ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) সমাপনী মঞ্চ মানেই সাধারণত একঝাঁক তারকার মিলনমেলা, যেখানে সেরাদের মাঝে পুরস্কারগুলো ভাগ হয়ে যায়। কেউ জেতেন টুর্নামেন্ট সেরা ব্যাটারের খেতাব, তো কারও হাতে ওঠে সেরা বোলারের ট্রফি। তবে সদ্য সমাপ্ত আইপিএলের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান যেন একা হাতেই বদলে দিলেন এক কিশোর। আহমেদাবাদের জমকালো মঞ্চে ট্রফি নিতে পাঁচবারই হেঁটে এলেন বৈভব সূর্যবংশী।
বিহারের ১৫ বছর বয়সী এই বিস্ময় বালক একাই নিজের পকেটে পুরেছেন মোট ৫৫ লাখ রুপির প্রাইজমানি। সঙ্গে বোনাস হিসেবে পেয়েছেন একটি বিলাসবহুল ‘টাটা সিয়েরা’ গাড়ি; যদিও সেই গাড়িটি চালানোর আইনি বয়সই এখনো হয়নি তার!
বাঘা বাঘা সব ব্যাটারকে পেছনে ফেলে এবারের আসরে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের ‘অরেঞ্জ ক্যাপ’ জিতে নিয়েছেন বৈভব। পুরো মৌসুমে ২৩৭.৩১-এর মতো অভাবনীয় স্ট্রাইক রেট বজায় রেখে তিনি সংগ্রহ করেছেন মোট ৭৭৬ রান। অরেঞ্জ ক্যাপের পাশাপাশি ১০ লাখ রুপিও বুঝে নিয়েছেন এই তরুণ ওপেনার।
পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে এমন বিধ্বংসী স্ট্রাইক রেট ধরে রাখায় তার হাতে উঠেছে আসরের ‘সুপার স্ট্রাইকার’-এর পুরস্কার। এর স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন ১০ লাখ রুপি ও টাটা সিয়েরা গাড়ি। তবে সবচেয়ে বড় চমকটা তিনি দেখিয়েছেন ছক্কা হাঁকানোর ক্ষেত্রে। টি-টোয়েন্টি কিংবদন্তি ক্রিস গেইলের এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ছক্কা মারার রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন বৈভব। পুরো টুর্নামেন্টে মোট ৭২টি ছক্কা হাঁকিয়ে তিনি নিজের করে নিয়েছেন ‘সুপার সিক্সেস’ পুরস্কার, যার অর্থমূল্য আরও ১০ লাখ রুপি। এর মধ্যে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে এক ম্যাচেই তিনি হাঁকিয়েছিলেন ১২টি ছক্কা; যা ২০১০ সালের পর প্রথম কোনো ভারতীয় ব্যাটারের এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার কীর্তি।
একনজরে বৈভবের জেতা ৫টি পুরস্কার:
-
মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার (এমভিপি): ১৫ লাখ রুপি (৪৩৬.৫ রেটিং পয়েন্ট)
-
অরেঞ্জ ক্যাপ (সর্বোচ্চ রান): ১০ লাখ রুপি (৭৭৬ রান)
-
সুপার স্ট্রাইকার: ১০ লাখ রুপি ও টাটা সিয়েরা গাড়ি (২৩৭.৩১ স্ট্রাইক রেট)
-
সুপার সিক্সেস: ১০ লাখ রুপি (৭২টি ছক্কা)
-
ইমার্জিং প্লেয়ার: ১০ লাখ রুপি
ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে অনবদ্য প্রভাব রাখায় টুর্নামেন্টের সেরা ‘ইমার্জিং প্লেয়ার’ হওয়ার পাশাপাশি ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার’ (এমভিপি) নির্বাচিত হয়েছেন বাঁহাতি এই ব্যাটার।
ফাইনাল শেষে এতগুলো পুরস্কার হাতে নিয়ে উচ্ছ্বসিত সূর্যবংশী নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘দারুণ লাগছে। তবে কিছুটা চাপবোধ করছি, কারণ আমি সাক্ষাৎকার দিচ্ছি। এটি অবশ্যই আমার জন্য গর্বের মুহূর্ত এবং আমি চেষ্টা করব পরের মৌসুমেও এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে।’
নিজের প্রথম মৌসুম থেকে পাওয়া শিক্ষা নিয়ে এই তরুণ তুর্কি বলেন, ‘চাপের ম্যাচে কীভাবে খেলতে হয়, প্রতি ম্যাচে নিজেকে কীভাবে বদলাতে হয়- এগুলো শিখেছি। সব ম্যাচ একইভাবে খেলা যায় না, ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝতে হয় এবং দলের চাহিদা অনুযায়ী খেলতে হয়। এই মৌসুম থেকে এগুলোই আমার সবচেয়ে বড় শিক্ষা।’
ফিটনেস নিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন বৈভব, ‘হ্যাঁ, ফিটনেসের দিকে আমার বিশেষ মনোযোগ রয়েছে। লম্বা সময় ধরে খেলতে চাইলে ইনজুরি থেকে বাঁচতে হবে এবং নিজের ফিটনেস নিয়ে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করতে হবে।’



