...|...|...

সারাদেশ

যশোরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার চেষ্টা, দুই পুলিশ বরখাস্ত

যশোর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২ নভেম্বর ২০২৬, রাত ৮:৪৩
Shares
যশোরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার চেষ্টা, দুই পুলিশ বরখাস্ত

যশোরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার ঘটনায় দুই পুলিশ বরখাস্ত। ছবি: সংগৃহীত

যশোর শহরের বকুলতলায় অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দায়িত্বরত দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৪১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রবিবার (১ নভেম্বর) দিবাগত রাত ৪টা ৫১ মিনিট থেকে ৫২ মিনিটের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মোটরসাইকেলে আসা তিন ব্যক্তি স্মৃতিস্তম্ভের দক্ষিণ পাশে পলিথিন ও দাহ্য পদার্থ দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে প্যারিস রোডের দিকে পালিয়ে যায়। এতে স্মৃতিস্তম্ভের দক্ষিণ পাশের কিছু অংশ কালচে হয়ে গেলেও মূল স্থাপনা অক্ষত রয়েছে।

এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুই পুলিশ সদস্য হলেন এএসআই জাহিদ ইসলাম ও কনস্টেবল নায়েক মুসা বিশ্বাস।

যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। মোটরসাইকেল ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে অভিযান চলছে। স্মৃতিস্তম্ভ এলাকায় ২৪ ঘণ্টা পুলিশি পাহারার ব্যবস্থা থাকলেও দায়িত্বে অবহেলার কারণে দুই সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, সোমবার ফজরের জামাতের পর শহরের লালদীঘি এলাকা থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীদের একটি ঝটিকা মিছিল বের হয়। মিছিলটি মাইকপট্টি এলাকা প্রদক্ষিণ করে। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে শেখের বেটি আইতাছে স্লোগান দিতে দেখা যায় মিছিলকারীদের। পুলিশ জানায়, এ ঘটনার পর জেলাজুড়ে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৪১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারদের মধ্যে কোতোয়ালি থানায় ১৭ জন, অভয়নগরে ৪ জন, চৌগাছায় ২ জন, মনিরামপুরে ৩ জন, শার্শায় ২ জন, কেশবপুরে ৩ জন, বাঘারপাড়ায় ৪ জন, বেনাপোলে ৪ জন এবং ঝিকরগাছায় ২ জন রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে নাশকতা ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জুলাই আন্দোলনের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা। যশোর জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো একক রাজনৈতিক দলের অর্জন নয়; এটি ছাত্র-জনতার সম্মিলিত আন্দোলনের ফসল। স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিয়ে ইতিহাস মুছে ফেলা সম্ভব নয়। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

এদিকে, সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের সামনে জড়ো হন ছাত্র-জনতা। পরে তারা প্রতিবাদ মিছিল করেন। মিছিলে নেতৃত্ব দেন যশোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব রাজেদুর রহমান সাগর, এনসিপির যশোর জেলা কমিটির আহ্বায়ক নুরুজ্জামান এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যশোর জেলা মুখপাত্র সাঈদ সানসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, যশোরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর কোনো চেষ্টা বরদাশত করা হবে না। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত এবং নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।