...|...|...

সারাদেশ

শখের বশে নার্সারি করে বছরে আয় ১০ লাখ টাকা

মাদারীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, দুপুর ১২:৫৭ | আপডেট: ২৪ আগস্ট ২০২৬, সকাল ৮:১৭
Shares
শখের বশে নার্সারি করে বছরে আয় ১০ লাখ টাকা

কবির হোসেন খানের শখের বাগান। ছবি: টাইমস টুডে

মাদারীপুরের কবির হোসেন খান শখের বসে দুই একর ২০ শতাংশ জমিতে গড়ে তুলেছেন নার্সারি। প্রতিবছর আমের মৌসুমে কমপক্ষে ১০ লাখ টাকার আম বিক্রি করেন। স্থানীয় অনেক যুবক তাকে দেখে আম বাগান করার উৎসাহ পাচ্ছেন।

জানা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার বকুলতলা এলাকার মৃত জয়নাল আবেদিন খানের ছেলে কবির হোসেন খান। ছোটবেলা থেকেই বাগান করার প্রতি তার ছিল প্রবল আগ্রহ। যখনই সুযোগ পেয়েছেন গাছ লাগিয়েছেন। তবে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ পেয়েছেন তার মা মৃত মাজেদা বেগমের কাছ থেকে। মা বাড়ির উঠোনের ফাঁকা জায়গা পেলেই গাছ লাগাতেন। তা দেখেই তিনি গাছের প্রতি আগ্রহ বাড়ে। এক পর্যায়ে তিনি বড় একটা নার্সারি করার স্বপ্ন দেখেন।

নিজের একসাথে বড় জায়গা না থাকায় একই উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের পখিরা এলাকায় আড়িয়াল খা নদের পাশে জমি লিজ নিয়ে গাছ লাগানো শুরু করেন।

২০১৬ সালে দুই একর ২০ শতাংশ জমির ওপর আম, কাঁঠালসহ নানা ধরনের ফুল, ফল ও সবজি লাগান। আস্তে আস্তে বাগানটি সমৃদ্ধ হতে থাকে। বর্তমানে তার নার্সারিতে ১০ প্রকারের আম গাছ, কাঠল, লিচুসহ নানা প্রকারের ফলের গাছ রয়েছে। এছাড়াও ২০ প্রকারের ফুল গাছ ও ১০ প্রকারের সবজি লাগিয়েছেন।

পরবর্তীতে ক্যাকটাসের প্রতি আকৃষ্ট হলে, আলাদাভাবে সেড দিয়ে তৈরি করেন ক্যাকটাস কর্ণার। সেখানে ২৫ প্রকারের ক্যাকটাস আছে। তবে আপাতত্ব ক্যাকটাস বিক্রি করছেন না। এগুলো থেকে বীজ তৈরি করে ক্যাকটাসের সংখ্যা বাড়াচ্ছেন। পরবর্তীতে এগুলোও বিক্রি করা হবে। এসব গাছের পাশাপাশি বিষমুক্ত টেড়শ, কচু, লতি, ডাটাসহ বেশ কয়েক জাতের সবজির গাছ লাগিয়েছেন। 

তার নার্সারিতে ৫ জন কর্মচারী কাজ করেন। ৫ জনকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিতে পেরেও খুশি কবির হোসেন খান।

তাছাড়া গত কয়েক বছর ধরে তিনি প্রতি মৌসুমে কমপক্ষে ১০ লাখ টাকার আম বিক্রি করেন। এছাড়াও বছরে আরো ৩ লাখ টাকার ফুল ও সবজি বিক্রি করেন। তার ফরমালিন ছাড়া আম কিনতে জেলাসহ আশে পাশের জেলা থেকেও আম পছন্দমতো আম পেরে তবেই কিনে নিয়ে আসেন। তাই ইতোমধ্যেই কবির হোসেন খানের এই আমবাগানের সুনাম জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে।

 আম কিনে আসা তামিম আদনান বলেন, ‘আমি এখানে আম কিনতে এসেছি কারণ বাজারে যে আম পাওয়া যায় তার মধ্যে ফরমালিন থাকে। তাছাড়া কবির হোসেন আমের দাম কম নেয়। প্রকার ভেদে প্রতি কেজি আম ৭০ টাকা থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি করেন। তাই আমি প্রতি বছর আমের মৌসুমে এখান থেকে পরিবারের জন্য আম কিনে থাকি। আমগুলোর স্বাদও অনেক ভালো।’

মাদ্রা থেকে ফুল গাছ নিতে আসা রকিব হাসান বলেন, ‘আমিও প্রতি বছর এখান থেকে আম কিনি তবে আজ এসেছি কিছু ফুল গাছ কিনতে। বাসার ছাদে বাগান করেছি তাই প্রায় সময় এখান থেকে গাছ কিনি। তার বিশাল আম বাগান দেখে আমিও ভাবছি ছিলারচরে আমার গ্রামের বাড়িতে খালি জায়গায় আম বাগান করবো। গাছ মানুষ ও পরিবেশের বন্ধু। তাই আমিও তাকে দেখে আম বাগান করার স্বপ্ন দেখছি।’

কবির হোসেন খান বলেন, ‘শখের বসেই এই নার্সারি গড়ে তুলেছি। তবে নিজ বাড়ি থেকে একটু দূরে হওয়ায় কিছুটা বেগ পেতে হয়। তবুও এই বাগানকে ঘিরেই আমার দিন চলে যায়। আস্তে আস্তে আমার বাগানে গাছের সংখ্যা বাড়ছে। এই নার্সারির জায়গাটি ১৫ বছরের জন্য লিজ নিয়ে শুরু করি। তবে এতটা সফল হবো তা ভাবিনি। আমাকে দেখে অনেক যুবক আম বাগান করার কথা ভাবছেন। অনেকেই এসে বাগান সম্পর্কে জানতে চান। শখের পাশাপাশি বাগানটা এখন পূর্ণতা পেয়েছে। ফুল আর ফলে ভরা থাকে আমার বাগান আর তা বিক্রি করে আমি আয়ও করছি, পাঁচ জনকে কাজের সুযোগ করে দিয়েছি। তাছাড়া একটি বাগান মানেই হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা। তাই সব মিলিয়ে এই বাগানকে নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন রয়েছে।’

মাদারীপুর সদর উপজেলা উপর-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আল-আমিন বলেন, ‘কবির হোসেন প্রতি বছর আম বিক্রি করে অনেক টাকা আয় করেন। যা আমাদের জন্য একটা উদাহরণ। শহরের বেশ কাছেই কবির হোসেনের এই সুন্দর বাগানটি জেলায় বেশ সুনাম অর্জন করেছে। আমরাও সরকারিভাবে তাকে নানা পরামর্শসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করে থাকি। তাকে দেখে অনেকেই আম বাগান করার ইচ্ছা পোষণ করছেন।’