লোহিত সাগরের দিকে যাওয়ার পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনটি বন্ধ থাকায় বিকল্প পথ বেছে নিয়েছে সৌদি আরব। গত সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকে কৌশলগত হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে এশিয়ার ক্রেতাদের কাছে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ব্যারেল কাঁচা তেল (ক্রুড অয়েল) বিক্রি করেছে বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশটি।
সম্প্রতি বাণিজ্য বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন উক্ত চুক্তির বিষয়ে অবগত বাণিজ্যিক সূত্রগুলো।
তথ্যমতে, বিশ্বব্যাপী প্রতিদিনের মোট তেল চাহিদার প্রায় একদিনের সমপরিমাণ এই তেল অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য এশীয় ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হয়েছে।
বেনামি শর্তে ব্লুমবার্গের সূত্রগুলো জানিয়েছে, সৌদি আরব নিজ দায়িত্বে লজিস্টিকস বা পরিবহন ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করে এশিয়ায় এই কার্গোগুলো পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে।
সৌদি ক্রুড অয়েলের ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে চীনের সরকারি ও স্বাধীন শোধনাগারগুলো, সেই সাথে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানের বিভিন্ন শোধনাগার।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদির রাষ্ট্রীয় তেল জায়ান্ট ‘আরামকো’-র এই বিশাল তেল বিক্রির পরিমাণ এশিয়ায় হরমুজ রুট দিয়ে সৌদি ক্রুডের সাম্প্রতিক প্রবাহকে দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়ে দেবে।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে যাওয়ার জন্য নির্মিত পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনটি বাধ্য হয়ে বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকেই মূলত এই পরিবর্তন আসে। এরপর থেকে সৌদি আরব রাস তানুরা বন্দর থেকে ক্রুড অয়েলের ক্রেতাদের জন্য হরমুজ প্রণালীর ঠিক বাইরে ওমানের সোহারে অবস্থিত বন্দরে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের মাধ্যমে পণ্য লোড করার সুবিধা দিয়ে আসছে।
উল্লেখ্য, সৌদি আরব হরমুজ প্রণালী পর্যন্ত সাটল-শিপিং বা অভ্যন্তরীণ জাহাজ চলাচল বাড়িয়ে দিয়েছে। পাইপলাইন বন্ধ থাকা সত্ত্বেও হরমুজ রুট দিয়ে সৌদি ক্রুড তেল রপ্তানির এই বৃদ্ধি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের উর্ধ্বমুখী প্রবণতাকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।
এদিকে, চলতি সপ্তাহে সৌদি আরব পাইপলাইনের আংশিক কার্যক্রম পুনরায় চালু করেছে, তবে দৈনিক প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহের স্বাভাবিক কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে চালু হতে বেশ কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, লোহিত সাগর দিয়ে রপ্তানি স্বাভাবিক হওয়ার আগ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী দিয়ে সৌদি আরবের এই ব্যাপক তেল বিক্রি এশিয়ার বাজারে সরবরাহ সচল রাখতে বড় ভূমিকা রাখবে। একই সাথে হরমুজ দিয়ে চালান বৃদ্ধি সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা দূর করে তেলের দামের আকস্মিক লাফিয়ে বাড়ার প্রবণতাকেও অনেকটাই দমিয়ে রাখবে।


