যুব উন্নয়ন অধিদফতরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দুই কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। শনিবার পৃথক অফিস আদেশের মাধ্যমে তাদের বরখাস্তের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বরখাস্ত হওয়া দুই কর্মী হলেন এনবিআরের কেন্দ্রীয় কর জরিপ অঞ্চলে কর্মরত অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং উৎসে কর ব্যবস্থাপনা ইউনিটের অফিস সহায়ক মো. নুর মোহাম্মদ।
এর আগে শুক্রবার বিকেলে ঢাকার কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পাঁচ সরকারি কর্মচারীসহ সাতজনকে গ্রেফতারের তথ্য জানানো হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে এনবিআরের এই দুই কর্মীও রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের স্ট্যাম্প, ব্যাংকের চেক, সনদপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র, পরীক্ষার প্রবেশপত্র ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক তদন্তে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেফতার ব্যক্তিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র পাওয়ার কথা বললেও এ দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য তথ্য দিতে পারেননি বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
যুব উন্নয়ন অধিদফতরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের ২৪২টি শূন্যপদে নিয়োগের জন্য গত ১০ অক্টোবর বাছাই পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। পরীক্ষায় অংশ নিতে আবেদন করেছিলেন ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সকাল ১১টায় পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ওই দিন সকাল ১০টা ৩ মিনিটে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পরীক্ষা স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার পর ছায়া তদন্ত শুরু করে এসআরবি। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় গত ১১ অক্টোবর মতিঝিল থানায় মামলা করে যুব উন্নয়ন অধিদফতর।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রেফতার ব্যক্তিদের একজন মো. রুবেল ইসলাম পরিবেশ অধিদফতরে ডেটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে কর্মরত।
এনবিআরের কর্মীদের মধ্যে কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলাম (৩৫), জাহাঙ্গীর (৩৮) এবং অফিস সহায়ক নুর মোহাম্মদের (৩০) নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া আসাদুল ইসলাম (৩৩) নামে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন অফিস সহায়ক রয়েছেন।
গ্রেফতার অন্য দুজন হলেন চাকরিপ্রার্থী মো. মফিজুল ইসলাম (২৩) ও মো. হাসিনুর রহমান সুজন (৩২)।


