রাত তখন পৌনে চারটা। ঘরের আলো নেভানো, শুধু হাত ১৫ ইঞ্চির ব্যবধানে থাকা ৫ ইঞ্চির স্ক্রিনটার তীব্র নীল আলো এসে পড়ছে ২০ বছর বয়সী সানজিদের (ছদ্মনাম) মুখে। চোখের নিচে গভীর কালো দাগ; কয়েক দিন ধরে ঠিকমতো ঘুম নেই, খাওয়া নেই।
দুই দিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি ট্রোল পেজে তার একটি বিকৃত ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তার নিচে হাজার হাজার ট্রোল, কুরুচিপূর্ণ কমেন্ট আর 'হা-হা' রিয়্যাক্টের বন্যা। প্রতিবার ফোনের নোটিফিকেশন টোন বেজে উঠছে, আর শিউরে উঠছেন সানজিদ। মনে হচ্ছে, এক অদৃশ্য সাইবার ভিড়ের মধ্যে তিনি নগ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, আর সবাই মিলে তাকে পাথর মারছে।
অনলাইন জগতে নারী নিরাপত্তাহীনতা ও সাইবার অপরাধের এক ভয়াবহ বাস্তবতার শিকার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী রাজিয়া সুলতানা (ছদ্মনাম)। বয়স মাত্র ২২ বছর। গত কয়েক মাস আগে তার ফেসবুকের একটি সাধারণ ছবি সংগ্রহ করে, তা কৃত্রিমভাবে বিকৃত (ডিজিটাল এডিট) ও নগ্ন অবস্থায় কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গ্রুপে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
ছবিটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও সম্পাদিত হওয়া সত্ত্বেও নেটিজেনদের কুৎসিত ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন রাজিয়া। চরম মানসিক ট্রমা ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়ে একপর্যায়ে তিনি আত্মহত্যার মতো চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিস্থিতিতে পৌঁছান।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে রাজিয়া টাইমস টুডেকে বলেন, 'হতাশা ও আতঙ্কে তখন কি করব বুঝতে পারছিলাম না। ফেসবুকের একটি সাধারণ ছবিকে এভাবে বিকৃত করে আমাকে এত বড় বিপদে ফেলা হবে তা কখনো কল্পনাই করতে পারিনি।
পরবর্তীতে তিনি সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের আইনি সাহায্য গ্রহণ করেন। ঘটনার সেই ক্ষত রাজিয়া কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করলেও, এই অভিজ্ঞতা তার স্বাভাবিক অনলাইন জীবনকে স্থবির করে দিয়েছে। সাইবার ট্রমার কারণে তিনি এখন আর ফেসবুকে নিজের কোনো ছবি প্রকাশ করতে সাহস পান না।
স্ক্রিনের আড়ালে ঢাকা অন্ধকার জগৎ
সানজিদ কিংবা রাজিয়া একা নন; প্রতিদিন দেশের হাজারো তরুণ-তরুণী স্ক্রিনের আলোয় ঢেকে থাকা এই অন্ধকার জগতের শিকার হচ্ছেন। একটি লাইক, শেয়ার কিংবা ইতিবাচক কমেন্টে যেমন- মুহূর্তেই মেজাজ চাঙ্গা হয়ে উঠছে তেমনি একটি বিকৃত ট্রোল বা অহেতুক কটু মন্তব্যের ধাক্কায় ভেঙে পড়ছে তাদের আত্মবিশ্বাস। অনিয়ন্ত্রিত স্ক্রিন আসক্তি এবং অব্যাহত সাইবার ট্রোলিংয়ের চক্রে পড়ে তরুণ সমাজের একটি বড় অংশ আক্রান্ত হচ্ছে গভীর বিষাদে যা অগোচরেই ধস নামাচ্ছে তাদের স্বাভাবিক জীবনে।
বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যদের জীবনের শুধু উজ্জ্বল ও সফল দিকগুলো প্রদর্শিত হয়। সেই রঙিন জীবনের সাথে নিজের সাধারণ বাস্তবতার মেলবন্ধন না করতে পেরে তরুণদের মনে বাসা বাঁধছে চরম হীনমন্যতা। দিনরাত অনবরত নোটিফিকেশন চেক করার মানসিকতা মানুষকে এক মুহূর্তের জন্যও শান্তিতে থাকতে দিচ্ছে না। এছাড়া, ট্রোলিংয়ের শিকার হওয়ার পর অনেকেই মনে করেন সব শেষ, কাউকে মুখ দেখানোর মতো অবস্থাও আর নেই।
