দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে সীমান্ত উত্তেজনা প্রশমনে তুরস্কে গোপনে মুখোমুখি বৈঠকে বসেছে সিরিয়ার বর্তমান সরকার ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। রয়টার্সকে দেওয়া একাধিক আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দুই প্রতিপক্ষের মধ্যে বরফ গলাতে গত সেপ্টেম্বর মাসে এই স্পর্শকাতর বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
২০২৪ সালের শেষ দিকে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের পতনের পর দামেস্কের নতুন সরকার ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সীমানা ও অস্ত্র চোরাচালান নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থার আমন্ত্রণে আয়োজিত এই বৈঠকে সিরিয়ার পররাষ্ট্র ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বৈঠকে দুই পক্ষই পারস্পরিক নিরাপত্তা উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা করে। সিরিয়ার কর্মকর্তারা আশ্বাস দিয়েছেন, লেবাননে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করতে তারা কোনো সামরিক হস্তক্ষেপ করবে না।
বিনিময়ে সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র চোরাচালান বন্ধ করা এবং দক্ষিণ সিরিয়ায় থাকা হিজবুল্লাহর গোপন সেলগুলো নিষ্ক্রিয় করার আহ্বান জানিয়েছে দামেস্ক। হিজবুল্লাহ সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি দিলেও গোপন সেল ভেঙে দেওয়া প্রসঙ্গে সরাসরি কোনো স্পষ্ট জবাব দেয়নি।
প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের নেতৃত্বাধীন তুরস্ক এই অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে এই মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। তবে বৈঠকে হিজবুল্লাহর মূল পৃষ্ঠপোষক ইরানের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। আলোচনা ইতিবাচক হলেও দুই পক্ষের মধ্যে এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।


