যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সামরিক কমান্ড সেন্টকমের কঠোর নিরাপত্তার চাদরে থেকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে একাধিক বিশাল জ্বালানিবাহী জাহাজ।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সামুদ্রিক নৌপথ পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ট্যাংকারট্র্যাকার্স’ জানিয়েছে, ওমান উপসাগরীয় জলসীমায় বর্তমানে তেল ও গ্যাস পরিবাহীদের একটি বড় বহর জড়ো হয়েছে।
মিডেল ইস্ট আইর বরাতে প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, ওইদিন ওমান উপসাগরের নির্দিষ্ট জলসীমায় অন্তত ১৭ দফায় জাহাজ থেকে জাহাজে জ্বালানি স্থানান্তরের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এই জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও তরল গ্যাস এক জলযান থেকে অন্যটিতে সফলভাবে খালাস করা হয়।
ট্যাংকারট্র্যাকার্স আরও জানিয়েছে, এই বড় জ্বালানি হস্তান্তরের পাশাপাশি অন্তত ৭২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল এবং দুটি এলএনজি ট্যাংকারকে প্রস্তুত করা হয়েছে, যা মার্কিন সেন্টকমের সরাসরি সুরক্ষায় হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে ওমান উপসাগরে প্রবেশ করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম প্রধান এই তেল পরিবহন রুটটির বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট অত্যন্ত জটিল। একদিকে মার্কিন বাহিনী ইরানের মূল ভূখণ্ড ও বন্দরগুলোর ওপর নৌচলাচল অবরোধ আঁটসাঁট করে রেখেছে, অন্যদিকে সংবেদনশীল এই জলপথের নৌ নিয়ন্ত্রণ কঠোরহাতে বজায় রেখেছে তেহরান।
নৌ-পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ওমান উপসাগরের নির্ধারিত ট্রান্সফার পয়েন্টগুলোতে জ্বালানিবাহী জাহাজের লাইন দীর্ঘ হওয়ায় এলাকাটি এখন তীব্র জটের মুখে পড়েছে। পণ্য আদান-প্রদানের জন্য উপযুক্ত সঙ্গী বা খালি ট্যাংকারের অপেক্ষায় থাকা তেলবাহী বিশাল জাহাজগুলোর উপস্থিতিতে স্থানটি রীতিমতো জনাকীর্ণ হয়ে উঠেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে জাহাজের এই বিপুল ভিড় সামলানো এবং নিরাপদ উপায়ে জ্বালানি স্থানান্তর প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বন্দর ব্যবস্থাপনা ও লজিস্টিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে এবং সুচারু পেমেন্ট বা ট্রান্সফার নিশ্চিত করতে দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে ট্যাংকারট্র্যাকার্স।


