ইউক্রেনের দিনিপ্রো শহর ও আশপাশের অঞ্চলে রাশিয়ার হামলায় জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ছয় লাখের বেশি মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন। সংবাদমাধ্যম আনাদোলু বলছে, রবিবার (৮ নভেম্বর) দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ তথ্য জানিয়েছেন।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জেলেনস্কি বলেন, রুশ বাহিনীর হামলায় ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে দিনিপ্রো ও খারকিভ অঞ্চলের পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন।
তিনি জানান, শনিবার সকালে কোমিশুভাখা এলাকায় একটি এফপিভি ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এর আগে বিমান হামলায় ৫৫ জন নিহত হওয়ার পর সেখানে টানা সপ্তম দিনের মতো উদ্ধার অভিযান চলছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে রাশিয়ার গোলাবর্ষণে ঝিতোমির অঞ্চলের ১৪০টি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের হিটিং ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে। জেলেনস্কি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় প্রতিটি শহর ও জনপদে বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জরুরি সেবা পুনরুদ্ধারে মেরামতের কাজ চলছে।
ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টের দাবি, গত এক সপ্তাহে দেশটির বিভিন্ন শহর ও জনপদ লক্ষ্য করে ১১৫টি ক্ষেপণাস্ত্র, প্রায় এক হাজার ৯০০টি গাইডেড বোমা এবং তিন হাজারের বেশি হামলাকারী ড্রোন ব্যবহার করেছে রাশিয়া। এসব হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের একটি বড় অংশ চলতি বছরেই তৈরি করা হয়েছে।
জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের নিয়মিত সরবরাহ করছে ইউক্রেন। একই সঙ্গে রুশ সামরিক উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, “যদি ইউক্রেনের আকাশসীমা রক্ষার জন্য বিশ্বের কাছে পর্যাপ্ত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র-প্রতিরোধ সক্ষমতা না থাকে, তবে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে উৎপাদন পর্যায়েই থামিয়ে দিতে হবে।”
এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের আসন্ন ২২তম নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন জেলেনস্কি। ইউরোপীয় দেশ ও জি-৭ জোটের সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
তবে ইউক্রেনের এসব দাবির বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। চলমান যুদ্ধের কারণে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করাও কঠিন।


