...|...|...

খেলা

হতাশার আসর শেষে যে ৫ ক্রিকেটারকে বিদায় জানাচ্ছে কলকাতা

টাইমস টুডে স্পোর্টস
প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, দুপুর ২:০৯ | আপডেট: ৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ১:২৭
Shares
হতাশার আসর শেষে যে ৫ ক্রিকেটারকে বিদায় জানাচ্ছে কলকাতা

এবারের আইপিএলের শুরু থেকেই চোটের কারণে ভীষণ ভুগেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)। বিশেষ করে দলের বোলিং বিভাগের দৈন্যদশা ছিল চোখে পড়ার মতো। নিলামে মুস্তাফিজুর রহমানকে দলে ভিড়িয়েও শেষ পর্যন্ত তাকে না পাওয়ার অভাব হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে দলটি। পয়েন্ট তালিকার সাত নম্বরে থেকে আসর শেষ করায় ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তৃপক্ষ একেবারেই সন্তুষ্ট নয়। তাই আগামী মৌসুমের আগে স্কোয়াডের খোলনলচে পাল্টানোর পরিকল্পনায় অন্তত ৫ জন ক্রিকেটারকে ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবছে কেকেআর ম্যানেজমেন্ট।

যাদের ছেড়ে দেওয়ার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে:

অজিঙ্কা রাহানে - টানা দুই মৌসুম কেকেআরকে নেতৃত্ব দিলেও দলকে প্রত্যাশিত ফল এনে দিতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন ৩৭ বছর বয়সী এই তারকা। গত আসরে আট নম্বরে শেষ করার পর এবার দলটি শেষ করেছে সাত নম্বরে। রাহানের নেতৃত্বে মোটেও খুশি নয় কেকেআর কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া, বোলিং পরিবর্তন বা ফিল্ডিং সাজানোর ক্ষেত্রে তার দুর্বলতা বারবার প্রকাশ্যে এসেছে। অভিজ্ঞতার কারণে তাকে নেতৃত্বের ভার দেওয়া হলেও তিনি সেই আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি।

ক্যামেরন গ্রিন - অজি এই অলরাউন্ডারকে ২৫ কোটি রুপির বিশাল অঙ্কে দলে ভিড়িয়েছিল কেকেআর। তবে সিইও ভেঙ্কি মাইসোরসহ টিম ম্যানেজমেন্ট মনে করছে, গ্রিন তার মূল্যের সুবিচার করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ১৪ ম্যাচে করেছেন ৩২২ রান, আর প্রথম ৪ ম্যাচে বল না করা গ্রিন পরের ১০ ম্যাচে পেয়েছেন মাত্র ৭ উইকেট। দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো ভূমিকা রাখতে না পারায় ২৫ কোটি রুপি দিয়ে তাকে ধরে রাখার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ।

মাথিশা পাথিরানা - শ্রীলঙ্কান এই গতিতারকাকে নিয়ে কেকেআরের মোহভঙ্গ হয়েছে। ১৮ কোটি রুপি দিয়ে তাকে কিনলেও চোটের কারণে আসরের প্রথমার্ধে তিনি দলের সঙ্গে যোগই দিতে পারেননি। পরে যোগ দিলেও ফিটনেস ঘাটতি তাকে ভুগিয়েছে। ১৬ মে গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে মাঠে নামানো হলেও মাত্র ১.২ ওভার বল করেই আবারও চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন পাথিরানা। এরপর আর মাঠে নামা হয়নি তার।

বৈভব অরোরা - এবারের আসরে কেকেআরের অন্যতম ব্যর্থ ক্রিকেটার বৈভব। মাথিশা পাথিরানা ও হর্ষিত রানাদের অনুপস্থিতিতে কোচ অভিষেক নায়ার তার ওপর অনেকখানি ভরসা করেছিলেন। কিন্তু বৈভব সেই আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি। ম্যাচের পর ম্যাচ খরচে বোলিংয়ে দলকে ডুবিয়েছেন তিনি। ফলে আসরের শেষ দিকে একাদশ থেকে তাকে বাদ দিতে বাধ্য হয়েছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।

রমনদীপ সিং - রিংকু সিংয়ের সঙ্গে ফিনিশার হিসেবে ভাবা হয়েছিল রমনদীপকে। কিন্তু এবারের আইপিএলে একটি বলার মতো ইনিংসও খেলতে পারেননি তিনি। পুরো আসরে ৬৮ বল খেলে মেরেছেন মাত্র ৮টি চার ও ২টি ছক্কা। ইনিংসের শেষ দিকে ব্যাট করতে নেমে তার স্ট্রাইক রেট ছিল ১২০.৫৮, যা আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের মানদণ্ডে পুরোপুরি অচল।

বাজে আসর শেষে আগামী মৌসুমের আগে ঘুরে দাঁড়াতে কলকাতা যে বড় ধরনের রদবদলের পথে হাঁটছে, তা এসব সিদ্ধান্ত থেকেই বেশ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।