...|...|...

রাজনীতি

মালয়েশিয়ায় যেতে ৮ লাখ টাকা খরচ কোনোভাবেই ন্যায্য নয়: আসিফ মাহমুদ

টাইমস টুুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ২:৪৫ | আপডেট: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৩২
Shares
মালয়েশিয়ায় যেতে ৮ লাখ টাকা খরচ কোনোভাবেই ন্যায্য নয়: আসিফ মাহমুদ

এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, প্রবাসী শ্রমবাজারের সিন্ডিকেট, বিমান টিকিটের চড়া দাম এবং দেশের জ্বালানি সংকট নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। 

সোমবার (৩১ আগস্ট) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এবং নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা জানান তিনি।

বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পররাষ্ট্রনীতি থেকে শুরু করে দেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি পরিস্থিতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন আসিফ মাহমুদ। মক্কা প্যাক্টে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে সরকারের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা মক্কা প্যাক্টে যুক্ত হওয়া নিয়ে সরকারের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছি।’

তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ ও কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অবশ্যই সবার সাথে সম্পর্ক রাখার দরজা খোলা রেখেই যেকোনো বাণিজ্যিক বা সামরিক চুক্তিতে যাওয়া প্রয়োজন। কোনো একটি পক্ষের সাথে সম্পর্ক গভীর করতে গিয়ে যেন অন্য কোনো রাষ্ট্রের সাথে আমাদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।’

দেশের বর্তমান গ্যাস, তেল ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘অতিরিক্ত দাম ও ভুতুড়ে বিল পরিশোধের পরও নাগরিকরা পর্যাপ্ত গ্যাস ও বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। এতে দেশের পরিস্থিতি ২০০৫ সালের আগের সময়ের মতো সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে।’

প্রবাসী শ্রমবাজার ও বিমান টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসিফ মাহমুদ জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সৌদি আরবের বিমান টিকিটের দাম প্রায় ৩৫০ ডলার বা প্রায় ৪০ হাজার টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছিল। অথচ বর্তমানে সিন্ডিকেটের কারসাজিতে একই টিকিটের দাম ৬০ থেকে ৭০ হাজার, এমনকি ৮০ হাজার টাকায় ঠেকেছে। দেশের বিভিন্ন খাতে নতুন করে সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি সক্রিয় হয়ে ওঠায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিশেষ করে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের উদাহরণ টেনে এনসিপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘অন্যান্য দেশের কর্মীদের তুলনায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের মালয়েশিয়ায় যেতে প্রায় ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হচ্ছে, যা কোনোভাবেই একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা ন্যায্য পরিস্থিতি নয়।’ প্রবাসী কর্মীদের বিদেশ যাওয়ার খরচ কমাতে এবং মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান তিনি।

এছাড়া ১১ দলীয় জোট ঘোষিত লংমার্চ কর্মসূচি সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আসিফ মাহমুদ বলেন, এটি একটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক শক্তির প্রতিবাদের সক্ষমতা এর ওপরই নির্ভর করে। লংমার্চের উদ্দেশ্য কেবল সংস্কারের প্রতিশ্রুতি নয়, বরং বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ও অর্থনৈতিক দুরবস্থার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের কষ্টগুলো সরকারের সামনে তুলে ধরা। ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরে তিনি দেশবাসী, সহযোদ্ধা, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন।