...|...|...

সারাদেশ

শিশু নন্দিনী হত্যা মামলায় প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড

লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৩:২৪ | আপডেট: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১:৫৯
Shares
শিশু নন্দিনী হত্যা মামলায় প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে সাত বছরের শিশু নন্দিনী রানী হত্যা মামলায় প্রধান আসামি বিধান চন্দ্রকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় তার বাবা রনজিং কুমার রায়কে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২৩ আগস্ট) লালমনিরহাটের দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. হায়দার আলী এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের রায়ের নথি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের নলিনী মোহন বর্মণের সাত বছর বয়সী মেয়ে নন্দিনী রানী গত ১৫ জুন নিখোঁজ হয়। পরদিন ১৬ জুন সকালে স্থানীয় একটি ভুট্টাখেত থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নন্দিনীর বাবা থানায় মামলা করেন। 
মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ বিধান চন্দ্র ও তার বাবা রনজিং কুমার রায়ের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে আদালতে সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ, সাক্ষীদের সাক্ষ্য ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটির রায়ের জন্য ২৩ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়।
রায়ের নথিতে বলা হয়েছে, বিধান চন্দ্রের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৪০৪ ধারায় আনা অভিযোগের মধ্যে হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় মৃত্যুদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 
অপর আসামি রনজিং কুমার রায়কে দণ্ডবিধির ৪০৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রায়ের নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিধান চন্দ্রের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন অনুযায়ী উচ্চ আদালতের অনুমোদনসহ পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

নন্দিনী হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ১৬ জুন আসামিদের আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদিতমারীতে পুলিশ ও বিক্ষুব্ধ জনতার মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। এতে পুলিশসহ কয়েকজন আহত হন।

শিশু নন্দিনী হত্যার ঘটনায় দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছিলেন স্থানীয়রা।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে রবিবার এ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো। লালমনিরহাটের  জেলা  দায়রা জজ মো. হায়দার আলী রায় ঘোষণা করেন।