ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের অবৈধ বসতিগুলোর সাথে বাণিজ্য নিষিদ্ধের উদ্যোগ নেওয়ায় যুক্তরাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে পাল্টা নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানিয়েছেন দুই ইসরায়েলি মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোটরিচ।
ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ যুক্তরাজ্যের এই পদক্ষেপকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ আখ্যা দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের ওপর পাল্টা নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার দাবি জানান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কাছে।
এক টুইটে বেন-গভির দাবি করেন, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ মূলত আর্জেন্টিনার ভূখণ্ড, যা যুক্তরাজ্য দখল করে খনিজ সম্পদ লুট করছে। তাই ব্রিটিশ দখলদারিত্ব বজায় থাকা পর্যন্ত ফকল্যান্ডের ওপর আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দিয়ে যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলি অবৈধ বসতিগুলোর সাথে বাণিজ্য বন্ধসহ একগুচ্ছ বিধিনিষেধের ঘোষণা দিতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। এর আগেই ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদোন সার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, যুক্তরাজ্য কোনো পদক্ষেপ নিলে তারাও হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। খবর নিয়ে জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনও ব্রিটিশ সরকারের এই উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করছে।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। সম্প্রতি আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ার মিলেই ফকল্যান্ডে তাদের সার্বভৌমত্বের দাবি তোলেন এবং তেল উত্তোলনকারী কোম্পানিগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দেন।
এদিকে গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, আর্জেন্টিনা যদি ফকল্যান্ড আক্রমণ করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো যুক্তরাজ্যের পাশে দাঁড়াবে না।


