যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরানি এয়ারলাইনসগুলোর ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করতে যাচ্ছে ইরাক। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ইরাকি সরকারের দুটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর ওপর এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
ইরাকি সরকারের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘মঙ্গলবার ভোর থেকে ইরাক যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইরানি এয়ারলাইনসগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করবে।’ তাঁর সতর্কবার্তা, যেসব দেশ এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে না, তারাও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
আরেক ইরাকি সূত্রও এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এর আগে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানের ওপর চাপ আরও বাড়ানোর অংশ হিসেবে ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর কার্যক্রম বিশ্বজুড়ে সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছে।
সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, ২৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ‘বিশ্বজুড়ে সমস্ত ইরানি এয়ারলাইনস বন্ধ হয়ে যাবে’। তিনি বলেন, এসব বিমান কোথাও অবতরণ করলে তাদের জ্বালানি বা অবতরণ-সংক্রান্ত সেবা দেওয়া যাবে না এবং তাদের টিকিটও বিক্রি করা যাবে না। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দেন তিনি।
ইরানের বিমান পরিবহন খাতের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার ধারাবাহিকতায় নতুন পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে। এর আগে বেসেন্ট তেহরানের ওপর ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ বা নির্ণায়ক অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের হুমকি দিয়েছিলেন।
ইরাকি সিদ্ধান্তের পাশাপাশি ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর ওপর চাপ বাড়িয়েছে আরও কয়েকটি দেশ। সোমবার জর্জিয়া তাদের ভূখণ্ডে ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। অন্যদিকে, তুরস্ক সরকারের অনুরোধে ইরানি বিমান সংস্থা মাহান এয়ার দেশটিতে তাদের সেবা স্থগিত করার কথা জানিয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছিল, তারা ইরানের এমন কয়েকটি বিমান সংস্থার ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যেগুলো এতদিন এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে ছিল। ইরানের বিমান পরিবহন খাতকে সহায়তা করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইরানের বাইরের কোম্পানিও রয়েছে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানের আকাশসীমা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরে কিছু বিমান চলাচল পুনরায় চালু হলেও তা মূলত ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর ফ্লাইটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অংশীদার চীন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৃহস্পতিবারের বৈঠকের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অর্থনৈতিক আলোচনা করতে চীনের ভাইস প্রিমিয়ার হি লিফেংয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের পরদিন বেসেন্ট এসব মন্তব্য করেন।
দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের বিমান চলাচল খাত নতুন বিমান, যন্ত্রাংশ ও রক্ষণাবেক্ষণসেবা সংগ্রহে নানা সীমাবদ্ধতার মুখে রয়েছে।


