...|...|...

ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহ বোর্ডে এসএসসির ফলে মেয়েদের জয়জয়কার, পাসের হার ৫৭.৩৯%

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ১:১৯ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১১:৪৯
Shares
ময়মনসিংহ বোর্ডে এসএসসির ফলে মেয়েদের জয়জয়কার, পাসের হার ৫৭.৩৯%

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ময়মনসিংহের অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত ফলাফলে সার্বিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৭.৩৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ৫,৭০০ জন শিক্ষার্থী। ফলাফলের সার্বিক চিত্রে দেখা গেছে, পাসের হার ও মেধা-উভয় সূচকেই ছেলেদের পেছনে ফেলে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছে মেয়েরা।

শিক্ষা বোর্ড সূত্রের তথ্যমতে, এ বছর মোট ১,০৯,৬১৩ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করলেও বাস্তবে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১,০৫,০২৮ জন। এদের মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ছিল ৫৩,৮৭৭ জন এবং ছাত্রী ছিল ৫১,১৫১ জন। পরীক্ষা শেষে সর্বমোট ৬০,২৭৪ জন শিক্ষার্থী কৃতকার্য হতে পেরেছে।


পাসের হার ও জিপিএ-৫ এ মেয়েদের দাপট

চলতি বছরের ফলাফলে পাসের হারে ছেলেদের চেয়ে ৯.৭ শতাংশ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা। যেখানে ছাত্রীদের পাসের হার ৬২.৩৭ শতাংশ (৩১,৯০২ জন পাস), সেখানে ছাত্রদের পাসের হার নেমে এসেছে ৫২.৬৬ শতাংশে (২৮,৩৭২ জন পাস)।

শুধু পাসের হারেই নয়, সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ অর্জনেও মেয়েরা এগিয়ে। জিপিএ-৫ প্রাপ্ত মোট ৫,৭০০ জনের মধ্যে ৩,০৭৯ জন ছাত্রী এবং ২,৬২১ জন ছাত্র।

বিভাগভিত্তিক ফলাফল শীর্ষে বিজ্ঞান, তলানীতে মানবিক শাখাভিত্তিক পাসের হারে বড় ব্যবধান লক্ষ্য করা গেছে। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা দারুণ সাফল্য দেখালেও মানবিক বিভাগে পাসের হার অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে।

বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার সবচেয়ে বেশি-৭১.৮৭ শতাংশ। এরপরেই ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৪৮.৯১ শতাংশ। অন্যদিকে সবচেয়ে খারাপ করেছে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা, যেখানে পাসের হার মাত্র ৪৬.১২ শতাংশ।

জেলাওয়ারি ফলাফলে শীর্ষে নেত্রকোণা, পেছনে শেরপুর ময়মনসিংহ বোর্ডের আওতাধীন ৪টি জেলার মধ্যে জিপিএ ও পাসের হার বিবেচনায় প্রথম স্থান অধিকার করেছে নেত্রকোণা জেলা। জেলাটিতে সর্বোচ্চ ৬০.৪৯ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাস করেছে। জেলাভিত্তিক পাসের হারে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ময়মনসিংহ জেলা (৫৭.৮০ শতাংশ), তৃতীয় জামালপুর জেলা (৫৫.৬০ শতাংশ) এবং সর্বনিম্ন পাসের হার নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে শেরপুর জেলা (৫৫.৪১ শতাংশ)।

গ্রেডভিত্তিক ফলাফলের বিস্তারিত বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ এ ও এ মাইনাস গ্রেড অর্জন করেছে।

জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৫,৭০০ জন ছাড়াও জিপিএ ৪.০০ থেকে ৫.০০ এর নিচে পেয়েছে ১৫,৭২৭ জন শিক্ষার্থী। জিপিএ ৩.৫০ থেকে ৪.০০ এর মধ্যে অবস্থান করছে ১৩,৭৭৯ জন। এছাড়া জিপিএ ৩.০০ থেকে ৩.৫০ পেয়েছে ১৪,২৭০ জন, জিপিএ ২.০০ থেকে ৩.০০ পেয়েছে ১০,৫৪৮ জন এবং জিপিএ ১.০০ থেকে ২.০০ এর মধ্যে পেয়ে পাস করেছে ২৫০ জন শিক্ষার্থী।

শতভাগ সাফল্য ও ব্যর্থতার চিত্র

বোর্ডের অধীনে থাকা মোট ১,০৪৪ টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ বছর ১৮৮ টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল। এর মধ্যে ১০ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করার গৌরব অর্জন করেছে।

তবে এর বিপরীত চিত্রও রয়েছে-বোর্ডের ৪টি প্রতিষ্ঠান থেকে একজন পরীক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি, অর্থাৎ শতভাগ অকৃতকার্য হয়েছে।