শিক্ষকসংকট, জরাজীর্ণ স্কুল ভবন ও অতিরিক্ত ক্লাসের চাপের প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দেশটির বিভিন্ন বিদ্যালয়ে অবরোধ, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের সাথে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সোমবার পর্যন্ত ১৮০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে এবং সহিংসতার অভিযোগে ১৬৪ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
গত ২১ সেপ্টেম্বর প্যারিসের উপকণ্ঠ ক্রেতেইয়ের একটি উচ্চবিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষকের দাবিতে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ এখন ফ্রান্সজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।
শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, পুরোনো ভবন সংস্কার এবং অতিরিক্ত ক্লাসের চাপ কমানোর পাশাপাশি শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে। আন্দোলনের মুখে অন্তত ১৫টি বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ কেন্দ্র করে দেশটির রাজনীতিতেও তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়া লকুরনু অভিযোগ করেন, কট্টর-বামপন্থী দল ‘ল্য ফ্রঁস ইনসুমিজ’-এর নেতারা আন্দোলনকারীদের সহিংসতায় ইন্ধন দিচ্ছেন। সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
অন্যদিকে দলটির নেতা জঁ-লুক মেলেনশ সরকারের কঠোর মনোভাবের সমালোচনা করে আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান এবং পুলিশের পদক্ষেপকে বর্ণবাদী আচরণ বলে আখ্যা দেন। তবে প্রধানমন্ত্রী এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এমন এক সময়ে এই ছাত্র বিক্ষোভ ছড়াল, যখন ২০২৭ সালের সাধারণ বাজেট ঘাটতি ও রেকর্ড ৩.৫৯৬ ট্রিলিয়ন ইউরো সরকারি ঋণ নিয়ে চাপের মুখে রয়েছে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখ্রোঁর সরকার।
জ্বালানি সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির মধ্যে আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন এখন ফ্রান্সের জাতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রধান ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।


