সদ্যই পর্দা নেমেছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) আরও একটি সফল ও রোমাঞ্চকর আসরের। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক এই মেগা টুর্নামেন্টের রেশ কাটতে না কাটতেই পরের আসর নিয়ে ছক কষতে শুরু করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। প্রতি বছরই টুর্নামেন্টের শেষ ভাগে এসে মাত্রাতিরিক্ত গরম ও বৃষ্টির কারণে খেলোয়াড় থেকে শুরু করে দর্শকদের পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ। পরিস্থিতি সামাল দিতে আগামী আসর থেকেই আইপিএল শুরুর সূচি এগিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে বোর্ড।
২০২৬ সালের আইপিএল শুরু হয়েছিল ২৮ মার্চ, যা চলেছে ৩১ মে পর্যন্ত। দীর্ঘ এই সূচিতে এবার ইডেন গার্ডেন্সে কলকাতা নাইট রাইডার্স বনাম পাঞ্জাব কিংসের ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকটি ম্যাচে বৃষ্টির নেতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। এছাড়া এপ্রিল-মে মাসের প্রচণ্ড গরমে, বিশেষ করে দুপুরের ম্যাচগুলোতে খেলতে নেমে ক্রিকেটাররা বেশ ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন এবং অনেকেই চোটে পড়েছেন। তপ্ত রোদে গ্যালারিতে বসে খেলা দেখতে চরম অস্বস্তিতে ভুগেছেন দর্শকরাও।
সার্বিক দিক বিবেচনা করে আগামী বছর থেকে আইপিএল আরও আগে শুরু করার কথা ভাবছে বিসিসিআই। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘হিন্দুস্তান টাইমস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বোর্ডের যুগ্ম সচিব দেবজিৎ শাইকিয়া বলেন, ‘মাঝে বিরতির জন্য গত বছর আইপিএল এক সপ্তাহ বাড়াতে হয়েছিল। এবারও আসর ৩১ মে পর্যন্ত চলেছে। বেশ কয়েকটি জায়গায় অত্যধিক গরম ও বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে। তাই ভাবছি, আগামী বছর থেকে আসরটি আরও ১৫ দিন আগে শুরু করা যায় কি না।’
নতুন পরিকল্পনার রূপরেখা জানিয়ে শাইকিয়া বলেন, ‘এবার টুর্নামেন্ট ২৮ মার্চ শুরু হয়েছে। পরের বছর আমাদের চেষ্টা থাকবে ১৫ মার্চ আসর শুরু করার। তাহলে ১৫ মের মধ্যেই আইপিএল শেষ হয়ে যাবে। কারণ, মে মাসের শেষের দিকে বৃষ্টির আশঙ্কা বেশি থাকে এবং গরমও বাড়ে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ক্রিকেটার ও দর্শকদের ওপর। সূচি এগিয়ে আনলে এই সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে। তবে পুরো বিষয়টি আপাতত পরিকল্পনার পর্যায়ে রয়েছে, এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’
তবে আইপিএলের ব্যাপ্তি বা ম্যাচের সংখ্যা এখনই বাড়ানোর কোনো সম্ভাবনা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন এই বিসিসিআই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘লিগ আরও লম্বা হওয়ার সম্ভাবনা আপাতত নেই। দলের সংখ্যা বাড়ানো বা ম্যাচের সংখ্যা ৭৪ থেকে ৯৪ করতে হলে আন্তর্জাতিক সূচিসহ অনেক কিছু মাথায় রাখতে হয়। এটি পুরোপুরি আমাদের ওপর নির্ভর করছে না। ২০২৭ সালের পর এ বিষয়ে হয়তো নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।’