বিস্তৃত সাইবার বুলিং ও প্রযুক্তির অপব্যবহার
বিশ্বের অন্যান্য দেশের থেকে বাংলাদেশে বর্তমানে সাইবার বুলিংয়ের পরিধি এখন অনেক বিস্তৃত। কাউকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করা, শারীরিক গঠন নিয়ে বিদ্রূপ, ভুয়া পরিচয়ে অপপ্রচার, ব্যক্তিগত কথোপকথনের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে দেওয়া, ছবি-ভিডিও বিকৃত করা, ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ, সংঘবদ্ধভাবে হেয় করা কিংবা ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা সবই এর অন্তর্ভুক্ত।
এর সা নতুন করে যুক্ত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর 'ডিপফেক' প্রযুক্তি। অর্থাৎ, যে কাজ একজন মানুষ কখনো করেননি, প্রযুক্তির সাহায্যে তাঁকেই সেই দৃশ্যের মধ্যে বসিয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। মিথ্যাকে বিশ্বাসযোগ্য দৃশ্যে রূপান্তরের এই সক্ষমতা সাইবার নিপীড়নকে আরও ভয়াবহ মাত্রায় নিয়ে গেছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে ঝুঁকি বেশি
ডিজিটাল যুগে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও সাইবার বুলিংয়ের মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে ঘায়েল করতে ভুয়া তথ্য এবং বিকৃত ছবি-ভিডিও ছড়িয়ে দিচ্ছে। সুপরিকল্পিতভাবে ফেক আইডি থেকে বিভিন্ন নেতিবাচক মন্তব্য ও ভিত্তিহীন গুজব ছড়িয়ে ব্যক্তির সম্মানহানি করা হচ্ছে যা সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চিকিৎসকদের মতামত ও পরিসংখ্যান
মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টানা স্ক্রিন দেখার অভ্যাস মস্তিষ্কের স্বাভাবিক ডোপামিন ও সেরোটোনিন হরমোনের নিঃসরণে গোলযোগ তৈরি করে। এর সাথে যখন সাইবার বুলিংয়ের অপমান যুক্ত হয় তখন একজন মানুষের স্বাভাবিক বিচারবুদ্ধি ও আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা লোপ পায়।
মানসিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমাদের দেশে শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে মানুষ খোলামেলা কথা বললেও মানসিক যন্ত্রণা লুকিয়ে রাখা হয়। ট্রোলিংয়ের শিকার হয়ে অনেকেই ভাবেন পুরো বিশ্বই বুঝি তার বিপক্ষে চলে গেছে। অথচ তরুণদের বুঝতে হবে যে স্ক্রিনের ওপাশের এই ভার্চুয়াল আঙিনা কখনোই পুরো জীবন নয়।
বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে ২০২৫ সালের ইউনিসেফের ইউ-রিপোর্ট (U-Report) প্ল্যাটফর্মের একটি জরিপ উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে। প্রায় ২৯ হাজার শিশু ও তরুণ-তরুণীর ওপর পরিচালিত এই জরিপে দেখা যায় ১৪% (প্রায় ৭ জনের ১ জন) সাইবার বুলিং ও নেতিবাচক মন্তব্যকে সবচেয়ে চাপসৃষ্টিকারী অভিজ্ঞতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন (মেয়েদের মধ্যে এই হার কিছুটা বেশি)। ১৪%: ক্ষতিকর বা মন খারাপ করার মতো কনটেন্টকে মানসিক চাপের প্রধান কারণ বলেছেন। আর ৫২%: বুলিং ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ঠেকাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কঠোর নিয়ম থাকার পক্ষে মত দিয়েছেন।
আইন বিদ্যমান, কিন্তু বিচার কতটা সহজ?
