...|...|...

সারাদেশ

স্কুলের ভেতর প্রকাশ্যে মারামারির কারণ কী ছিল, জানালেন শিক্ষক

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১১:২০
Shares
স্কুলের ভেতর প্রকাশ্যে মারামারির কারণ কী ছিল, জানালেন শিক্ষক

স্কুলে শিক্ষক–শিক্ষিকার মারামারি। ছবি: ভিডিও থেকে নেয়া

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে প্রধান শিক্ষক ও এক সহকারী শিক্ষিকার মারামারির ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। পরে জানা যায়, মারামারিতে জড়ানো দুই শিক্ষক সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জেরে ১০ থেকে ১২ দিন আগে এ ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন ও সহকারী শিক্ষক আসমা বেগমের মধ্যে ওই ধস্তাধস্তি ও মারামারি হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালে আফজাল হোসেন ও আসমা বেগমের বিয়ে হয়। তাদের এক মেয়ে রয়েছে। উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। প্রায় ১৪ বছর ধরে আলাদা থাকেন স্বামী-স্ত্রী। পারিবারিক বিরোধের জেরে তাদের মধ্যে আদালতে মামলাও চলছে। দুজনই ২০১১ সালের দিকে আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন।

প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন জানান, পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। মাঝেমধ্যে সেই বিরোধ বিদ্যালয় পর্যন্ত গড়ায়। ঘটনার দিনও একই বিরোধের জেরে তাদের মধ্যে মারামারি হয়। তার দাবি, সহকর্মী শিক্ষকদের দিয়ে তিনি ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করান।

বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে এমন ঘটনা ঘটানো ঠিক হয়নি বলে স্বীকার করেছেন আফজাল হোসেন। তিনি জানান, এর আগেও দুই থেকে তিনবার বিদ্যালয়ে তাদের মধ্যে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সহকারী শিক্ষক আসমা বেগমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ফুলবাড়িয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, ঘটনাটি ১০ থেকে ১২ দিন আগের। তবে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বুধবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হবে। বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।

আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে পাঁচজন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৯০ জনের বেশি।