...|...|...

বিশ্ব

সিরিয়ায় গ্যাস পাইপলাইনে বিস্ফোরণ, বন্ধ ৩ বিদ্যুৎকেন্দ্র

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১১:১৫
Shares
সিরিয়ায় গ্যাস পাইপলাইনে বিস্ফোরণ, বন্ধ ৩ বিদ্যুৎকেন্দ্র

ছবি: সংগৃহীত

সিরিয়ায় বাসে হামলার ঠিক আগমুহূর্তে দামেস্কের কাছে পূর্বাঞ্চলীয় গৌতা এলাকায় দেশের অন্যতম প্রধান বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছাকাছি একটি গ্যাস পাইপলাইনে বিস্ফোরণের খবর জানায় রাষ্ট্রীয় মাধ্যম। এর মাত্র দুই দিন আগে পূর্ব সিরিয়ায় আরেকটি পাইপলাইনে অন্তর্ঘাত বা নাশকতা চালানো হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সিরীয় ইলেকট্রিসিটি কোম্পানি জানিয়েছে, বিস্ফোরণের ফলে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেইর আলী, আল-নাসিরিয়াহ এবং তিশরিন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া বিস্ফোরণের পর তিশরিন বিদ্যুৎকেন্দ্রে একটি বড় অগ্নিকাণ্ডেরও সূত্রপাত হয়।

বুধবার গভীর রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জ্বালানিমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-বশির রাষ্ট্রীয় মাধ্যমকে জানান যে, আগুন বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা সেখানে কুলিং বা শীতলীকরণ অপারেশন পরিচালনা করছেন।

তিনি বলেন, তিশরিন বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিস্ফোরণের সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। এটি কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি, হামলা বা নাশকতাও হতে পারে। সঠিক কারণ নির্ণয় করতে শীতলীকরণ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর বিশেষজ্ঞ দলগুলো ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবে।

আল-বশির জানান, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মূল্যায়ন করার পর তিশরিন বিদ্যুৎকেন্দ্রটি মেরামতের কাজ শুরু হবে। তিশরিনের কাজ শেষ হওয়ার পর দেইর আলী প্লান্টটি পুনরায় চালু করতে ধীরে ধীরে গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি করা হবে।

এদিকে, সিরীয় ইলেকট্রিসিটি কোম্পানি সতর্ক করে জানিয়েছে যে, এই তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় জ্বালানি সংকট তীব্র হওয়ায় দেশজুড়ে বিদ্যুৎ রেশনিং বা লোডশেডিংয়ের সময় আরও বৃদ্ধি পাবে।

উল্লেখ্য, গত ছয় সপ্তাহের মধ্যে সিরিয়ার গ্যাস নেটওয়ার্কে আঘাত হানার এটি তৃতীয় কোনো বিস্ফোরণের ঘটনা। সিরিয়ান পেট্রোলিয়াম কোম্পানি জানিয়েছে, এর আগের দুটি ঘটনাই নাশকতা ছিল। তবে এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই বিস্ফোরণগুলোর দায় স্বীকার করেনি।

এর আগে, গত দুই সপ্তাহে সরকার ডিজেলের দাম ৪০ শতাংশ এবং পেট্রোলের দাম ২৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই সময় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, বৈশ্বিক জ্বালানি খরচের আকস্মিক বৃদ্ধির কারণেই এই মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে এবং এটি সাময়িক ব্যবস্থা।