বাংলাদেশের 'সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫'-এ ডিজিটাল মাধ্যমে ব্ল্যাকমেইল, যৌন হয়রানি, রিভেঞ্জ পর্ন, সেক্সটর্শন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে নির্মিত বা সম্পাদিত ক্ষতিকর উপাদান প্রচারকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
তবে আইন থাকা সত্ত্বেও ভুক্তভোগীদের বিচার পাওয়া সহজ হচ্ছে না। আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা, সামাজিক লজ্জা এবং অভিযোগ করলে আরও অপমানিত হওয়ার ভয়ে অনেকেই নীরব থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।
বুলিংয়ের শিকার বেশি নারীরা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের ওপর সাইবার বুলিং ও অনাকাঙ্ক্ষিত হয়রানির ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন গবেষণা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, অনলাইনে মোট সাইবার অপরাধের শিকার ভুক্তভোগীদের মধ্যে সিংহভাগই নারী, যাদের বড় একটি অংশ কিশোরী ও তরুণী। ভুয়া আইডি তৈরি, অনুমতি ছাড়া ছবি বিকৃত বা ডিপফেক করা, ইনবক্সে কুরুচিপূর্ণ মেসেজ পাঠানো এবং ব্যক্তিগত তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার মতো অপরাধের মুখোমুখি হচ্ছেন তারা।
সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতার অভাব এবং সামাজিক ভীতির কারণে অনেকেই শুরুতে নীরব থাকেন, যা অপরাধীদের আরও সাহসী করে তোলে; তবে অনলাইনে নিরাপদে থাকতে ভুক্তভোগীদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাইবার সাপোর্ট সেলের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
চিকিৎসকদের মত
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতলের মানসিক রোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা.মোঃ রাজিবুর রহমান টাইমস টুডেকে বলেন, অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার এবং সাইবার বুলিং মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যে গভীর ও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে ।
তিনি বলেন, অতিরিক্ত মোবাইল আসক্তি নিজেই এখন একটি জটিল মানসিক রোগ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। মোবাইল ব্যবহারের কারণে মানুষের আনন্দ ও ভালো লাগা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন- ডোপামিন ও সেরোটোনিনের স্বাভাবিক নিঃসরণ নষ্ট হচ্ছে।
এর ফলে মানুষ বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একটি ডিভাইসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে বুঁদ থাকার কারণে পরিবার, পড়াশোনা, খেলাধুলা কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে মেশার আগ্রহ দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। এর চূড়ান্ত পরিণতিতে মানুষের মধ্যে মনোযোগহীনতা, খাবারে অরুচি, অনিদ্রা এবং বেঁচে থাকার ইচ্ছা হারিয়ে ফেলার মতো গুরুতর বিষণ্নতার লক্ষণ দেখা দিচ্ছে।
এছাড়াও সাইবার বুলিংকে মানসিক চাপের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে ডা. রাজিবুর রহমান বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্য মানুষের মনে মানসিক দ্বন্দ্ব ও স্ট্রেস তৈরি করে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ছবি বিকৃতি বা ব্যক্তিগত ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে বহু মানুষ প্রতিনিয়ত নিজের আত্মসম্মান ও প্রাইভেসি হারাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই তীব্র মানসিক চাপ বয়ে বেড়ানোর কারণে অনেকেই একপর্যায়ে ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হচ্ছেন।
আর যদি মানসিক সমস্যা দেখা দেই তাহলে কোনো অবহেলা না করে দ্রুত মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ বা সাইকিয়াট্রিস্টের শরণাপন্ন হতে হবে। একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রোগীর সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে এর সমাধান করতে পারেন।
