ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করায় চীনের অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বেইজিংয়ের এই অবস্থানকে “অবৈধ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে নীতিগত বিবৃতি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) গালফ নিউজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে অবৈধ নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করায় চীনের নীতিগত অবস্থানকে স্বাগত জানায় তেহরান। তিনি বলেন, ইরান-চীন কৌশলগত অংশীদারত্ব পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতা এবং বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থার অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই সম্পর্কের জন্য কারও অনুমতির প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গালিবাফের এই বক্তব্য আসে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ ঘোষণার পর। ২৪ আগস্ট ঘোষিত এই অভিযানে ইরানের তেল বাণিজ্য, পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, সাইবার কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ৬০টির বেশি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত করা এবং দেশটির বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হবে। তবে চীন এই নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন বা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া আরোপিত নিষেধাজ্ঞার তারা বিরোধী।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এসব পদক্ষেপকে “অর্থনৈতিক যুদ্ধ” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এগুলো উত্তেজনা বাড়ায় এবং বৈশ্বিক ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং নিজেদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে বেইজিং।
২০২১ সালে স্বাক্ষরিত ২৫ বছর মেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তির আওতায় চীন ইরানের অন্যতম বড় অর্থনৈতিক অংশীদার ও তেল ক্রেতা। গালিবাফ এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন হুমকিকে “বাগাড়ম্বর” হিসেবে উল্লেখ করে বলেছিলেন, নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ইরানের বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব নয়।


