...|...|...

সারাদেশ

যে গ্রামে ‘দুর্গা’ নিজে এসেছেন, ২৬ বছরের অলৌকিক ইতিহাস

রাজন হোসেন তৌফিক, মৌলভীবাজার
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:২৯ | আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৩৪
Shares
যে গ্রামে ‘দুর্গা’ নিজে এসেছেন, ২৬ বছরের অলৌকিক ইতিহাস

শ্রীশ্রী দুর্গা বাড়ী। ছবি: টাইমস টুডে

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শান্ত, নিরিবিলি অলহা গ্রাম। এই শান্ত গ্রামেই আজ থেকে ২৬ বছর আগে ঘটেছিল এক অলৌকিক ঘটনা। যেখানে ভক্তদের সমস্যা, সেখানেই মা সমাধান করে দেন - এমনটাই দাবি ভক্ত-সেবকদের। ভারতে লক্ষ লক্ষ মন্দির থাকার পরও এই মন্দিরে ভারত থেকেও ছুটে আসেন ভক্তরা। সংসার, চাকরি, রোগ-ব্যাধি - যে সমস্যা নিয়েই এই মন্দিরে আসেন, সমাধান মেলে- এমন বিশ্বাস হাজারো মানুষের।

এই গ্রামেই জন্ম নিয়েছিল এক নতুন তীর্থস্থানের। নাম তার শ্রীশ্রী দুর্গা বাড়ী।

সময়টা ১৪০৬ বঙ্গাব্দ, ১৯শে আশ্বিন। ইংরেজি ৩রা অক্টোবর, ২০০০ সাল। ভক্তদের বিশ্বাস মতে, এই দিনেই দেবী দুর্গা মা তার রাঙা চরণের চিহ্ন রেখে যান অলহার এই মাটিতে। সেই থেকেই এই স্থানটি হয়ে ওঠে পবিত্র। নামকরণ করা হয় 'শ্রীশ্রী দুর্গা বাড়ী'।

শুরুতে এখানে কোনো মূর্তি ছিল না, ছিল না কোনো পাকা মন্দির। ভক্তরা মায়ের ঘট স্থাপন করে পূজা শুরু করেন। এটিই ছিল এই দুর্গা বাড়ীর প্রথম রূপ।

মন্দিরের সেবক নিতাই দেবনাথ বলেন, কথিত আছে দেবী স্বপ্নাদেশে তার পূজার নিয়ম বলে দেন। সেই নির্দেশ মেনেই শুরু হয় নিত্যসেবা। যা আজও অব্যাহত আছে। প্রতিদিন সকালে ফলভোগ, দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে অন্নভোগ, রাতে পুনরায় ফলভোগ - একদিনের জন্যও বন্ধ হয়নি এই সেবা। গত ২৬ বছরে একদিনও বন্ধ হয়নি মায়ের ভোগ।

শুধু নিত্যপূজা নয়, দেবী চেয়েছিলেন পূর্ণাঙ্গ পূজা। আশ্বিন মাসের নবমী পূজার চার বছর পর, আবারও আসে দেবীর নির্দেশ। নির্দেশ আসে চার দিনব্যাপী পূর্ণ দুর্গাপূজার আয়োজন করার। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৪ সাল থেকে অলহার দুর্গা বাড়ীতে সকল ভক্তদের সহযোগিতায় শুরু হয় চার দিনের শারদীয় দুর্গাপূজা। সেই থেকে একটানা চলছে এই আয়োজন।

সময়ের সাথে সাথে ভক্ত বেড়েছে, বেড়েছে মন্দিরের পরিধি। ২০১৯ সালের ৪ এপ্রিল, আবারও মায়ের নির্দেশ আসে বিগ্রহ বড় করার। ভক্তরা বিশ্বাস করেন, মায়ের অপার কৃপাতেই তা সফলভাবে সম্পন্ন হয়। ছোট ঘট থেকে আজকের এই বিশাল, সুসজ্জিত বিগ্রহ ও মন্দির - সবই ভক্তি আর বিশ্বাসের ফসল।

এ বিষয়ে সেবাইত ও মন্দির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য শ্রী নিতাই দেবনাথ বলেন, ২০০০সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রতিটি ভক্তের নিরলস পরিশ্রম ও সহযোগিতায় আজকের এই দুর্গা বাড়ী। প্রতিটি ইট, প্রতিটি ধূলিকণায় মিশে আছে তাদের অবদান। মায়ের কৃপায় এই মন্দির আজ হাজারো মানুষের ভরসার স্থল।

স্থানীয় ভক্তরা জানান, সংসারের অশান্তি, চাকরির সমস্যা, রোগ-ব্যাধি নিয়ে যারাই মায়ের কাছে এসেছেন, মা কাউকে খালি হাতে ফেরাননি। তাই শুধু মৌলভীবাজার নয়, সিলেট বিভাগসহ ভারত থেকেও প্রতিদিন ভক্তরা এখানে ছুটে আসেন।

একটি ঘটনা থেকে একটি তীর্থস্থান। বিশ্বাস থেকে ইতিহাস। অলহার শ্রীশ্রী দুর্গা বাড়ী তাই শুধু একটি মন্দির নয়, এটি হাজারো মানুষের আবেগ, বিশ্বাস ও ২৬ বছরের এক জীবন্ত ইতিহাস। যেখানে আজও ভক্তরা বিশ্বাস করেন - মা নিজে এসে দাঁড়ান ভক্তের পাশে।