সমাধানের পথ কোথায়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিষাদের চক্র ভাঙতে হলে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন ডিজিটাল ডিটক্স: প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময় ফোন পুরোপুরি দূরে সরিয়ে রেখে বাস্তব দুনিয়ায় সময় কাটানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। সন্তান বা প্রিয়জন হঠাৎ নিজের মধ্যে গুটিয়ে যাচ্ছে কি না, সেদিকে পরিবারের নজর রাখতে হবে এবং বন্ধুর মতো কথা বলার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। সাইবার ট্রোলিং বা বুলিং গোপন না রেখে পরিবারকে জানাতে হবে এবং প্রয়োজনে পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সহায়তা নিতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক টাইমস টুডেকে বলেন, দেশে সাইবার বুলিংয়ের মাত্রা দিন দিন আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। বর্তমানে সাইবার বুলিংয়ের ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ -এর অপব্যবহার এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ বা ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে এআই ব্যবহার করে ব্যক্তি আক্রমণ চালানো হচ্ছে। ভুয়া ছবি ও নাম ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন সব কুরুচিপূর্ণ উপাদান ছড়ানো হচ্ছে, যা একজন মানুষকে সামাজিকভাবে কলঙ্কিত করে এবং মানসিকভাবে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত করে তোলে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে সাইবার বুলিংয়ের সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছেন নারীরা। যদিও দেশে বিদ্যমান আইন রয়েছে তবে এর যথাযথ প্রয়োগ বা কার্যকারিতা দৃশ্যমান নয়। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কাউকে হেয় প্রতিপন্ন বা অপমান করে পার পেয়ে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ায় অপরাধীরা জবাবদিহিতার তোয়াক্কা করছে না। তাছাড়া, দায়িত্বশীল ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের সচেতনতার অভাব স্পষ্ট। একটি বড় অংশের ব্যবহারকারী কোনো নিয়ম-নীতির পরোয়া না করে যা খুশি তা-ই পোস্ট করছেন এবং কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের মাধ্যমে অন্যের ব্যক্তিগত মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করছেন।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কঠোর নির্দেশিকা প্রণয়ন এবং তার সঠিক বাস্তবায়ন জরুরি বলে মনে করেন এই অপরাধ বিশেষজ্ঞ। তার মতে, দ্রুত সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও সঠিক ব্যবহারবিধি প্রণয়ন করা না হলে এই সমস্যা অদূর ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
তিনি মনে করেন, ইন্টারনেটের সঠিক ব্যবহার নির্দেশিকা থাকলে চাইলেই যে কেউ কাউকে নিয়ে কটু মন্তব্য বা কটূক্তি করার সাহস পাবে না। এছাড়া, সরকার যদি এ বিষয়ে বিশেষ নজর দেয় তবে ব্যবহারকারীদের মধ্যে দায়িত্বশীল আচরণ বৃদ্ধি করা এবং আইনের দ্রুত ও কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। অপরাধ করে পার পাওয়া যাবে না এমন একটি ইতিবাচক পরিবেশ ও আইনের প্রয়োগ যখন ব্যবহারকারীরা দেখতে পাবেন, তখনই সাইবার জগতে সচেতনতা ও সতর্কতা আসবে।
সরকারও কঠোর অবস্থানে
এদিকে সাইবার বুলিং নিয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাইবার অপরাধ ও অনলাইন বুলিং প্রতিরোধ এবং প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন-২০২৬ নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আন্তর্জাতিক রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান,সরকার নাগরিকের বাকস্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষার বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন। সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যুক্তিসংগত বাধানিষেধ সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের মতপ্রকাশ ও গঠনমূলক সমালোচনার অধিকার রয়েছে।তিনি বলেন,গঠনমূলক সমালোচনা আর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে চরিত্রহনন বা গালিগালাজ এক নয়।

