...|...|...

বিশ্ব

সুপ্রিম কোর্টে ১০ দফা দাবি পেশ করলেন রাহুল গান্ধী

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১২:৩৭ | আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১:৩৮
Shares
সুপ্রিম কোর্টে ১০ দফা দাবি পেশ করলেন রাহুল গান্ধী

ছবি: সংগৃহীত

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীসহ ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শীর্ষ নেতারা। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের অংশ হিসেবে শীর্ষ আদালতে একটি যৌথ রিট আবেদন দাখিল করেছে কংগ্রেসের আইনি দল, যেখানে এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিতসহ ১০ ধরনের সুনির্দিষ্ট প্রতিকার ও স্বস্তির দাবি জানানো হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাহুল গান্ধী সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছানোর এক-দুই ঘণ্টা আগেই আইনজীবী এস প্রসাসনার মাধ্যমে এই রিট পিটিশনটি দাখিল করা হয়। আদালত নির্ধারিত বিকাল সাড়ে চারটার সময়সীমার মধ্যে রাহুল গান্ধী নিজে উপস্থিত হতে না পারায় তার আইনজীবীরা পিটিশনটি ফাইল করেন। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে মামলাটি ‘রাহুল গান্ধী বনাম নির্বাচন কমিশন অব ইন্ডিয়া’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মামলাটি বিচারাধীন উল্লেখ করে রাহুল গান্ধীর সাথে সাক্ষাৎ করতে অস্বীকৃতি জানান। এরপরই বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে এই যৌথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও জোরালোভাবে তুলেছেন বিরোধীরা।

ইন্ডিয়া জোটের এই বিশাল মার্চে রাহুল গান্ধীর সাথে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আরজেডির তেজস্বী যাদবসহ শীর্ষস্থানীয় বিরোধী নেতারা অংশ নেন।

এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবেদনে উল্লিখিত ১০ দফা দাবি ও প্রতিকারসমূহ:

১. সমস্ত রেকর্ড তলব করার নির্দেশ

বিতর্কিত বিশেষ নিবিড় সংশোধন সংক্রান্ত সমস্ত পূর্ণাঙ্গ ফাইল, চুক্তি, কার্যবিবরণী, বৈঠকের রেকর্ড এবং আপত্তির নথি আদালতে জমা দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া উচিত। এর মধ্যে প্রাসঙ্গিক ইসিনেট ও এরোনেট অ্যাক্সেস লগ এবং গত বছরের ২৪ জুন এসআইআর শুরু করার সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত ফাইলের নোট অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। সংবিধানের ১৪, ১৯ ও ২১ অনুচ্ছেদ এবং ৩২৫ ধারা রক্ষার্থে এই নির্দেশ চাওয়া হয়েছে।

২. এসআইআর সিদ্ধান্তের সাংবিধানিক বৈধতা পরীক্ষা

বিতর্কিত এসআইআর সিদ্ধান্তগুলো সংবিধানের ৩২৫ ধারা, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার (নিয়োগ, সেবাম শর্তাবলী ও কার্যকাল) আইন, ২০২৩-এর ১৮ ধারা এবং এস এন শেষন বনাম ভারত সরকার (১৯৯৫) মামলার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করার জন্য উপযুক্ত আদেশ জারি করতে হবে। যদি কোনো সিদ্ধান্ত যথাযথ আইনি কর্তৃত্ব ছাড়াই নেওয়া হয়ে থাকে, তবে তা বাতিল করতে হবে।

৩. দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও সংশোধনের দায়িত্বে থাকা সাংবিধানিক বা আইনি বিধানগুলো লঙ্ঘন করার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিতে হবে। প্রয়োজনে ১৯৫০ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৩২ ধারা অনুযায়ীও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

৪. আবেদনকারীর দাবির সুরাহা

বর্তমান পিটিশন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর ওপর নির্বাচন কমিশনকে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দিতে হবে। পাশাপাশি নিশ্চিত করতে হবে যে এসআইআর সংক্রান্ত প্রতিটি সিদ্ধান্ত যেন ২০২৩ সালের আইনের ১৮ ধারা অনুযায়ী এবং যথাযথ নথিবদ্ধকরণের মাধ্যমে নেওয়া হয়।

৫. অনলাইন ফর্ম-৬ সংশোধনের নির্দেশ

অনলাইনে উপলব্ধ ফর্ম-৬ যেন ১৯৬০ সালের ইলেকট্রর রেজিস্ট্রেশন রুলস অনুযায়ী নির্ধারিত ফর্মের সাথেই সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রযোজ্য নিয়ম অনুসরণ করে যথাযথ সংশোধনী আনা ছাড়া নির্ধারিত ফর্মে কোনো ধরনের পরিবর্তন করা যাবে না।

৬. স্বাধীন কমিটির মাধ্যমে অডিটের দাবি

সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি স্বাধীন কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়েছে, যেখানে প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্ট নাগরিকরাও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এই কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসআইআর চলাকালীন ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং সংশোধন সংক্রান্ত বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত ও অডিট পরিচালনা করবে। পাশাপাশি ভোটার ডেটাবেস অ্যাক্সেস, ইসিনেট ও এরোনেট-এর পরিবর্তন এবং ইভিএমের প্রযুক্তিগত নকশা ও নীতিমালার সামগ্রিক পর্যালোচনা করবে।

৭. বাদ পড়া ভোটারদের নাম ও কারণ প্রকাশের নির্দেশ

এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে যেসব নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, বুথভিত্তিক সেই ভোটারদের নাম প্রকাশের জন্য নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিতে হবে। এর পাশাপাশি প্রতিটি নাম বাদ পড়ার নির্দিষ্ট কারণ, বয়স ও লিঙ্গভিত্তিক পরিসংখ্যান জনসমক্ষে আনতে হবে এবং যোগ্য ভোটারদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার একটি কার্যকর ব্যবস্থা চালুর দাবি জানানো হয়েছে।

৮. নোটিশ ও শুনানি ছাড়া নাম বাদ না দেওয়ার নির্দেশ

আইন অনুযায়ী নোটিশ প্রদান এবং যুক্তিসঙ্গত শুনানির সুযোগ ছাড়া ভোটার তালিকা থেকে কোনো নাগরিকের নাম বাদ দেওয়া যাবে না। এছাড়া পাঞ্জাব ও অন্যান্য যেসব রাজ্যে নির্বাচন আসন্ন, সেখানে আইন দ্বারা নির্ধারিত কাট-অফ তারিখ পর্যন্ত যোগ্য ব্যক্তিদের ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করার অনুমতি দিতে হবে।

৯. চলমান এসআইআর প্রক্রিয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ

বর্তমান পিটিশনের বিষয়গুলোর সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত সমস্ত রাজ্যে চলমান বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখতে একটি অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ জারির দাবি জানানো হয়েছে। যোগ্য ভোটারদের অধিকার রক্ষা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই দাবি তোলা হয়েছে।

১০. আদালতের বিবেচনায় উপযুক্ত অন্যান্য আদেশ

মামলার সার্বিক তথ্য ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সততা এবং প্রত্যেক যোগ্য নাগরিকের ভোটাধিকার রক্ষার্থে এই আদালত উপযুক্ত ও প্রয়োজনীয় অন্য যেকোনো অতিরিক্ত আদেশ পাস করতে পারে—এমন প্রার্থনাও জানানো হয়েছে।