বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে রাতের আঁধারে প্রায় ১০ মণ পুরাতন রড ও লোহার দরজা চুরির অভিযোগে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর আলাউদ্দিন নগর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমানকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাজমুল হক সই করা এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
কারণ দর্শানো নোটিশে যা বলা হয়েছে: উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পাঠানো নোটিশে উল্লেখ করা হয়, প্রধান শিক্ষক তার প্রতিষ্ঠানের পুরাতন রড রাতের আঁধারে বিক্রি করেছেন, যা সরকারি মালামাল বিক্রির বিধিসম্মত নীতিমালার পরিপন্থী। এ ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ডের জন্য তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে কেন সুপারিশ করা হবে না—তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ জুলাই রাত ৮টার দিকে হঠাৎ করেই বিদ্যালয়ের সিসিটিভি নেটওয়ার্ক প্রায় আধা ঘণ্টার জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময়ের মধ্যেই প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান এবং নৈশপ্রহরী সিদ্দিকুর রহমান একটি ভ্যানে করে বিদ্যালয়ের গুদামঘর থেকে পুরাতন রড ও একটি লোহার দরজা সরিয়ে নেন।
বিদ্যালয়ের আইসিটি শিক্ষক আমিনুর রহমান রোকন জানান, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে রাতে প্রধান শিক্ষক, নাইটগার্ড ও একজন ভ্যানচালক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। এরপরই সিসিটিভি বন্ধ হয়ে যায়। ৩০ মিনিট পর পুনরায় সিসিটিভি চালু হলে ভ্যানে করে মালামাল নিয়ে যেতে দেখা যায়।
বিদ্যালয়ের পাশের বাসিন্দা মো. হাবিব বলেন, ‘ঘটনার রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফিরে দেখি স্কুলের লাইট বন্ধ এবং একটি ভ্যান দাঁড়িয়ে আছে। গুদামঘরের কাছে গিয়ে দেখি প্রধান শিক্ষক, নাইটগার্ড ও ভ্যানচালক মিলে রড টেনে বের করে ভ্যানে তুলছেন। এর আগেও তারা এভাবে রাতের আঁধারে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে গেছেন।’;
বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী রাহাত জানান, ‘আমরা রাতে স্কুলের ওয়াইফাই ব্যবহার করছিলাম। রাত ৮টার দিকে হেড স্যার এসে নেট বন্ধের কথা বলে আমাদের চলে যেতে বলেন। কিছুক্ষণ পর ভ্যান ভরে রড নিয়ে যেতে দেখি। মালামাল নিয়ে যাওয়ার পর স্যার আবার নেট চালু করে দেন।’
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান জানান, চুরির মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। শোকজের চিঠি হাতে পেয়েছেন এবং নির্ধারিত তিন কার্যদিবসের মধ্যেই এর লিখিত জবাব দেবেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নাজমুল হক বলেন, ‘সরকারি মালামাল রাতের আঁধারে বিক্রির প্রাথমিক সত্যতা ও অভিযোগের ভিত্তিতে প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হলে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


