...|...|...

তথ্যপ্রযুক্তি

মুদি কেনাকাটা থেকে পেমেন্ট, এবার সবই করবে এআই

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১১:৫৪ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৫:৪১
Shares
মুদি কেনাকাটা থেকে পেমেন্ট, এবার সবই করবে এআই

ছবি: এআই জেনারেটেড

ভারতে এমন একটি নতুন পেমেন্ট কাঠামো তৈরির প্রস্তুতি চলছে, যার মাধ্যমে আগে থেকে ঠিক করে দেওয়া নিয়ম মেনে এআই এজেন্ট ব্যবহারকারীর পক্ষে ছোট অঙ্কের ডিজিটাল লেনদেন সারতে পারবে, প্রতিবার আলাদা করে অনুমতি না নিয়েই। দেশের জনপ্রিয় ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস (ইউপিআই)- এর ভিত্তিতেই এই কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে।

এই প্রস্তাবিত ব্যবস্থার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইউনিফায়েড এজেন্ট প্রটোকল’ (ইউএপি)। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউএপি চালু হলে এজেন্টিক পেমেন্টের জন্য জাতীয় পর্যায়ে অবকাঠামো তৈরিকারী প্রথম দেশগুলোর তালিকায় জায়গা করে নিতে পারে ভারত।

ইউপিআই পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল পেমেন্টস করপোরেশন অব ইন্ডিয়া (এনপিসিআই) শিল্প খাতের সাথে আলোচনা করে এই প্রটোকল তৈরির কাজ করছে।

কখন আসছে ঘোষণা

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন এই ব্যবস্থা কোনো আলাদা নেটওয়ার্কে নয়, বরং বিদ্যমান ইউপিআইয়ের ওপর ভিত্তি করেই চালু হবে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, আগামী সপ্তাহে মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিতব্য গ্লোবাল ফিনটেক ফেস্টে এটি সামনে আনা হতে পারে। 

২০২৬ সালের এই আয়োজন ৯ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর মুম্বাইয়ের জিও ওয়ার্ল্ড সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে এজেন্টিক এআই অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হিসেবে রাখা হয়েছে। তবে এনপিসিআই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

যেভাবে কাজ করবে ব্যবস্থাটি

নতুন কাঠামোয় ব্যবহারকারী নিজেই এআই এজেন্টের জন্য নিয়ম বেঁধে দিতে পারবেন- কোন ধরনের পণ্য কেনা যাবে, সর্বোচ্চ কত টাকা খরচ করা যাবে বা কোন পরিস্থিতিতে লেনদেন সম্পন্ন হবে। এতে প্রতিটি কেনাকাটায় ব্যবহারকারীকে নিজে গিয়ে অনুমোদন দিতে হবে না। প্রাথমিকভাবে মুদি পণ্যসহ নিয়মিত ও অপেক্ষাকৃত কম মূল্যের কেনাকাটায় এই ব্যবস্থা ব্যবহারের কথা ভাবা হচ্ছে।

নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ

স্বয়ংক্রিয় লেনদেনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু সুরক্ষা ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। খরচের সীমা নির্ধারণ, পরিচয় যাচাই এবং লেনদেনের নিরীক্ষণ-ব্যবস্থার পাশাপাশি এনপিসিআই দায়বদ্ধতা-সংক্রান্ত একটি পৃথক কাঠামোও তৈরি করবে বলে জানা গেছে।

বর্তমানে ইউপিআইয়ের ‘রিজার্ভ পে’ সুবিধার মাধ্যমে ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ১০ হাজার রুপি পর্যন্ত অর্থ ৯০ দিন পর্যন্ত আটকে রাখার সুযোগ দেয়, যদিও এজেন্টিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই সীমা পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।

বিশ্বজুড়ে একই দৌড়

শুধু ভারত নয়, এআই এজেন্টের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় কেনাকাটার প্রতিযোগিতা চলছে বিশ্বজুড়েই। মাস্টারকার্ড গত জুনে নয়াদিল্লিতে একটি প্রমাণীকৃত এজেন্টিক লেনদেন সম্পন্ন করেছে, আর ভিসাও ভারতের জন্য নিজস্ব এজেন্টিক পেমেন্ট সক্ষমতা নিয়ে কাজ করছে।

ফিনটেক প্রতিষ্ঠান পাইন ল্যাবস একই মাসে চালু করেছে তাদের নিজস্ব ‘পি৩পি’ ব্যবস্থা, যা একবার অনুমতি নেওয়ার পর এআই এজেন্টকে ইউপিআই লেনদেন সারার সুযোগ দেয়।

আরও একধাপ এগিয়ে, এনপিসিআই রেজরপে ও ওপেনএআইয়ের সাথে মিলে চ্যাটজিপিটির মধ্যেই সরাসরি ইউপিআই পেমেন্ট চালুর একটি পাইলট প্রকল্প শুরু করেছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এদিকে ওপেনএআই স্ট্রাইপের সাথে অংশীদারত্বে নিজস্ব ‘এজেন্টিক কমার্স প্রটোকল’ এবং গুগল আলাদাভাবে ‘এজেন্ট পেমেন্টস প্রটোকল’ নিয়ে এসেছে, যাতে এআই এজেন্ট ব্যবহারকারীর পক্ষে লেনদেন করতে পারে।

তবে ইউপিআইয়ের মতো একটি জাতীয় পেমেন্ট নেটওয়ার্কে এআই এজেন্টকে সরাসরি প্রবেশাধিকার দেওয়া হলে নিরাপত্তা, দায়বদ্ধতা ও ব্যবহারকারীর নিয়ন্ত্রণ কতটা সুনির্দিষ্ট থাকবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুততা আর কড়া ভোক্তা-সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে পারলেই এই ব্যবস্থা বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্যও একটি মডেল হয়ে উঠতে পারে।