতেও গাইড সাইনকে শহর, গন্তব্য ও বিভিন্ন পথের দিকে চালককে নির্দেশ দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
শুধু রং নয়, পুরো নকশাটাই হিসাব করে তৈরি
তাই হাইওয়ের সবুজ সাইনবোর্ডকে নিছক রঙের পছন্দ হিসেবে দেখলে বিষয়টি অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এর সাথে জড়িত রয়েছে দূর থেকে দৃশ্যমানতা, সাদা লেখার সাথে স্পষ্ট বৈপরীত্য, বড় অক্ষর ও সংক্ষিপ্ত তথ্য, রাতের প্রতিফলন এবং চালকের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়।
পরেরবার হাইওয়েতে সবুজ সাইনবোর্ড দেখলে তাই শুধু গন্তব্যের নাম বা দূরত্বের দিকে নজর দেবেন না। খেয়াল করলে বুঝবেন, কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে চালকের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য এর রং থেকে শুরু করে অক্ষর ও নকশা- সবকিছুই নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য মাথায় রেখে তৈরি।



